সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলার তিন আসামির আপিল মামলা নামঞ্জুর করেন বিচারিক আদালতের দেয়া সাজা বহাল রাখার আদেশ দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত। গত রোববার সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান এ আদেশ দেন।
জানা যায়, ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত দ্রুত বিচার আইনের একটি মামলায় ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এক রায়ে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাতক্ষীরার তালা-কলারোয়া আসনের সাবেক এমপি, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জন আসামির সবাইকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়। এর মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত আসামি কলারোয়া উপজেলার সনজু ও মাহফুজুর রহমান এবং কনক পৃথক দুইটি ক্রিমিনাল আপিল মামলা দায়ের করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে। চূড়ান্ত শুনানি শেষে রোববার বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান আপিল মামলা দু’টি না মঞ্জুর করে বিচারিক আদালতের দেয়া সাজা বহাল রাখার আদেশ দেন। ক্রিমিনাল আপিল মামলার অপর আসামি মাহফুজুর রহমান সাজা চলাকালে জেলখানায় মৃত্যু বরণ করেছেন।
রাষ্ট্র পক্ষের মামলা পরিচালনা করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট আবদুল লতিফ ও আসামিপক্ষের মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান পিন্টু।
২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাতক্ষীরায় মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে হাসপাতালে দেখে মাগুরা ফিরে যাওয়ার পথে কলারোয়ায় সন্ত্রাসী হামলা শিকার হন। এতে শেখ হাসিনা অক্ষত থাকলেও তার সফরসঙ্গী ফাতেমা জাহান সাথী, জোবায়দুল হক রাসেল, ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবর রহমান, শহিদুল হক জীবন, আবদুল মতিনসহ অনেকেই আহত হন। এ সময় বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন।
এ ঘটনায় কলারোয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো: মোসলেম উদ্দিন ২৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এ মামলা থানায় রেকর্ড না হওয়ায় তিনি নালিশি আদালত সাতক্ষীরায় মামলাটি করেন। পরে এ মামলা খারিজ হয়ে গেলে ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর ফের মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়। এ সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।