যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে দেশের সবচেয়ে বৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত এ জামাতে প্রায় ৬ লাখ মুসল্লি অংশ নেয় বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। জামাতে ইমামতি করেন দিনাজপুরের জেনারেল হাসপাতাল জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা শামসুল হক কাসেমী। করোনাভাইরাসের কারণে গত ২ বছর এখানে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়নি। এ বছর করোনার প্রভাব নিয়ন্ত্রণে থাকায় ঐতিহাসিক এ ঈদের জামাতে অংশ নিতে সদর উপজেলা ছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের জেলার মুসল্লিরা ছুটে আসেন। বৃহৎ এ ঈদ জামাতকে ঘিরে ঈদগাহ মাঠজুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি ছিল কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি। মাঠের আশপাশে র্যাব, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য সদস্যরাও ছিলেন তৎপর। নামাজে অংশ নেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এনায়েতুর রহিম, জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকী, দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজুল ইমাম চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো: আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
প্রসঙ্গত, একসঙ্গে এত লোক নামাজ আদায় করার মতো ঈদগাহ মাঠ উপমহাদেশে আর একটিও নেই। এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে। ঈদগাহটি তৈরি করা হয়েছে মোগল স্থাপত্যরীতির অনুসরণে। মেহরাবের উচ্চতা ৫৫ ফুট। ৫২ গম্বুজ বিশিষ্ট এই ঈদগাহে রয়েছে দুটি মিনার, প্রতিটির উচ্চতা ৬০ ফুট। মধ্যের গেট দুটি ৪৭ ফুট করে চওড়া। এতে খিলান আছে ৩২টি। জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিমের পরিকল্পনায় ঈদগাহটি নির্মাণ করা হয়েছে। ঈদগাহ মিনারের মূল অংশ তৈরিতে খরচ হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ৫২টি গম্বুজ ২০ ফুট উচ্চতায় স্থাপন করা হয়েছে। গেট দুটির উচ্চতা ৩০ ফুট। দেশের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ ময়দানের পশ্চিম দিকের প্রায় অর্ধেক জায়গাজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই ঈদগাহ মিনারটি। দৃষ্টিনন্দন হিসেবে উপস্থাপন করতে প্রতিটি গম্বুজে আছে বৈদ্যুতিক সংযোগ। সন্ধ্যার পর থেকেই মিনারে আলো ঝলমল করে ওঠে। এছাড়া ৫১৬ ফিট লম্বা ৩২টি আর্চ নির্মাণ করা হয়েছে। ঈদের নামাজের আগে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এনায়েতুর রহিম, জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকী, দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এবং পুলিশ সুপার মো: আনোয়ার হোসেন।