ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার মধ্য রাতে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে জড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষে আহত হন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাদাৎ মো: সায়েম, বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রলীগকর্মী ইকবাল, রাকিব, অনুপ দাশ, সোহাগ, নজরুল হলের সাকিব হাসান দীপ, আশরাফুল রায়হানসহ দুইপক্ষের অন্তত ১০ জন। গুরুতর অবস্থায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই দুই হলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যায় নজরুল হলের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধর করে বঙ্গবন্ধু হলের এক ছাত্রলীগকর্মী। সে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত সাড়ে ১২টার দিকে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় দুই হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় লাঠি, রড, দেশীয় অস্ত্র হাতে দেখা দেখা যায় একাধিক ছাত্রলীগ কর্মীকে।
এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত হয়ে দুই পক্ষকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে এবং নেতাকর্মীদের হলে ফিরিয়ে নেয়।
জানতে চাইলে কাজী নজরুল ইসলাম হল ছাত্রলীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) নাজমুল হাসান পলাশ বলেন, বঙ্গবন্ধুর হলের তিন-চার শ’ পোলাপাইন আমাদের হলে এসে হামলা চালায়। আমি হলের সবাইকে ভেতরে রাখার চেষ্টা করেছি। ওরা যেভাবে হামলা চালিয়েছে কয়েক জন মাডার হয়ে যেত। এই রকম নৃশংস হামলার বিচার চাই।
বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাদাৎ মো: সায়েম বলেন, আমরা চা খেতে হলের সামনে দোকানে যাই। সেখানে নজরুল হলের রায়হানসহ কয়েকজন উপস্থিত হয়। এ সময় রায়হান আমাদের হলের একজনকে মারধর শুরু করে। আমি তাদের নিবৃত্ত করতে নজরুল হলের সামনে নিলে কয়েকজন জুনিয়র মিলে আমার ওপর অতর্কিত হামলা করে। আমি তবুও তাদের সভাপতিসহ সবাইকে বুঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাদের দিকে ইট মারতে থাকে। এতে অনেকে আহত হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ বলেন, এ সময় কারা কী করেছে আমি দেখছি। আমি সবাইকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি।
এ সময় উপস্থিত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন প্রভোস্ট ড. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম শিক্ষার্থীদের হলে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, ছাত্রদের সংঘর্ষের কথা শুনে আমি হলে আসি। এরপর প্রক্টোরিয়াল টিমকে সাথে নিয়ে শিক্ষার্থীদের হলে নিয়ে আসি এবং হলের ফটক বন্ধ করে দেই। এখন শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতাহাতি ঘটনা শুনে আমরা ঘটনা স্থলে উপস্থিত হই। এখন শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ অবস্থানে রয়েছে। আমরা প্রক্টরিয়াল বডি বসে এটা সমাধান করব।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগ কর্মী সেলিম রেজাকে পথ থেকে সরে দাঁড়াতে বলে কাজী নজরুল ইসলাম হল ছাত্রলীগ নেতা ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল রায়হান। নামাজ শেষে রায়হানের কাছে বিষয়টি জানতে চায় বঙ্গবন্ধু হলের সেলিম রেজা, রিফাতসহ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী। এ সময় দুই হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
মধ্য রাতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র কুবি
ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার মধ্য রাতে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে জড়ায়...





