পবিত্র রমজান মাসজুড়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকবে বিএনপি। সেই সাথে মাঠের বড় কোনো কর্মসূচি না থাকলেও ঘরোয়া কর্মসূচি পালন করবে দলটি। মূল ফোকাস থাকবে ইফতার আয়োজনে। অন্য বছরের ন্যায় এ বছরও দেশের রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী, বিদেশী কূটনীতিকসহ জোটের শরিকদের সাথে ইফতার মাহফিল করবে দলটি। কেন্দ্রীয় নেতারা যাবেন মাঠপর্যায়ে। ইফতার মাহফিলে নেতাকর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের লোকজনের সাথে সম্পর্কোন্নয়নে কাজ করবে বিএনপি। একই সাথে ‘সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্য’ গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কাজ করবেন বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতারা। নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গঠনই এখন বিএনপির অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। এ বিষয়ে ভেবেচিন্তে এগোচ্ছে দলের হাইকমান্ড। জোট ও জোটের বাইরের সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ মতামত এবং দাবির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করে আন্দোলন ও নির্র্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের রূপরেখা চূড়ান্ত করবে বিএনপি। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ২০ দলীয় জোটের শরিক এবং সমমনা বহু বাম রাজনৈতিক দলের সাথে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রমজান পরবর্তী সময়ে দল পুনর্গঠনপ্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু করতে রমজানকে সাংগঠনিক মাস হিসেবে কাজে লাগাবে বিএনপি। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সর্বস্তরে রমজান মাসে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে মামলা-হামলায় অনেকটা বিপর্যস্ত বিএনপি ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় খুঁজছে। ইতোমধ্যে দলকে আরো শক্তিশালী করতে তৃণমূলে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতা নির্বাচন করা হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও, বগুড়া সদর ও পৌর শাখা, সিলেট জেলাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। দায়িত্বশীল নেতারা বলেছেন, রমজান মাসে যেহেতু রাজনৈতিক টানাপড়েন থাকে না, এ কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙা ভাব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। কারাবন্দি নেতাদের জামিনে মুক্ত করে আনতেও থাকবে আইনি প্রচেষ্টা। বিএনপি আশা করছে, রমজানে বহু নেতার মুক্তি মিলবে। জানা গেছে, ইফতার মাহফিলের বাইরেও কিছু সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাবে বিএনপি। এর মধ্যে বিগত আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের তালিকা ধরে তাদের পরিবারের খোঁজ নেয়া হবে। কিছু পরিবারের কাছে দলের পক্ষ থেকে উপহারসামগ্রীও পাঠানো হবে। এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, শ্রমিক দলসহ মেয়াদোত্তীর্ণ অঙ্গসংগঠনের কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটি পুনর্গঠনের ঘোষণা দেয়া হতে পারে রমজান মাসে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বছর পবিত্র রমজানে বেশ কয়েকটি ইফতার ও দোয়া মাহফিল করবে বিএনপি। আজ পয়লা রমজানে এতিম ও আলেমদের সম্মানে বিএনপির ইফতার ও দোয়া মাহফিল হবে রাজধানীর লেডিস ক্লাবে। ১২ এপ্রিল কূটনীতিকদের সম্মানে হোটেল ওয়েস্টিনে, ২০ এপ্রিল রাজনীতিবিদদের সম্মানে হোটেল লেকশোরে এবং ২৮ এপ্রিল পেশাজীবীদের সম্মানে লেডিস ক্লাবে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে বিএনপি। এর বাইরে ৯ এপ্রিল অঙ্গ সংগঠন কৃষকদলের, ২২ এপ্রিল জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন, ২৩ এপ্রিল ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে ইফতার মাহফিল হবে। বেশির ভাগ ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়া ২০ দলীয় জোটের বিভিন্ন শরিক দলের উদ্যোগেও বেশ কিছু ইফতার হবে। তন্মধ্যে ৬ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা-লুৎফর), ১৬ এপ্রিল জাতীয় পার্টির (জাফর) এবং ৮ এপ্রিল ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) উদ্যোগে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ জানান, রমজান ইবাদতের মাস। এ মাসের কারণেই সব রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে যেতে হবে। রমজান মাস ঘিরে একটি কর্মপরিকল্পনা দলের রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে দলীয় এবং জোটের বৈঠক করা সম্ভব না হওয়ায় ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে নেতাদের সাথে মতবিনিময় করা হবে। শরিক দলগুলোর ইফতারে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশাপাশি তৃণমূলে বিএনপিকে চাঙ্গা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে দেশের প্রায় প্রতিটি ইউনিটে ইফতার মাহফিল করতে বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ইফতারে অংশ নিতে কেন্দ্রীয় নেতারা নিজ জেলায় যাবেন। খোঁজখবর নেবেন নেতাকর্মীদের।