টাঙ্গাইলে নির্মাণাধীন সাড়ে তিন কোটি টাকার সেতু দেবে যাওয়ার ঘটনায় পরস্পরের প্রতি দোষারোপ করে দায় এড়ানোর চেষ্টা চলছে ঠিকাদার, টাঙ্গাইল পৌরসভা ও এলজিইডির মধ্যে। এদিকে এ ঘটনার তিন দিনেও কোনো তদন্ত কমিটি গঠিত না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনগণ।
ঠিকাদার বলছেন, ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইনের কারণে সেতুটি দেবে গেছে। ডিজাইনের বাইরে লম্বায় সেতুর দৈর্ঘ্য ১২ মিটার বাড়ানো হয়েছে। অথচ বর্ধিত অংশের জন্য কোনো সাপোর্ট রাখা হয়নি। ফলে সেতুটি দেবে যায়। টাঙ্গাইল পৌরসভা বলছে, বিষয়টি প্রকল্প পরিচালককে অবগত করা হয়েছে। এ ছাড়া তদন্ত কমিটি গঠন করে এর মূল রহস্য উদঘাটন করা হবে। স্থানীয় জনগণ অভিযোগ করছেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে সেতুর নির্মাণকাজ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল শহরের প্যাড়াডাইসপাড়া-বেড়াডোমা এলাকায় নির্মাণকাজ শেষ না হতেই দেবে গেছে সাড়ে তিন কোটি টাকার একটি সেতু। ৪২ মিটার দৈর্ঘ্যরে এই সেতুটির ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে এই সেতুটির মাঝখানে হঠাৎ দেবে যায়। ফলে এই রুটে চলাচলকারী অসংখ্য মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়ে গেল।
গত শনিবার সরেজমিন জানা যায়, এলজিইডির অর্থায়নে এই সেতুটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছিল টাঙ্গাইল পৌরসভা। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় তিন কোটি ৬০ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ টাকা। ৪২ মিটার দৈর্ঘ্য আর আট মিটার প্রস্থের এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছর ১১ মে। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। ঠিকাদারদের গাফিলতিতে সেতুটি দেবে গেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয়রা জানান, নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এমনিতেই সেতুটির নির্মাণকাজ যথাসময়ে শেষ হয়নি। তার ওপর আবার সেতুটি দেবে যাওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ল এর ভবিষ্যৎ। এই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলকারী মানুষের দুর্ভোগ যে কবে শেষ হবে তা এখন বলা মুশকিল। বর্তমানে পাশের একটি বেইলি ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছেন টাঙ্গাইলের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ। মূলত সেতু নির্মাণের কাজ পায় ‘ব্রিকস অ্যান্ড ব্রিজেজ এ- দি নির্মিতি জেভি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু আওয়ামী লীগের একটি প্রভাবশালী মহলের কল্যাণে সেতু নির্মাণের কাজ করছেন স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার।
আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ঠিকাদার নয়া দিগন্তকে বলেন, সেতুর দৈর্ঘ্য হওয়ার কথা ছিল ৩০ মিটার। পরে উভয় পাশে ছয় মিটার করে মোট ১২ মিটার বাড়ানো হয়। কিন্তু দৈর্ঘ্য বাড়ানো হলেও নিচে কোনো সাপোর্ট দেয়া হয়নি। ৪২ মিটার সেতুর নিচে কোনো পিলারও রাখা হয়নি। গত ১৬ মে সেতুর ওপর আরসিসি ঢালাই দেয়া হয়। পিলার ছাড়া এত লম্বা ভিম পুরো সেতুর লোড নিতে পারেনি। ফলে সেতুটি দেবে যায়।
আরেক ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম খান জামিল নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা কাজে কোনো গাফিলতি করিনি। মূলত ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইনের কারণেই সেতুটি দেবে গেছে। আর তিন মাস সময় পেলেই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যেত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা পরিদর্শন করে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন।
টাঙ্গাইল পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ আজমী জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তারা এসে পরিদর্শন করে যে সিদ্ধান্ত দিবেন সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। এছাড়া একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এর মূল রহস্য উদঘাটন করা হবে বলে জানান তিনি।