রাজধানীর বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে। তার হিমোগ্লোবিন কমের দিকে রয়েছে। অন্যান্য প্যারামিটারগুলোও অবনতিশীল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে ইতোমধ্যে সারা দেশে মানববন্ধন, বিভাগীয় সমাবেশ, গণ-অনশন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি শেষ করেছে বিএনপি। এবার একই ইস্যুতে দেশের ৩২ জেলায় একযোগে সমাবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। যা আগামী বুধবার (২২ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে। জেলা পর্যায়ের প্রত্যেকটি সমাবেশে দুই থেকে চারজন কেন্দ্রীয় নেতা অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
গত ১৩ নভেম্বর বেগম খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, তিনি লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন আহমেদ তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড তার চিকিৎসায় নিয়োজিত রয়েছেন।
গত মঙ্গলবার যৌথসভা শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে জেলা পর্যায়ে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। আগামী ২২ তারিখ থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে, চলবে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
এই সমাবেশ উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে কয়েকটি টিম গঠন করা হয়েছে। প্রথম দিন ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল, খুলনা বিভাগের যশোর, রংপুর বিভাগের দিনাজপুর, রাজশাহী বিভাগের বগুড়া, সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সমাবেশ হবে। এসব সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা সমন্বয় করবেন। ২২, ২৪ ও ২৬ ডিসেম্বর বিভিন্ন বিভাগের জেলা সদরে প্রতিদিন ছয়টি এবং ২৮ ও ৩০ ডিসেম্বর প্রতিদিন সাতটি করে সমাবেশ হবে।
কোন নেতা কোন সমাবেশে অতিথি থাকবেন? ২২ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আমান উল্লাহ আমান, হবিগঞ্জে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও জয়নাল আবেদীন ফারুক, যশোরে মির্জা আব্বাস ও মশিউর রহমান, বগুড়ায় গয়েশ^র চন্দ্র রায় ও হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, দিনাজপুরে নজরুল ইসলাম খান ও মিজানুর রহমান মিনু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আবুল খায়ের ভূঁইয়া বক্তব্য রাখবেন। ২৪ ডিসেম্বর গাজীপুরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, জয়পুরহাটে গয়েশ^র চন্দ্র রায় ও হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জামালপুরে নজরুল ইসলাম খান ও হাবিব উন নবী খান সোহেল, নোয়াখালীতে আব্দুল্লাহ আল নোমান, বরকত উল্লাহ বুলু, মো: শাহজাহান ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ভোলায় মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও মজিবুর রহমান সরোয়ার, গাইবান্ধায় শামছুজ্জামান দুদু ও হারুন অর রশিদ এমপি বক্তব্য রাখবেন।
২৬ ডিসেম্বর চাঁদপুরের সমাবেশে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও জয়নুল আবেদীন, নরসিংদীতে ড. আব্দুল মঈন খান ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, লালমনিরহাটে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও ডা: ফরহাদ হালিম ডোনার, ঝিনাইদহে নিতাই রায় চৌধুরী ও মশিউর রহমান, পাবনায় শওকত মাহমুদ ও হারুন অর রশিদ এমপি, মুন্সীগঞ্জে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও হাবিব উন নবী খান সোহেল বক্তব্য রাখবেন। ২৮ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জের সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আবদুস সালাম, ফেনীতে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও জয়নুল আবেদীন ফারুক, নওগাঁয় গয়েশ^র চন্দ্র রায় ও মিজানুর রহমান মিনু, সুনামগঞ্জ আব্দুল্লাহ আল নোমান ও অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, নারায়ণগঞ্জে মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও মজিবুর রহমান সরোয়ার, মেহেরপুর অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও হারুন অর রশিদ এমপি, পটুয়াখালীতে এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও মজিবুর রহমান সরোয়ার বক্তব্য রাখবেন। এ ছাড়া ৩০ ডিসেম্বর কক্সবাজারের সমাবেশে নজরুল ইসলাম খান ও মিজানুর রহমান মিনু, কিশোরগঞ্জে মির্জা আব্বাস ও আব্দুস সালাম, ঢাকায় গয়েশ^র চন্দ্র রায় ও আমান উল্লাহ আমান, ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সিরাজগঞ্জে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও মনিরুল হক চৌধুরী, লক্ষ্মীপুরে ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর ও আবুল খায়ের ভূইয়া এবং খাগড়াছড়িতে শামছুজ্জামান দুদু ও জয়নাল আবেদিন।
বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক টিমের সদস্য হিসেবে সমাবেশের সমন্বয় করবেন। সংশ্লিষ্ট জেলার জাতীয় নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ সমাবেশকে সফল করতে জেলা নেতৃবৃন্দকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন। প্রতিটি টিমে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের একজন প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ জানান, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তাকে অবিলম্বে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দিয়েছে মেডিক্যাল বোর্ড।
কিন্তু এই সরকার গণদাবিকে গ্রাহ্য করছে না। আমরা উল্লিখিত দাবিতে সরকারকে চাপ প্রয়োগ এবং জনমত গঠনের লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে সমাবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।