আগামীতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করতে বিভেদ নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিতভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করতে হবে। জোটের শরিক দলগুলোর সাথে দূরত্ব কমিয়ে যুগপৎ কর্মসূচি দিতে হবে। গত শুক্রবার ও শনিবার টানা দুই দিন বিএনপির সাথে মতবিনিময়কালে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা এমন পরামর্শ দিয়েছেন। ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দেয়ার পক্ষে-বিপক্ষেও মতামত দেন পেশাজীবীরা। তবে অন্তত ২০টি পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, এই মুহূর্তে জামায়াতকে বাদ দেয়া উচিত হবে না। কারণ তাদের বিরাট ভোট ব্যাংক রয়েছে। বিএনপি এককভাবে নির্বাচনে গেলে আশানুরূপ সুবিধা পাবে না। কেননা জামায়াতের সাথে বিএনপির জোট ভোটকেন্দ্রিক। সেহেতু জামায়াতের সাথে দূরত্ব তৈরির কোনো দরকার আপাতত নেই। পেশাজীবীরা বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে পরামর্শ হিসেবে বলেন, গণতন্ত্রকামী সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করে ক্ষমতাসীন সরকারকে সরাতে হলে যুগপৎ কর্মসূচির বিকল্প নেই।
গত শুক্রবার ও শনিবার ৫০টিরও বেশি পেশাজীবী সংগঠনের প্রায় দুই শতাধিক প্রতিনিধি মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। তন্মধ্যে প্রথম দিন ৩৬ জন এবং শেষ দিন শনিবার ৩৮ জন প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন। কয়েকটি পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব লিখিত আকারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে দেন। সভায় লন্ডন থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ১৪, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর এবং ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর দুই দফায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব, সম্পাদক ও সহ সম্পাদকমণ্ডলী, নির্বাহী কমিটির সদস্য, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং জেলা সভাপতিদের সাথে পৃথকভাবে ধারাবাহিক মতবিনিময় করেছেন তারেক রহমান। এখন পেশাজীবী ও দলীয় নেতাদের মতামত বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে আলোচনার পর কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে। দুই দিনের মতবিনিময় সভায় পেশাজীবী সংগঠনের মধ্যে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ), জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ, জাতীয় প্রেস ক্লাব, ইউট্যাব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, জি-৯, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বিএফইউজে, ডিইউজে, ডিআরইউ, জিয়া পরিষদ, রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, জিয়া পরিষদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া সাদা দল, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিনাজপুর, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী ফোরাম, আইনজীবী সমিতি সুপ্রিম কোর্ট, আইনজীবী ফোরাম, ঢাকা জজ কোর্ট, আইনজীবী সমিতি, এমবিএ অ্যাসোসিয়েশন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, ডিপ্লোমা এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন, টেক্সটাইল অ্যাসোসিয়েশন, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোট, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, ফিজিওথেরাপিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইউনানি আয়ুর্বেদিক ডাক্তার অ্যাসোসিয়েশনসহ ৫০টির বেশি পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
দশটি পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা আলাপকালে বলেন, বেশির ভাগ প্রতিনিধি সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে যুগপৎ আন্দোলনের পক্ষে মতামত দেন। তারা জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে বলেন, এই মুহূর্তে জামায়াত ছাড়া নির্বাচনে গেলে বিএনপি ২০% ভোট পাবে। সুতরাং জামায়াতকে ছেড়ে নয়, তাদেরকে সাথে নিয়েই ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। চিকিৎসকদের কয়েকজন বলেন, অবৈধ এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটাতে একমাত্র লক্ষ্য হবেÑ ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন’। এই দাবিতে কঠিন সঙ্কল্প নিয়ে এক দফা আন্দোলনে নামতে হবে। বাড়তি অন্য কোনো অপশন দেয়া যাবে না। কেননা মূল দাবি মানতে বাধ্য করাতে পারলে অন্যান্য দাবি যথাসময়ে পূরণ হতে থাকবে।
কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বলেন, দেশে যে অপশাসন চলছে, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এ বিষয়ে বিশ্ববিবেককে জাগ্রত করাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ আরো বাড়াতে হবে। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে সক্ষম এমন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে যেকোনো উপায়ে পক্ষভুক্ত করতে হবে। আন্দোলনের সার্থকতা ও প্রাপ্তি নির্ভর করবে ঢাকার পতনের মধ্য দিয়ে। তাই ঢাকার সংগঠনকে শক্তিশালী ও আন্দোলনের সুপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
আইনজীবীদের কয়েকজন বলেন, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে সব পেশাজীবীর নিবিড় এবং কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করাতে, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদকে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করতে হবে। আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ ধারণ করার পূর্ব পর্যন্ত সব পেশাজীবীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নিজ নিজ পেশার ব্যানারে ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন’ এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ফেস্টুন, পোস্টার, পতাকা ইত্যাদি নিয়ে কর্মসূচির আয়োজন করতে হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য জনমত তৈরি করবেন। জনসাধারণ রাস্তায় নেমে আসার পর এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে অবশ্যই রাস্তায়থ অবস্থান করতে হবে।
বিভেদ ভুলে সমন্বিত কর্মসূচির বিকল্প নেই
বিএনপিকে পেশাজীবীদের পরামর্শ
আগামীতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করতে বিভেদ নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিতভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করতে হবে। জোটের শরিক...





