নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেনকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একটি অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাবিনা ইয়াসমিনের আদালত গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো: সালাহউদ্দিন সুইট জানান, ২০১৪ সালের ১৫ মে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় নূর হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশী রিভলবার, আট রাউন্ড গুলি ও আটটি সর্টগানের গুলি উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় নূর হোসেনকে আসামি করে অস্ত্র আইনে আলাদা অভিযোগে মামলা দায়ের করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ।
সেই মামলায় পুলিশ তদন্ত শেষে তিন মাস পর অভিযোগপত্র দাখিল করলে আদালত বিচার প্রক্রিয়ায় চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। পরে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় আসামি নূর হোসেনকে দুটি ধারায় আলাদাভাবে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এদিকে, আদালত একই সাথে মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আরো দুটি মামলায় চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। অস্ত্র মামলায় সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারসহ দুই পুলিশ সদস্যের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এ ছাড়া মাদক মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেন একজন পুলিশ সদস্য। এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামি নূর হোসেনকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জের আদালতে হাজির করা হয়
এদিকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেনের পায়ে পচন ধরেছে। একই সাথে তার ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য আদালতে আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা। দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) সাবিনা ইয়াসমিনের আদালতে এ আবেদন করা হয়। আদালত তার আবেদনের বিষয়টি আমলে নিয়ে পরবর্তীতে আদেশের কথা জানিয়েছেন।
এদিন নূর হোসেনের বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলার যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। সেই সাথে আরো দুটি মামলায় চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। আর এ সময়ে নূর হোসেন আদালতের এজলাসে বসা ছিলেন।
নূর হোসেনের আইনজীবী কামাল হোসেন বলেন, তার ফোঁড়া ওঠে তাতে পচন ধরেছে। দাঁড়িয়ে থাকার কারণে তার পা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। আমরা আদালতকে বিষয়টি জানিয়েছি। মানবিক দিক বিবেচনা করে আদালত তাকে এজলাসে বসার অনুমতি দেন।
তিনি আরো বলেন, তার ডায়াবেটিসের পরিমাণও অনেক বেশি। যার কারণে ফোঁড়া ভালো হচ্ছে না। এ অবস্থায় নূর হোসেনের উন্নত চিকিৎসা করা না হলে ভবিষ্যতে পঙ্গুত্ববরণের দিকে এগিয়ে যাবে। সেই সাথে কারা কর্তৃপক্ষও হয়তো উন্নত চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে সক্ষম হবেন না। তাই আমরা আদালতের কাছে উন্নত চিকিৎসার আবেদন করেছি।
এর আগে ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোড থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজন অপহৃত হন। ৩০ ও ৩১ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশগুলো এক কিলোমিটারের মধ্যে পায়ে ২৪টি করে ইট বোঝাই সিমেন্টের ব্যাগ দিয়ে বাঁধা অবস্থায় নদীতে ডোবানো ছিল। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত নূর হোসেন, র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
অস্ত্র মামলায় নূর হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
তার পায়ে পচন ধরেছে : আইনজীবী
নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেনকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একটি অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ...





