বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে জনমত গড়তে আজ বুধবার দেশের ছয় জেলায় সমাবেশ করবে বিএনপি। এগুলো হচ্ছে- টাঙ্গাইল, হবিগঞ্জ, যশোর, বগুড়া, দিনাজপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া। আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত একই দাবিতে ৩২টি জেলায় সমাবেশ করবে দলটি। এসব সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতারা অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। প্রত্যেক জেলার জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদাধিকারবলে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। দলীয় প্রধানের নিঃশর্ত মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য সমাবেশ হলেও মূলত এসব সমাবেশ থেকে তিনটি বিষয়ে সাফল্য দেখছে বিএনপির হাইকমান্ড। দলের একাধিক নেতার সাথে আলাপকালে এসব জানা গেছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণীপর্যায়ের দুইজন নেতা মনে করেন, খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার দাবিতে সমাবেশ হলেও কয়েকটি কারণে সমাবেশগুলো সময়োপযোগী। তন্মধ্যে মোটা দাগে তিনটি হলো- বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপি ছাড়াও সব শ্রেণিপেশার মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হচ্ছে বিএনপি। কেননা বিএনপির নেতাকর্মীরা শহীদ জিয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ এবং অহিংস কর্মসূচি পালন করছেন। মহামারী করোনার কারণে দীর্ঘদিন মাঠের কর্মসূচি না থাকায় এসব সমাবেশে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বেশ চাঙ্গা। তাদের ভীতি ও জড়তা কাটছে। সেই সাথে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বিদেশীদের কাছে বলে যে, ‘বিএনপির জনসমর্থন নেই’ বলে যে এসব সমাবেশে দাবি করেন মানুষের উপস্থিতি বিদেশীদের সেই ধারণা পাল্টে দিয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি বিএনপির বিভিন্ন সমাবেশের মাধ্যমে তৃণমূলের কোনো কোনো নেতা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন তাদের বিষয়েও খোঁজখবর নিচ্ছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারই ধারাবাহিকতায় বিভাগীয় সমাবেশের পর এবার জেলাভিত্তিক সমাবেশ হচ্ছে। এভাবে একপর্যায়ে থানাভিত্তিক সমাবেশের পরিকল্পনাও রয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশে নেতাকর্মীদের আরো সক্রিয় করে তোলা হবে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত বিদেশে পাঠানোর দাবিতে আমরা অহিংস ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি। এই দাবি শুধু বিএনপির নয়, সারা দেশের মানুষের। বিশে^র বিভিন্ন দেশ ও পার্লামেন্টে দেশনেত্রীর বিদেশে সুচিকিৎসার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। সুতরাং আমরা এই দাবিতে যত শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি আছে তার সবই পালন করব। সারা দেশে সভা-সমাবেশ তারই অংশ। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশ-বিদেশে জনমত তৈরি হচ্ছে।
বিএনপির সহদফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশগুলো সব শ্রেণীর মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়, যা প্রমাণ করে খালেদা জিয়ার মুক্তি শুধু বিএনপির নয়, দেশের সব মানুষের দাবি। এসব সমাবেশের মাধ্যমে জনমত তৈরি হচ্ছে। খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে না দেয়ার কারণে দেশ-বিদেশে তার নাম উচ্চারিত হচ্ছে। তার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে না দেয়ার প্রতিবাদ এবং বিদেশে পাঠানোর দাবি উঠেছে।
প্রসঙ্গ গত ১৩ নভেম্বর বেগম খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, তিনি লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তার নিঃশর্ত মুক্তি এবং বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে গত দুই মাসে মানববন্ধন, গণ-অনশন, জেলা প্রশাসকদের স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি করেছে বিএনপি। এবার একই ইস্যুতে দেশের ৩২ জেলায় সমাবেশ হবে। এসব সমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা সমন্বয় করবেন। আগামী শুক্রবার ছয় জেলা, রোববার ছয় জেলা, মঙ্গলবার সাত জেলা ও বৃহস্পতিবার সাত জেলায় সমাবেশ করবে বিএনপি।
আজ ছয় জেলার সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে টাঙ্গাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান; হবিগঞ্জে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবদিন ফারুক; যশোরে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মশিউর রহমান; বগুড়ায় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^রচন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু; দিনাজপুরে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।





