কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা বন কর্মকর্তার নির্মম প্রহারের শিকার হয়ে রশিদ আহমদ (৭০) নামের এক কৃষক মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছে নিহতের পরিবার। বনবিটের জন্য দেয়া ৬ হাজার ৫০০ টাকা চাঁদার ভাগ না দেয়ায় এবং দাবিকৃত ১৫ হাজার টাকার মধ্যে অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ না করায় এ নির্মম ঘটনা সংঘটিত হয় বলে দাবি করেন নিহতের স্বজনরা।
২৮ জুন সকালে সংঘটিত এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আনিছুর রহমান বাদি হয়ে ৩০ জুন বিকেলে থানায় এই এজাহারটি করেন।
এতে আসামি করা হয়েছে, কাকারা বিট কর্মকর্তা কামরুল হাসান (৪৫), ফরেস্ট গার্ড মাজাহারুল ইসলাম (৪২), অফিস পাহারাদার মো: সেলিমকে (৩৬)।
এজাহারে বলা হয়, উপজেলার সুরাজপুর মানিকপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মানিকপুর ফাইতং ব্রিজের উত্তর-পশ্চিম পাশে নিহত রশিদ আহদের (৭০) মালিকানাধীন বি.এস খতিয়ানভুক্ত নাল জমির মাথাখিলা কিছু খাস দখলীয় জমি রয়েছে। গত প্রায় ৩০ বছর যাবৎ ভোগ দখলেও রয়েছেন তিনি। নিহত রশিদ আহমদ গত ২২ জুন জমিতে একটি গোয়ালঘর নির্মাণ শুরু করলে অভিযুক্ত কাকারা বনবিট কর্মকর্তা কামরুল হাসান তার সহযোগীদের নিয়ে ওই দিন বিকেল আনুমানিক ৪টায় ঘর নির্মাণে বাধা প্রদানসহ ঘরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন।
নিহতের ছেলে আনিছ আরো জানান, পরে বিট কর্মকর্তা ও সহযোগীরা তার পিতা রশিদ আহমদের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন। রশিদ আহমদ নিরুপায় হয়ে ওই বনবিটের সহকারী সেলিমের মাধ্যমে বনবিটের জন্য ৬,৫০০ টাকা চাঁদা দেন। কিন্তু অভিযুক্ত বিটকর্মকর্তা ওই টাকার ভাগ না পাওয়ায় গত ২৬ জুন বিকেল ৪টায় স্থানীয় তিন-চারজন লোক সাথে নিয়ে পুনরায় রশিদের খামার ঘরে গিয়ে অশ্লীল গালাগাল ও মারমুখী কথা বলে কারা বনবিট অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে চলে আসেন। পরের দিন ২৮ জুন সকাল আনুমানিক ৮টায় রশিদ আহমদ যথারীতি বনবিট অফিসে যান। ওই সময় বিট কর্তা কামরুল হাসান রশিদ আহমদকে দেখেই ক্ষুব্ধ হয়ে রুমে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তার মাথায়, বুকে, মুখে, কপালে, উভয় হাঁটুসহ পুরো শরীরে জখম করেন।
এ দিকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি অস্বীকার করে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের চকরিয়া উপজেলার কাকারা বনবিট কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, স্থানীয়দের সহায়তায় রশিদ আহমদের লাশটি উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করায় সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পরে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনার পর ৩০জুন বিকেলে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার জমা দেয়া হয়েছে। যেহেতু বনবিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ হবে।





