ঈদ শেষে ফিরছে মানুষ। ফিরতেও সেই একই ঝক্কি ঝামেলা। যানবাহনের বাড়তি ভাড়া, টিকিটের সঙ্কট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও যানবাহন না পাওয়া- অনেক ভোগান্তি। এই ভোগান্তি সহ্য করেও মানুষকে ঠিকই ফিরতে হচ্ছে কর্মস্থলে।
রাজধানীর পথঘাট এখনো অনেকটা ফাঁকা। মার্কেট-বিপণি বিতান কিংবা পাড়া-মহল্লার অনেক দোকানপাটও এখনো খোলেনি। এমনকি কোনো কোনো এলাকায় এখন পর্যন্ত সবজিও পাওয়া যাচ্ছে না। মানুষ ফিরছে, আর ওগুলোও জমে উঠছে আস্তে আস্তে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, রাজধানী জমে উঠতে আরো হয়তো সপ্তাহখানেক লেগে যাবে।
এবারের ঈদ যাত্রায় ভোগান্তির কমতি ছিল না। সরকারের বিভিন্ন দফতর থেকে স্বাচ্ছন্দ্য ঈদযাত্রার কথা বলা হলেও অনেক মানুষের ঈদের আনন্দই মাটি হয়ে গেছে পথে পথে। ট্রেন, লঞ্চ ও বাসের কোনো শিডিউল ছিল না। অসংখ্য মানুষ তাদের এই নির্মম ভোগান্তির কথা বলেছেন। পথে পথে এসব মানুষ অসহনীয় কষ্ট করেছেন। অনেকটা জোর করেই তাদের অর্থ কেড়ে নিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা।
ওই একই যন্ত্রণা নিয়ে মানুষ এখন কর্মস্থলে ফিরছেন। গত কয়েক দিন ধরেই কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছে মানুষ। এ কারণে লঞ্চ টার্মিনাল, বাসস্টেশন এবং কমলাপুর রেলস্টেশনে ভিড় লেগেই আছে। এসব ফিরতি মানুষের অনেকেই বলেছেন তাদের দুর্ভোগের কথা। পথে পথে নাজেহাল আর হয়রানির কথা। তারা বলেছেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় চলছে সর্বত্র। ঈদের আগে নিয়েছে বকশিশের কথা বলে। আর এখন নিচ্ছে পরিবহন সঙ্কটের কথা বলে। ঝালকাঠীর রাজাপুর থেকে সায়েদাবাদের গাড়ি ভাড়া আগে ছিল সাড়ে ৫০০ টাকা। এখন রাখা হচ্ছে ৭০০ টাকা। তা-ও সহজে মিলছে না। মানুষ কর্মস্থলে যোগ দেয়ার তাগিদে উচ্চমূল্যে টিকিট সংগ্রহ করছে। এমনকি লোকাল পরিবহনেও গলা কেটে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন এলাকার মানুষ অভিযোগ করেছেন। বাসা থেকে বের হয়ে স্টেশনে গাড়ির কাছে যাবেন সেখানেও অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে রিকশা আর অটোরিকশায়।
লঞ্চেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের খবর মিলেছে। ২৫০ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা। একাধিক যাত্রী জানিয়েছেন, তাদের ওপর জুলুম করা হচ্ছে। কিন্তু প্রতিকারের কোনো উপায় নেই।
এদিকে, সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ছে শহরে ফিরে। গতকাল কাজল নামের এক যাত্রী বলেন, তিনি সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকার গাবতলী নেমে সকালে কোনো যানবাহনই পাচ্ছিলেন না বাসায় যাওয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত কলাবাগান পর্যন্ত একটি সিএনজি অটোরিকশা পেয়েছেন ৬০০ টাকা ভাড়ায়। কবির নামের এক যাত্রী জানান, তিনি সদরঘাটে নামেন রাত তখন সাড়ে ৩টা। লঞ্চ ঘাটে নোঙর করার পরই মাইকে ঘোষণা আসে লঞ্চ থেকে নেমে যেতে হবে। বাধ্য হয়ে ওই রাতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে টার্মিনালে নামেন। টার্মিনালের সামনে তখন শত শত যানবাহন। কিন্তু কয়েকগুণ ভাড়া দাবি করে তারা। সদরঘাট থেকে ডেমরার কোনাপাড়ার ভাড়া ৩০০ টাকা হওয়ার কথা না। কিন্তু ভাড়া চায় ৮০০ টাকা। শেষ পর্যন্ত ৭০০ টাকায় সদরঘাট থেকে কোনাপাড়ায় যেতে বাধ্য হন তিনি। কবির বলেন, ওই রাতে হাজার হাজার মানুষকে তিনি সদরঘাটে অপেক্ষা করতে দেখেছেন গাড়ির জন্য। মানুষ লাইন দিয়ে হাঁটছেন একটি গাড়ির জন্য। কিন্তু হেঁটে যতই সামনে যাচ্ছেন, চালকদের ভাড়ার চাহিদা যেনো আরো বাড়ছে।





