কক্সবাজারের চকরিয়ায় প্রায় এক হাজার একরের চিংড়িঘের দখলে নিতে ৪০-৫০ জনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়েছে। দুর্বৃত্তরা ওই চিংড়িঘেরে অবস্থান নিয়ে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে থেমে থেমে রাতভর ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। চিংড়িঘেরে পাহারায় থাকা মালিকসহ কর্মচারীদের পিটিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে রাতব্যাপী তাণ্ডব চালিয়ে প্রায় কোটি টাকার মাছ লুট করে। পিটুনিতে আহত হয় ২০ জন। গত মঙ্গলবার রাত থেকে ভোর রাত পর্যন্ত এ তাণ্ডব চালায় দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে ওই এলাকায় চরম উত্তজেনা বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে বলে দাবি করছে ক্ষতিগ্রস্তরা।
উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের বুড়িপুকুর গ্রামের বাসিন্দা হাজী তাজর মুল্লুকের ছেলে ও ঘেরমালিক জফুর আহমদ অভিযোগ করে বলেন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বিগত ২০০১ সালে ৬১ নম্বর ক্রমিকের ২৩ নম্বর মামলামূলে পালাকাটা মৌজায় ১০০১.৩৭ একর সরকারি চিংড়ি জমি তারা ইজারা গ্রহণ করেন। সেই থেকে তারা লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগপূর্বক চিংড়ি চাষ করে আসছেন। চলতি বছরও বিগত বছরের মতো চিংড়িসহ রকমারি মাছের চাষ করে। কিন্তু এই চিংড়িঘের ও ঘেরে বড় হওয়া মাছের ওপর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী দুর্বৃত্তগ্রুপের লুলোপ দৃষ্টি পড়ে। অভিযোগকারী জফুর আহমদ আরো বলেন, গত ৩১ অক্টোবর রাতে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি অবৈধ সশস্ত্র দুর্বৃত্তদল জবরদখল করতে ওই চিংড়িঘেরে অতর্কিত হানা দেয় এবং ঘের এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে অর্ধশত রাউন্ড ফাঁকাগুলি বর্ষণ করে। ঘেরে পাহারায় থাকা লোকজনকে পিটিয়ে আহত করে পিছমোড়া বেঁধে রেখে রাতভর মাছ লুট করে ভোরে ঘেরত্যাগ করে দুর্বৃত্তরা। একইভাবে ২ নভেম্বর গভীর রাত ১২টায় দুর্বৃত্তরা আবারো সশস্ত্র হানা দেয়। তারা রাতভর তাণ্ডব চালায় এবং প্রায় কোটি টাকার মাছ লুটে নেয়। তিনি আরো বলেন, দুর্বৃত্তদের মারধরে চিংড়িঘেরে পাহারায় থাকা ২০ জন আহত হয়। আবু তাহের নামে একজন গুরুতর জখম করা হয়েছে। এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসমান গনি জানান, ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৬০ জনের একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।