বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের সময় বিভিন্ন দাবি তুলে ধর্মঘট ডাকা পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর শীর্ষ পদে থাকা নেতারা আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। দলের বিভিন্ন ইউনিট কমিটিগুলোতে রয়েছে তাদের পদও। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে তাদের দলীয় পদ-পদবি। এ দিকে বরিশাল বিভাগীয় গণসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ৫ নভেম্বর বরিশালের গণসমাবেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ঘৃণার চোখে বিদায় জানাবে জনগণ। সেই সাথে বরিশালের এই গণসমাবেশ জনসমুদ্রে ভরে উঠবে।
বিএনপির নেতারা বলছেন, যে সংগঠনগুলো আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে চলে তারা তো বিএনপির সমাবেশ বানচাল করার চেষ্টা করবেই। তবে আওয়ামী লীগ বলছে, বিএনপির সমাবেশ নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।
বরিশালে ৫ নভেম্বর নগরীর বঙ্গবন্ধু পার্কে (সাবেক বেলস পার্ক) হতে যাচ্ছে বিএনপির ষষ্ঠ বিভাগীয় সমাবেশ। গত ৮ অক্টোবর চট্টগ্রামের সমাবেশটি হয়েছে নির্বিঘ্ন। তবে ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহ, ২২ অক্টোবর খুলনা, ২৯ অক্টোবর রংপুরের মতো এই সমাবেশের সময় পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, সরকার প্রভাব খাটিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, যদিও যেসব কথা বলে ধর্মঘট ডাকা হচ্ছে, তাতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন বন্ধের দাবি তোলা হচ্ছে।
বরিশালে বাস মালিকদের দু’টি সংগঠনের পাশাপাশি তিন চাকার গাড়ির মালিক ও শ্রমিক সমিতিও দিয়েছে ধর্মঘটের ডাক। লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারাও বলছেন, যেকোনো সময় তারাও যেতে পারেন ধর্মঘটে।
বরিশাল-পটুয়াখালী বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন বলেন, বিএনপির সমাবেশের সাথে আমাদের ডাকা ধর্মঘটের কোনো সম্পর্ক নেই। বাস মালিকদের মধ্যে তো বিএনপি নেতারাও আছেন। রাজনীতির সাথে পেশাজীবী সংগঠনকে জড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে, আমাদের লোকসান হচ্ছে। এই কারণে থ্রি-হুইলার বন্ধের দাবিতে ধর্মঘট ডেকেছি।
বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন- এই ধর্মঘটের সাথে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই। বাস মালিক সমিতিতে বিএনপি-আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি সব দলের নেতারা রয়েছেন। তারা তাদের দাবি আদায়ে ধর্মঘট ডেকেছে। সরকারের আদেশ পছন্দ না হলে যেখানে সারা দেশে তারা চাকা বন্ধ করে দেয়, সেখানে আমাদের হস্তক্ষেপ থাকাটা অবাস্তব।
মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুল বলেন- আমরা তো নিশ্চিত করে বলছি- বাস বা থ্রি-হুইলার ধর্মঘটের পেছনে সরকারের পরোক্ষ হাত রয়েছে। সরকারদলীয় লোকজন পরিবহন সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে বসা। তারা তো আমাদের সমাবেশ বানচাল করার চেষ্টা করবেই।
তিনি আরো বলেন, পরিবহন সংগঠনগুলো আওয়ামী লীগের ইচ্ছা-অনিচ্ছায় চলে। তাদের নিয়ন্ত্রণে সবকিছু। তবে এসব করে কোনো লাভ নেই, মানুষ সাঁতরে হলেও সমাবেশে যোগ দেবে।
বরিশালে মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা কারা : ৪ ও ৫ নভেম্বর ধর্মঘট ডাকা বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি গোলাম মাসরেক বাবলু এবং সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে আওয়ামী ঘরানার। এদের এই কমিটি অনুমোদনে সুপারিশ করেছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।
বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার বাস মালিকদের নিয়ে গঠিত সংগঠন বরিশাল বিভাগীয় আঞ্চলিক সড়ক পরিবহন মালিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বরিশাল বিভাগীয় আঞ্চলিক সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন এই কিশোর কুমার দে। আর এই দুটি সংগঠনেরই সভাপতি বরিশালের সিটি মেয়র মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।
বরিশাল-পটুয়াখালী বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মোমিন উদ্দিন কালু বরিশাল মহানগর যুবলীগের সদস্য। তিনি সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের ঘনিষ্ঠ সহচর। বর্তমান সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর সাথেও তার সম্পর্ক গভীর। এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক।
থ্রি-হুইলার মালিক সমিতির সভাপতি আহম্মেদ শাহরিয়ার বাবু বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
থ্রি-হুইলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কামাল হোসেন লিটন মোল্লা সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পরিমল চন্দ্র দাস মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক।
লঞ্চ ধর্মঘটের আভাস : বাস এবং থ্রি-হুইলারের মতো লঞ্চ চলাচলও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আভাস মিলেছে বরিশালে। জেলা লঞ্চ মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান রিন্টু বলেছেন- জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও যাত্রী সঙ্কটের কারণে প্রতিদিন বিপুল লোকসান দিচ্ছে লঞ্চ। এই পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় লঞ্চ চালানো বন্ধ করে দিতে পারি। রিন্টু বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং বরিশাল সদর উপজেলার চেয়ারম্যান। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
বরিশালের গণসমাবেশ জনসমুদ্রে রূপ নেবে : বরিশাল বিভাগীয় গণসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ৫ নভেম্বর বরিশালের গণসমাবেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ঘৃণার চোখে বিদায় জানাবে জনগণ। সেই সাথে বরিশালের এই গণসমাবেশ জনসমুদ্রে ভরে উঠবে।
তিনি বলেন, বাস, লঞ্চ ও থ্রি-হুইলার বন্ধ করে জনগণকে আটকে রাখা যাবে না। যেমনটা ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, রংপুর ও খুলনায় বাধাগ্রস্ত করে বিএনপির জনস্রোত ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি। এবার বরিশালের জনগণকেও আটকে রাখতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, বরিশাল হচ্ছে খালেদা জিয়া ও ধানের শীষের ঘাঁটি। তাই বরিশালের মানুষ জানে কিভাবে গণসমাবেশ সফল করতে হবে। এবারের সরকার পতনের গণসমাবেশ বরিশালের অতীতের রেকর্ড ভেঙে ফেলবে। বাধাগ্রস্ত করে সমাবেশ, জিয়া, খালেদা ও তারেক জিয়ার সৈনিকদের পথরুদ্ধ করা যাবে না।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, চাল-ডাল, জ্বালানি তেল, গ্যাস-বিদ্যুৎ, সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, দুর্নীতি, দুঃশাসন, গুম, খুন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে হত্যার প্রতিবাদসহ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আগামী ৫ নভেম্বর বরিশাল বিভাগীয় গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার সমাবেশস্থল বরিশাল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যান (বেলস্ পার্ক) ময়দান পরিদর্শনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডা: জাহিদ।
এ সময় মাঠে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান ও মাহবুবুল হক নান্নু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চান, কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনোকুল ইসলাম টিপু, বরিশাল মহানগর বিএনপি আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, মহানগর সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মীর জাহিদুল কবির জাহিদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুল, যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ মাহমুদ সিকদার, হাবিবুর রহমান টিপু, কে এম শহিদুল্লাহ, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক নুরুল আমিন, মহানগর যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম, জেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম তছলিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন দলীয় ও অঙ্গসংগঠন নেতৃবৃন্দ।
এ সময় মহানগর বিএনপি আহ্বায়ক মো: মনিরুজ্জামান খান ফারুক বলেন, বিএনপির গণসমাবেশ ব্যাহত করার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে মাঠের অর্ধেক স্থান নাটকীয়ভাবে আটকে দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এভাবে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিএনপির গণসমাবেশে আসা জনতার স্রোত থামিয়ে রাখা যাবে না। আমরা সমাবেশ সফল করার জন্য সরকারদলীয় লোকের সব অত্যাচার, হামলা ও বাধা শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবেলা করে আমাদের সমাবেশ সফল করবই।
অন্য দিকে বরিশাল মহানগর বিএনপি নেতারা কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে নিয়ে নগরীতে দিনব্যাপী গণসংযোগ করেন। তারা নগরীর পোর্ট রোড, ফলপট্টিসহ বিভিন্ন এলাকায় পথসভা ও সমাবেশ করে লিফলেট বিতরণ করেন।
গণসংযোগে পুলিশের লাঠিপেটা, আহত ১০
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, বরিশালের বাকেরগঞ্জ কলসকাঠি ইউনিয়নে বিএনপির গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও পথসভায় পুলিশের লাঠিচার্জে ১০ জন আহত হয়েছে। বিএনপি সূত্রে জানা যায়, আগামী ৫ নভেম্বর বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানের নেতৃত্বে কলসকাঠি বাজারে লিফলেট বিতরণ, পথসভা ও গণসংযোগ করা হয়।
এ সময় বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলাউদ্দীন মিলনের নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। লাঠিচার্জে আহতরা হলেন, বাকেরগঞ্জের সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হারুন আর রশিদ জোমাদ্দার, কলসকাঠি ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আল আমিন মোল্লা, ইউনিয়ন যুবদল নেতা সজল, উপজেলা যুবদল আহ্বায়ক এনায়েত হোসেন খান বিপু, উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি নেয়ামুল হক নাহিদ, ছাত্রদল নেতা মুশফিকুর রহমান প্রমুখ।
এ ব্যাপারে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খাননয়া দিগন্তকে বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালিয়েছে, হামলায় প্রায় ১০ জন আহত হয়েছে। পুলিশি লাঠিচার্জের ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আলাউদ্দীন মিলন জানান, কলসকাঠিতে বিএনপির আবুল হোসেন খান গ্রুপ ও হারুন শিকদার গ্রুপ একই স্থানে সভা করলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায় পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।
চরফ্যাসনে যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলা
ভোলা প্রতিনিধি জানান, বরিশালের বিভাগীয় সম্মেলনের পোস্টার লাগাতে গিয়ে ভোলার চরফ্যাসনে হামলার শিকার হয়েছে ছাত্রদল নেতা হাসান রেজা ও হৃদয়সহ অন্তত পাঁচজন।
আহতরা জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চরকলমী ইউনিয়নের আঞ্জুরহাট বাজারে ছাত্রদল নেতা হাসান রেজা ও হৃদয়ের নেতৃত্বে ছাত্রদলের ২০/২৫ জন নেতাকর্মী কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সম্মেলনের পোস্টার লাগাচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা করে। হামলাকারীরা ছাত্রদল নেতা হৃদয়ের পা ভেঙে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন চরফ্যাসন থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কাজী অনিক। তিনি জানান, হামলায় হাসান রেজা, হৃদয়সহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। আবারো হামলা হতে পারে এই ভয়ে আহতদের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।





