ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মেঘনা নদীর ভাঙন দেখা গেছে। নদীভাঙনের কবলে পড়ে চাতালমিলসহ শতাধিক বসতঘর বিলীন হয়ে গেছে নদীতে। নদী ভাঙন প্রতিরোধে কোনো বেড়িবাঁধ না থাকায় হুমকির মুখে রয়েছে পানিশ্বর ইউনিয়নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ এখানকার চার গ্রাম। প্রবল স্রোত আর অতিরিক্ত পানির তোড়ে একের পর এক নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতঘরসহ এখানকার চাতালকলগুলো। নদীভাঙনের কবলে বাস্তুহারা লোকজনের মাঝে বিরাজ করছে কেবল হতাশা। সর্বস্ব হারিয়ে এখন তারা দিশেহারা।
সরজমিনে নদীভাঙন এলাকা ঘুরে ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, মেঘনা নদীর তীরবর্তী পানিশ্বর ইউনিয়নের ১৭টি চাতালমিলসহ পালপাড়া, শাখাইতি, দেওবাড়িয়া ও লায়েরহাটি গ্রামের শতাধিক বসতবাড়ি ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে বসতবাড়ি ছাড়া হয়ে পরিবার নিয়ে অন্যত্র চলে গেছে কয়েক শত পরিবার ও বেকার হয়ে গেছে চাতাল মিলের শ্রমিকরা। মেঘনার তীরের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় আরো শতাধিক পরিবার ও চাতালমিল ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে।
অন্যান্য বছরের মতো চলতি বছরে বর্ষার শুরুতেই নদীর স্রোত বেড়ে যাওয়ায় এখানে তীব্র নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এখানকার বাসিন্দারা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তফা মিয়া বলেন, কয়েক বছরে নদীর তীরবর্তী ১৭টি চাতালমিলসহ পালপাড়া, শাখাইতি, দেওবাড়িয়া, লায়েরহাটি গ্রামের অনেক বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদীভাঙন রোধ করতে না পারলে অচিরেই পানিশ্বর উচ্চবিদ্যালয়, বাজার ও কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ চারটি গ্রাম পুরোপুরি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। নদীভাঙন ঠেকানোর জন্য নদীর মাঝামাঝিতে খনন করা এবং নদীর তীর রক্ষার জন্য স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে পানিশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ বছর বর্ষার শুরুতেই লায়েরহাটির আটটি পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণভাবে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সহযোগিতা ও নদীভাঙন থেকে এলাকা রক্ষা করার জন্য সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আবেদন করেছি।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, পুরো জেলায় নদীভাঙন রোধে একটি সমীক্ষা চলছে। পানিশ্বর এলাকায় কিছু করার চেষ্টা করছি।
সরাইলে মেঘনায় ৩ কিমি. ভাঙন
শতাধিক বসতঘর নদীতে বিলীন, হুমকির মুখে ৪ গ্রাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মেঘনা নদীর ভাঙন দেখা গেছে। নদীভাঙনের কবলে পড়ে চাতালমিলসহ শতাধিক বসতঘর বিলীন হয়ে গেছে নদীতে। নদী ভাঙন প্রতিরোধে কোনো বেড়িবাঁধ...





