নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এক দফার আন্দোলনে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। গতকাল শুক্রবার রাতে এক মতবিনিময় সভায় তারা এই পরামর্শ দেন। দলের নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সাথে দুই দফা বৈঠকের পর এবার পেশাজীবী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে দুই দিন মতবিনিময় করছে বিএনপি। টানা দুই দিনের বৈঠকে গতকাল শুক্রবার প্রথম দিনে বিকেল সাড়ে ৩টায় বৈঠক গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শুরু হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যুক্ত হন। এ সময় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ১৪, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর এবং ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর দুই দফায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব, সম্পাদক ও সহ-সম্পাদকমণ্ডলী, নির্বাহী কমিটির সদস্য, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং জেলা সভাপতিদের সাথে পৃথকভাবে ধারাবাহিক মতবিনিময় করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গতকালের মতবিনিময় সভায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ), জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, এগ্রিকালচার অ্যাসোসিয়েশন, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোট, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী ফোরাম, আইনজীবী সমিতি সুপ্রিম কোর্ট, আইনজীবী ফোরাম, ঢাকা জাজ কোর্ট, ঢাকা আইনজীবী সমিতি, এমবিএ অ্যাসোসিয়েশন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, ডিপ্লোমা এগ্রিকালচার অ্যাসোসিয়েশন, নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন, টেক্সটাইল অ্যাসোসিয়েশন, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোট, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, ফিজিওথেরাপিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইউনানি আয়ুর্বেদি ডাক্তার অ্যাসোসিয়েশনসহ ২০টি পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মতবিনিময় সভার শুরুতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত সবারকে উদ্দেশ বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো মামলায় দীর্ঘ দিন ধরে কারাবন্দী। আজকে দেশে গণতন্ত্রের যে সঙ্কট, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এর থেকে উত্তরণে আপনাদের মতামত আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা তাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব লিখিত আকারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে দেন। কয়েকটি সংগঠনের নেতা সভায় বলেন, অবৈধ এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটাতে মৌলিক একমাত্র লক্ষ্য হবেÑ ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন’।
এই লক্ষ্যে কঠিন সঙ্কল্প নিয়ে এক দফা আন্দোলনে নামতে হবে। অর্থাৎ আন্দোলন হবে এক দফার ভিত্তিতে। বাড়তি অন্য কোনো অপশন দেয়া যাবে না। আন্দোলনে একাধিক দাবি থাকলে মূল দাবি দুর্বল হয়ে যায়। নেতাকর্মীদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তখন বিক্ষিপ্ত হয়ে আন্দোলনের মহাস্রোতটি ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে হয়ে এক সময় হারিয়ে যায়। মূল দাবি মানতে বাধ্য করাতে পারলে অন্যান্য দাবি যথাসময়ে পূরণ হতে থাকবে।
তারা বলেন, অতীতের মতো বর্তমানেও গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপিকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।
বিএনপির নেতৃত্ব মেনে নিয়ে এই আন্দোলনের অংশীদার হতে চাইলে ছোট-বড় যেকোনো দলকে জোটে নেয়া যাবে। আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সব সদস্যকেই রাজপথে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ থাকতে হবে। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে আন্দোলনের মাঠে অত্যন্ত সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। কোনো কিছুই বিক্ষিপ্তভাবে করা যাবে না। সব অঙ্গসংগঠনের এবং সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে আলাদা আলাদা সেল তৈরি করতে হবে। আর এই একেকটি সেলের দায়িত্বে থাকবেন একেকজন কেন্দ্রীয় নেতা।
পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, নিতাই রায় চৌধুরী, আহমেদ আযম খান, ফজলুর রহমান, অধ্যাপক ডা: ফরহাদ ডালিম ডোনার, ডা: শফিকুল হায়দার পারভেজ, প্রকৌশলী মাহবুব আলম, তৈমূর আলম খন্দকার, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মাসুদ তালুকদার, অ্যাডভোকেট আবেদ রেজা, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, অধ্যাপক ডা: হারুন আল রশিদ, ডা: মো: আবদুস সালাম, ডা: মো: আবদুস সেলিম, ডা: শহিদুল আলম, ডা: মো: সিরাজুল ইসলাম, ডা: জহিরুল ইসলাম শাকিল, ডা: মো: ফখরুজ্জামান, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, অ্যাডভোকেট আবদুল জব্বার ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, ওমর ফারুক ফারুকী, আজিজুল ইসলাম খান, কৃষিবিদ রাশিদুল হাসান হারুন, কৃষিবিদ জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, কৃষিবিদ আবদুল্লাহ আল ফারুক, অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডি, অ্যাডভোকেট খন্দকার মোহাম্মদ হযরত আলী, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান আনিস, তাসলিমা আক্তার, রমিজ উদ্দিন আহমেদ, প্রকৌশলী ইবনে ফজল সাইফুজ্জামান সেন্টু, প্রকৌশলী মুসলিম উদ্দিন, জাকির হোসেন, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, অধ্যক্ষ আবদুর রহমান, অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিন তরফদার, অধ্যাপক কামরুন নাহার লিজি, জাহানারা সিদ্দিকী, শেখ মনিরউদ্দিন, কামরুল হাসান সর্দার, জিয়াউল হায়দার পলাশ, সৈয়দ জাহিদ হোসাইন, প্রকৌশলী ফখরুল আলম, প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, রোকেয়া চৌধুরী বেবি, পারভিন কাওসার মুন্নী, সুমনা আক্তার স্মৃতি, শাহনাজ আক্তার রফিকুল ইসলাম, এ কে এম মুসা লিটন, মামুনুর রশীদ, কামরুজ্জামান কল্লোল, ডা: মির্জা লিটন, ডা: আমিনুল বারী কাকনসহ মোট ১০২ জন।
মতবিনিময় সভার শুরুতে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স। সভা পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।
সহযোগিতায় ছিলেন তথ্য গবেষণা সম্পাদক রিয়াজুদ্দিন নসু, সহদফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মনির হোসেন, বেলাল আহমেদ ও শায়রুল কবির খান।