মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ দুই বছর স্বাভাবিকভাবে কোনো উৎসব পালন করতে পারেনি মানুষ। সম্প্রতি বাংলাদেশে করোনার প্রকোপ কম হওয়ায় এবারের ঈদুল ফিতরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে মানুষ। যারা জীবিকার তাগিদে গ্রাম ছেড়ে রাজধানীতে থাকেন তাদের বেশির ভাগই এবার নিজ এলাকায় গিয়ে পরিবার ও স্বজনদের সাথে ঈদের নামাজ আদায় এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন। তবে রাজনীতিবিদরা সশরীরে এবং ভার্চুয়ালি নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে ঈদপুনর্মিলন ও সংবর্ধনার আয়োজন করছেন। তারা আগামী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মানুষকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ঈদুল ফিতরের পর বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজ নেয়ার পাশাপাশি ঈদপুনর্মিলন, ধর্মীয় ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন তারা জানান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, যে নামেই হোক এখন যত অনুষ্ঠান হচ্ছে তার সবই নির্বাচনমুখী। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতি নিবে এটা স্বাভাবিক। ঈদপুনর্মিলন তারই অংশ।
জানা যায়, নেত্রকোনা-২ আসনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যাপক ডা: আনোয়ারুল হক। পাশাপাশি অসুস্থ নেতাকর্মীদেরও খোঁজ নেন তিনি। এখন জেলা কাউন্সিলের প্রস্তুতির জন্য ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বিএনপির এই নেতা। নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাবো) আসনে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি আব্দুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল। মনোহরদীর গোতাশিয়া ইউনিয়নের চুলাগ্রামে নিজ বাড়িতে হাজারো মানুষকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। এ সময় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে নানাভাবে নেতাকর্মীদের খোঁজ নিচ্ছেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম আমিরুল মোমিন (বাবলু)। তিনি বলেন, অতীতে যারাই হাতিয়া থেকে বিএনপির এমপি হয়েছেন বেশির ভাগই নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের খোঁজ নেননি। এলাকার উন্নয়নেও তেমন কাজ করেননি। আমি ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলাম। ১/১১-এর পরবর্তী দলের সঙ্কট মুহূর্তে আমার বাড়িটি দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে উপজেলা বিএনপির সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় দীর্ঘ সাত বছর। অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলা-মামলাসহ সবধরনের সমস্যায় অদ্যাবধি তাদের পাশে আছি। ২০০২ সালে নিজ উদ্যোগে হাতিয়া কমিউনিটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি। আমার পরিবারেই সব মিলিয়ে দুই শতাধিক গ্র্যাজুয়েট রয়েছেন। সুতরাং বিএনপি থেকে আমার নেয়ার কিছু নেই। আমি দল ও এলাকাবাসীর জন্য কিছু করতে চাই। আশা করি বিএনপির হাইকমান্ড এসব ইতিবাচকভাবে বিবেচনায় নিবেন। ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে বিএনপি নেতা মো: মামুন বিন আব্দুল মান্নান তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে রমজানে দেখা করে খোঁজ নিয়েছেন। এখনো ভার্চুয়ালি ঈদ পুনর্মিলন করছেন তিনি।
এছাড়াও নেত্রকোনা-৩ আসনের জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও একাদশ নির্বাচনের প্রার্থী ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী, কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো: শরীফুল আলম, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, পটুয়াখালী-৪ আসনে এ বি এম মোশাররফ হোসেন, নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে সাবেক মন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের সহধর্মিণী কামরুন্নাহার শিরিন ও বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, পটুয়াখালী-২ আসনে দলের সহ-দফতর সম্পাদক মো: মুনির হোসেন, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক ও একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী মো: আমিরুল ইসলাম খান আলিম, ঢাকা-১৬ (পল্লবী-রূপনগর) আসনে ঢাকা উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মো: আমিনুল হক, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো: গোলাম সারোয়ার, ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, টাঙ্গাইল-২ আসনে যুবদলের সেক্রেটারি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, টাঙ্গাইল-৩ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মো: মাইনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে জেলা বিএনপির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান চৌধুরী পাপ্পু, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা: মো: মাইনুল হাসান সাদিক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ড. মিজানুর রহমান মাসুম, বাগেরহাট-২ আসনে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী এম এ সালাম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে ডা: ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী (লাকী) প্রমুখ ঈদ পুনর্মিলন করছেন।
এদিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় মজিবুর রহমানকে তার নিজ এলাকা পটুয়াখালীর দুমকিতে সংবর্ধনা দিয়েছে স্থানীয় ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা। এসব সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী মজিবুর রহমানকে নিয়ে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে তাকে অভিনন্দন জানান। পরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর তিনি এলাকায় ঈদের নামাজ আদায়ের পর এলাকাবাসীর সাথে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করছেন।
বিশ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে গণসংযোগ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও ঈদ পুনর্মিলন করেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদ। তিনি বলেন, তার নির্বাচনী এলাকার একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের প্রায় সব নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেছেন। ঢাকায় ঈদের নামাজ আদায় শেষে তিনি এলাকায় যান। সোমবার পর্যন্ত মোট সাত দিন সেখানে গণসংযোগ করবেন রেদোয়ান আহমেদ। লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে ঈদের দিন বিকেল থেকে শনিবার পর্যন্ত পাঁচ দিন গণসংযোগ ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) একাংশের মহাসচিব ও একাদশ নির্বাচনের প্রার্থী শাহাদাৎ হোসেন সেলিম। তিনি তার নির্বাচনী এলাকার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় নিয়মিত যাতায়াত ও দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের সাথে গণসংযোগ করেন। জানাজা, কুলখানিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। সেলিম জানান, সাধারণ মানুষ মনে করেন তারা এখন পরির্বতনের দ্বারপ্রান্তে। মানুষ গণসংযোগে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিচ্ছেন। তারা দেশের বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন ও খালেদা জিয়ার অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি চায়।
এছাড়াও নড়াইল-২ আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, কুষ্টিয়া-২ আসনে জাতীয় পার্টির (জাফর) আহসান হাবিব লিঙ্কন, পিরোজপুর-১ আসনে একাদশ নির্বাচনের প্রার্থী ও মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদী, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম প্রমুখ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে।
বিএনপি ও জোট নেতাদের নির্বাচনী তৎপরতা
মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ দুই বছর স্বাভাবিকভাবে কোনো উৎসব পালন করতে পারেনি মানুষ। সম্প্রতি বাংলাদেশে করোনার প্রকোপ কম হওয়ায় এবারের ঈদুল ফিতরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে...





