নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে সারা দেশে সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণসহ টানা কর্মসূচি পালন করল বিএনপি। এখন মার্চ মাস চলছে। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস এই মাসেই। ফলে এসময় বিএনপির উদ্যোগে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট উপকমিটির উদ্যোগে একাধিক কর্মসূচি পালন করা হবে। বিশেষত মুক্তিযোদ্ধা-চিকিৎসক সম্মাননা, পেশাজীবী সমাবেশ, স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা ও চিত্রপ্রদর্শনী এবং মহাসমাবেশ করা হবে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আসন্ন রমজানে ও আগের কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। দেশজুড়ে গণ অনশনসহ কয়েক দিনের কর্মসূচি শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে হাটবাজারে হাটসভা, পথসভা ও লিফলেট বিতরণের ১১ দিনের কর্মসূচি শেষ হয়েছে। গত মঙ্গলবার দলের স্থায়ী কমিটির সভায় এসব কর্মসূচি পালনে সন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং আসন্ন রমজান মাসের আগে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জানতে চাইলে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নয়া দিগন্তকে বলেন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দলীয় কর্মসূচি মাত্র শেষ হয়েছে। পরবর্তী কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। যথাসময়ে তা জানানো হবে। জানা গেছে, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন পেশাজীবী সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে আগামী ২৩ মার্চ রাজধানীতে পেশাজীবী সমাবেশ হবে। সেই কর্মসূচি সফলের লক্ষ্যে গতকাল সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রস্তুতি সভা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কমিটির আহ্বায়ক ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সদস্যসচিব প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, অধ্যাপক ডা: আব্দুল কদ্দুসসহ পেশাজীবী নেতারা।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে বিএনপি গঠিত চিকিৎসক উপকমিটির উদ্যোগে আগামী ২৪ মার্চ রাজধানীতে মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসক সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। একই দিনে মুক্তিযুদ্ধের সাজসজ্জা ও চিত্রপ্রদর্শনী উপকমিটির উদ্যোগে চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ২৫ মার্চ স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতাযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য জাতির প্রতি আহ্বানের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য চট্টগ্রামে কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। সেদিন দেশের আর কোথাও কর্মসূচি থাকবে না। এ বিষয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটি চট্টগ্রাম বিভাগের আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ওই কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক লোকসমাগমের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সমাবেশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত থাকবেন।
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত নয়া দিগন্তকে বলেন, ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাটে বিশাল সমাবেশের পরিকল্পনা আছে। সেখান থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার ঘোষণায় আমরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। ওই দিনটিকে স্মরণীয় করতে আমরা এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। ওই সমাবেশ থেকে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ডাক আসবে। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানুক।
অর্থমন্ত্রীর দ্রুত পদত্যাগ দাবি : এ দিকে গত মঙ্গলবার রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভা হয়েছে। সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য যথাক্রমে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সরকারের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল ভুয়া তথ্য প্রদান করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির আবেদন বাতিল হওয়ার বিষয়টি লজ্জাজনক ও কলঙ্কময় বলে অভিহিত করা হয়। সরকারের একজন মন্ত্রীর ভুয়া তথ্য প্রদানকে অপরাধমূলক কাজ বলে গণ্য করা হয়। এই ধরনের দায়িত্বশীল পদে থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটে অন্তর্ভুক্তি প্রচেষ্টার দায়ে সভায় তার পদত্যাগ দাবি করা হয়।
বিএনপির সভায় মুক্তিযোদ্ধা তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি ও ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ভিন্নমত পোষণকারী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে দলীয় ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টার তীব্রভাবে নিন্দা করা হয় এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকা বাতিল করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া গত ৫ মার্চ কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসফের গুলিতে একজন বাংলাদেশী নিহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সভা মনে করে সীমান্তে ভারতীয় রক্ষীবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসলে সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণেই সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না। সভায় সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিক হত্যায় ভারত সরকারের কাছে প্রতিবাদ এবং হত্যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া সভায় আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ধারাবাহিক কর্মসূচি চলবে বিএনপির
মার্চে থাকবে একাধিক সভা-সমাবেশ
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে সারা দেশে সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণসহ টানা কর্মসূচি পালন করল বিএনপি। এখন মার্চ মাস চলছে। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস...





