ভেঙে দেয়া হচ্ছে বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি। নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলমান। যেকোনো সময় নতুন কমিটির ঘোষণা আসতে পারে। এ দিকে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে আজ মঙ্গলবার বিকেলে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে স্কাইপি বৈঠকে মতামত শুনবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সবকিছু ঠিক থাকলে ১০ আগস্টের মধ্যেই নতুন কমিটি দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ পদে আসার জন্য পদপ্রত্যাশী অনেক নেতা লবিং-তদবিরও করছেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই তৃণমূল থেকে সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করতে উদ্যোগ নেয় বিএনপির হাইকমান্ড। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দলের বিভিন্ত অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো ঢেলে সাজানোর কার্যক্রম শুরু হয়। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদলের মতো সারা দেশে স্বেচ্ছাসেবক দলের ইউনিয়ন, থানা কমিটি গঠন শেষ করা হয়েছে। অনেক জেলা কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়েছে। এবার ছয় বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ত্যাগী, যোগ্য আর অভিজ্ঞদের দিয়ে এ কমিটি গঠন করা হবে বলে দলটির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ঈদের পরপরই স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি পুনর্গঠনের পরিকল্পনা থাকলেও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরব থাকায় তা সম্ভব হয়নি। তিনি গতকাল সোমবার রাতে দেশে ফিরেছেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটিতে সংগঠনের ভেতর থেকেই নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি উঠলেও এবার সাবেক ছাত্রনেতা এবং ঢাকা মহানগরীর নেতাদের মধ্য থেকেও নেতৃত্বে আসতে পারেন। তবে কেন্দ্রীয় কমিটিতেও সাবেক ছাত্রনেতাদের অনেকে রয়েছেন প্রতিযোগিতায়। অবশ্য সংগঠনের শীর্ষ পদে কাউকে পুনরায় পদ না দিতে বিএনপির হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর মরহুম শফিউল বারী বাবুকে সভাপতি ও আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের পাঁচ সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। প্রায় পাঁচ বছর পর ২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ১৪৯ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০২০ সালের ২৮ জুলাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে সংগঠনের সভাপতি শফিউল বারী বাবু মৃত্যুবরণ করেন। পরে সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর ২০২২ সালের ২০ এপ্রিল স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩৫২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয় এবং মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারমুক্ত করে সভাপতি করা হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে একজন সভাপতি, ২৯ জন সহসভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, ২১ জন যুগ্ম সম্পাদক, ৩৪ জন সহসাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, ৬৩ জন সহসাংগঠনিক সম্পাদক, ১০২ জন সদস্যসহ বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে নাম ঘোষণা করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের মতামত নেয়ার জন্য আজ মঙ্গলবার বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। এ জন্য সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সুপার সিক্স বাদ দিয়ে ৮২ জন নেতার বক্তব্য শোনা হবে। এর মধ্যে সহসভাপতি ২৯ জন, যুগ্ম সম্পাদক ২০ জন, সহসাধারণ সম্পাদক ৩০ জন রয়েছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পৃথকভাবে কেন্দ্রীয় নেতাদের মতামত শুনবেন। এরপরই তিনিই সময়মতো নতুন কমিটির ঘোষণা দেবেন।
এর আগে ছাত্রদল, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাদের মতামত শুনেন তারেক রহমান। পরে সবার মতামত এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পরামর্শমতো তিনি এসব সংগঠনের নতুন কমিটি ঘোষণা করেছেন। এবারো ঠিক একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করছেন তিনি।
স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন- সংগঠনের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, সিনিয়র সহসভাপতি গোলাম সারোয়ার, সহসভাপতি আনু মোহাম্মদ শামীম, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী, সহদফতর সম্পাদক নাজমুল হাসান, সহসাধারণ সম্পাদক সর্দার মো: নূরুজ্জামান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এস এম জিলানী। এর বাইরে ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব আলোচনায় আছেন।





