বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যা মামলার রায়ে তার মা সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেছেন মামলার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্তদেরও ফাঁসির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবো। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি অমিতের ফাঁসির রায় আশা করেছিলাম কেননা অমিত ঘটনাস্থলে না থাকলেও ফোনে এবং সব কিছুতেই তার সম্পৃৃক্ততা ছিল।
গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা ১২ মিনিটে আবরারের মামলার রায় ঘোষণার মুহূর্তে আবরারের মা ছিলেন কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের বাসায়। মামলার রায় শুনতে দুপুর ১২টার দিকে তিনি টিভি রুমে প্রবেশ করেন এ সময় তিনি সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
তিনি বলেন, আজ ফাইয়াজের পরীক্ষা ছিল কেউ ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করেনি কিন্তু আবরার থাকলে ঠিকই ফাইয়াজের পরীক্ষার খবর নিত। তিনি আহাজারি করে বলেন, ওরা আমার সব শেষ করে দিয়েছে। আমি আজ দুই বছর দুই মাস এই মামলার রায়ের অপেক্ষায় ছিলাম।
১২টা ১২ মিনিট টিভির পর্দায় আবরারের রায় ঘোষণা দেখতে পেয়ে তিনি কান্না শুরু করেন, তিনি সাংবাদিকদের জানান, আদালত যে রায় দিয়েছে তাতে আমি এবং আমার পরিবার সন্তুষ্ট। তবে বাকি পাঁচজনকে ফাঁসির আদেশ না দেয়ার বিষয়টি আমরা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। তিনি দ্রুত এই ফাঁসির রায় কার্যকরের পাশাপাশি বাকি পাঁচজনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানান।
আবরারের মা বলেন, আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে আর কেউ এই ধরনের জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত হতে সাহস পাবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ধরনের জঘন্য খুনের ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি হবে না।
এ সময় আবরারের ছোট ভাই ফাইয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা রায়ে খুশি। তবে সবার ফাঁসির আদেশ হলে আমরা আরো খুশি হতাম। আমরা বাকি পাঁচজনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব। এ সময় তাদের পাশে ছিলেন আবরারের কাকা, মামা, চাচী, মামী, খালাতো ভাইসহ বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। এ দিকে ঢাকায় রায় শুনতে আবরারের বাবাসহ বিপুলসংখ্যক আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।