সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের ওপারে ভারতের ঘোজাডাঙ্গায় সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে। ট্রাকপ্রতি ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে কোনো রকম সিরিয়াল ছাড়াই দ্রুত ঘোজাডাঙ্গা থেকে ভোমরায় আনা যায় ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক। আর চাঁদা না দিলে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয় সিরিয়ালের জন্য। চাঁদা দিয়ে সিরিয়াল ছাড়া গত বৃহস্পতিবার ভোমরায় আসা ৯টি ট্রাক থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের বিপরীতে ভারতের ঘোজাডাঙ্গা কাস্টমস শুল্ক স্টেশনের পার্শ্ববর্তী বেসরকারি পার্কিংগুলোতে সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি বন্ধে একযোগে আন্দোলনে নামে ভোমরার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কমিটিসহ বন্দরের ৮টি সংগঠন। তারা কর্মবিরতি, মানববন্ধন, মতবিনিময় ও প্রতিবাদ সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। বিভিন্ন সংগঠনের মতামতের ভিত্তিতে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি বন্ধের জন্য এসব কর্মসূচি নেয়া হয়।
ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক শেখ এজাজ আহমেদ স্বপন বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৩০০ ভারতীয় পণ্যবাহী গাড়ি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ভোমরার বিপরীতে ভারতের ঘোজাডাঙ্গা স্থলবন্দরের বেসরকারি পার্কিং ইয়ার্ডে সিরিয়ালের নামে বিভিন্ন পণ্য বিবেচনায় গাড়িপ্রতি ২৫ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। না দিলে তাদেরকে ৩০ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত বসিয়ে রাখা হয়। এতে আমাদের দেশের আমদানি কারক ব্যবসায়ীরা দারুণভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এর ফলে ভোমরা স্থলবন্দরে রাজস্ব ঘাটতিও দেখা দিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে আমাদের এই বন্দরটি ধ্বংস করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। দীর্ঘ ৮ মাস ধরে আমরা চেষ্টা করেছি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাটি সমাধানের জন্য। কিন্তু সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে এই কর্মসূচি পালন করি আমরা।
এ দিকে ভারতের ঘোজাডাঙ্গায় সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজির ঘটনায় টনক নড়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে। স্বয়ং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের স্থলবন্দর রয়েছে এমন ৭টি জেলার ডিএম ও এসপিদের সাথে বৈঠক করে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেন। ঘোজাডাঙ্গায় সিঅ্যান্ডএফ নেতারা ভোমরার সাথে বৈঠক করে এ ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধে ঐকমত্য পোষণ করে। কিন্তু তারপরও বন্ধ হয়নি চাঁদাবাজি।
ভারতের ঘোজাডাঙ্গায় চাঁদা দিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ভোমরায় আসা ৯টি ভারতীয় ট্রাক চিহ্নিত করা হয়। তাদের কাছ থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। সায়মা এন্টারপ্রাইজ নামক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ভারতে চাঁদা দেয়ার ঘটনা জানা ছিল না উল্লেখ করে জরিমানা দিয়ে ট্রাকগুলো ছাড় করায় বলে নিশ্চিত করেছেন ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী।





