বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ বর্গীর রূপ নিয়েছে। ভোটের অধিকার নিয়ে একবার নয়, যখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে তখনই ভোট চুরি করে। তারা সন্ত্রাস করবে, ভোট চুরি করবে এটা মেনে নেয়া যায় না। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে তারা। এখন আবার নতুন করে ভোট চুরির ফন্দি আঁটছে। নতুন বুদ্ধি এঁটে নতুন কমিশন দিয়ে আবার কৌশলে ভোট চুরির চিন্তা করছে। কিন্তু এই হাসিনা-এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। অসহনীয় দ্রব্যমূল্য, লাগাতার লোডশেডিং, দুর্নীতি-দুঃশাসন, লুটপাট, মামলা-হামলা, গুম, হত্যা, জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবিতে বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে গতকাল শনিবার বিভাগীয় গণসমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ১০ মিনিট বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল।


বিএনপি মহাসচিব বলেন, তত্ত্বাবধায়ক বা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন করতে হবে। এখন উন্নয়ন ছাড়া কিছুই দেখা যায় না! কিন্তু বাস্তবে গেলে কোনো কিছুতেই হাত দেয়া যায় না। আমরা মুক্তি চাই, এ থেকে পরিত্রাণ চাই। আমাদের এই আন্দোলন বিএনপির জন্য নয়; খালেদা জিয়ার জন্য নয়; তারেক রহমানের জন্য নয় কিংবা আমাদের নেতাদের জন্য নয়। এ আন্দোলন জাতি ও দেশের প্রয়োজনে সমগ্র জাতিকে রক্ষা করার জন্য।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার দুর্নীতি করেনি এমন একটা জায়গা দেখান। একটা চাকরিও কি তারা দিয়েছে? দিয়েছে তবে সেটি আওয়ামী লীগের ছেলেদের। ২০ লাখ করে টাকা নিয়ে দিয়েছে। বিনা পয়সার সার দেয়ার কথা বলেছে, কিন্তু আমাদের সময়ের থেকে তিন গুণ বেশি দামে সার দিচ্ছেন।


বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিদ্যুৎ গেলে জনগণ বলে ‘হাসিনা গেছে, আবার বিদ্যুৎ আসলে তারা বলেন হাসিনা এসেছে’। তিনি বলেন, ভোটের আগে মানুষের সামনে মাথায় হিজাব দিয়ে বলেছিলেন- দশ টাকা কেজিতে চাল খাওয়াবেন, ঘরে ঘরে চাকরি দেবেন। তা কি হয়েছে? হয়নি- এটাই আওয়ামী লীগের গলাবাজি। আওয়ামী লীগের নামের সাথে জড়িয়ে আছে চুরি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম।
হাসিনা এবং এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল আরো বলেন, সরকার হামলা আর মামলা করছে। ভোলায় লঞ্চে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই আবার মামলা দিয়েছে। এখন দেশে কেউ নিরাপদ নয়।
সরকারবিরোধী মিছিল স্লোগানে গতকাল দিনভর মুখরিত ছিল পুরো বরিশাল নগরী। বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা বিএনপি নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মুখর করে তোলেন পুরো নগরী। প্রতিটি মিছিলের গন্তব্য ছিল বিএনপির গণসমাবেশস্থল। বেলা ২টার মধ্যে কানায় কানায় ভরে যায় পুরো মাঠ।
বেলা ১টা ৩৩ মিনিটে মঞ্চে আসেন গণসমাবেশের প্রধান অতিথি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য মঞ্চের মাঝখানে দু’টি চেয়ার খালি রেখে বরিশালে বিএনপির মহাসমাবেশ হয়।
বেলা ১১টার দিকে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।


সেইসাথে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত নেতাকর্মীদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। এর পরপরই স্থানীয় নেতারা বক্তব্য শুরু করেন। বক্তারা বলেন, আমরা আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব ও তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনব। আমাদের এ আন্দোলন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের। গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মীর জাহিদুল কবির, জেলা দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আকতার হোসেন তালুকদার মেবুল ও উত্তর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মিজানুর রহমান মুকুল।
গণসমাবেশের প্রধান বক্তা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশের মানুষ জেগে উঠেছে। এসে দেখলাম ইন্টারনেটের ফ্রিকোয়েন্সি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, দেশে দুর্ভিক্ষ আসছে। সব কিছু নেই নেই এর দেশে আছে শুধু আওয়ামী লীগের গলাবাজি। এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়, ইভিএমে কোনো নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। ড. আবদুল মঈন খান বলেন, এখানে কথা বলার স্বাধীনতা নেই, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই, মানবাধিকার নেই, ন্যায়বিচার নেই। বিএনপি সরাসরি মুক্তিযোদ্ধাদের দল- অথচ আওয়ামী লীগে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করেছে এমন নেতা খুঁজে পাওয়া মুশকিল।


আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই সরকার রাতের ভোটে নির্বাচিত, সরকার বিচার বিভাগ পুলিশ বিভাগ ও বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করেছেন। পদত্যাগ করে আসুন, তখন খেলা হবে। দশ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে এই সরকারের নেতাকর্মীরা। দেশের মানুষ গ্যাস পাচ্ছে না, তেল পাচ্ছে না অথচ ইভিএম কেনা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী এমপিরা ফুলে ফেঁপে কলাগাছ হচ্ছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে আপনি বাংলাদেশের জনগণকে ব্লাকমেইলিং করছেন। খালেদা জিয়াকে জেলের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, তিনি দেশের জনগণের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত আছেন। সবকিছুর মূলে হচ্ছে ভোট চুরি, এই ভোট চোরদের ধরতে হবে। জীবন দিয়ে হলেও আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনব।
বেগম সেলিমা রহমান বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন, দেশ যাবে কোন পথে, ফয়সালা হবে রাজপথে। সরকারের শেষ রক্ষা হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর (বীর উত্তম) বলেন, মানুষের গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপির এই আন্দোলন গণ-আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। জনগণকে রুখে দাঁড়াবার সাধ্য আওয়ামী লীগের নেই।
মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম) বলেন, বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের দল, জিয়াউর রহমান জীবন বাজি রেখে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, আমি তার একজন সহযোদ্ধা ছিলাম। অথচ এখন বলা হচ্ছে তিনি নাকি আইএসআইর এজেন্ট, এটাই হচ্ছে মিথ্যাবাদী আওয়ামী লীগের চরিত্র।


ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, গত কয়েক দিন বরিশালে অবস্থান করে দেখেছি, বরিশালের মানুষ বিএনপিকে মনেপ্রাণে ভালোবাসে, যার প্রমাণ তারা দিয়েছেন সরকারের সব বাধা উপেক্ষা করে এই সমাবেশকে জনসমুদ্রে রূপ দেয়ার মধ্য দিয়ে।
অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বিএনপি নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন, হামলা মামলাকে ভয় পাবেন না, আমরা বিনা খরচে আপনাদের মামলা পরিচালনা করব।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো: মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, এ দেশের জনগণ সরকারের পদলেহী নির্বাচন কমিশনের ইভিএম বিশ্বাস করে না, তারা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে চায়, জণগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই আজকের এই গণসমাবেশ।
অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, গণসমাবেশকে ভয় পেয়ে সরকার এখানে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে, ছাত্রলীগ এখন গরু চোরের দল, ছাত্রলীগের এক নেত্রী গরু চুরির মামলায় গ্রেফতার হয়েছে, হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ডিসি এসপি দিয়ে দিনের ভোট রাতে করা যায়; কিন্তু জনসমুদ্র তৈরি করা যায় না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন চাল-গমের দামে সেঞ্চুরি হবে মন্তব্য করে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব আরো বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণ হিসেবে এক সময় করোনাকে দায়ী করেছে সরকার। এখন আবার রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধকে দায়ী করছেন। ডিমের দাম দোকানভেদে ১৫ টাকা আপডাউন করছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ডিমের দাম বাড়বে কেন, ফার্ম তো আমাদের দেশেই আছে।


গণসমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান ও মাহবুবুল হক নান্নু, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, সাবেক সংসদ সদস্য ও ডাকসুর সাবেক এজিএস নাজিম উদ্দিন আলম, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহম্মেদ আলুকদার, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, সহসম্পাদক দফতর মুনির হোসেন, বন ও পরিবেশ সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, সহসম্পাদক প্রচার আসাদুল করিম শাহীন, ফিরোজ উজ জামান মামুন মোল্লা, সহসম্পাদক স্বাস্থ্য রফিকুল কবির লাবু, সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহীম, ভোলায় পুলিশের গুলিতে নিহত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবদুর রহিমের স্ত্রী ফাতেমা বেগম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ওবায়েদুল হক চান, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান নান্টু, উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক দেওয়ান মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সাবেক সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান, মো: দুলাল হোসেন, এলিজা জামান, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সজল, মাওলানা মো: নেসারুল হক, আবদুস সোবহান, হায়দার আলী লেনিন, নুরুল ইসলাম নয়ন, হাসান মামুন, নজরুল ইসলাম মোল্লা, ডা: সহিদ হাসান, নুরুজ্জামান বাবুল প্রমুখ।


গণসমাবেশে গুম খুনের শিকার নেতাদের স্বজনরা
এদিকে গণসমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন বরিশাল অঞ্চলে গুম ও খুনের স্বীকার হওয়া নেতাকর্মীদের স্বজনরা। তারা স্বজন হারানোর বেদনার কথা প্রকাশ করেন।
ভোলায় পুলিশের গুলিতে নিহত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুর রহিমের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেছেন, আমি আমার স্বামীকে হত্যার বিচার শেখ হাসিনার সরকারের কাছে চাই না, আমি হত্যার বদলে হত্যা চাই, গুলির বদলে গুলি চাই, রক্তের বদলে রক্ত চাই।
ফাতেমা বেগম বলেন, আমি দুনিয়ায় অসহায়। আমার সন্তানদের এতিম করে দেয়া হয়েছে। আমার স্বামীর কোনো অন্যায় ছিল না, অন্যায় ছিল তিনি শেখ হাসিনার বিপরীত মতাদর্শের নীতি ভালোবাসতেন। এটি কোনো অন্যায় হতে পারে না।
গণসমাবেশে আরো বক্তব্য দেন গুমের শিকার বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাবেক নেতা ফিরোজ খান কালু ও তার ভাই মিরাজ খানের মা ফিরোজা বেগম। তিনি বলেন, আমার দুই ছেলেকে গুম করা হয়েছে। এই সরকার নিজেদের মানবতার সরকার বলে দাবি করে। আমার ছোট ছেলে মিরাজ খানের বয়স তখন মাত্র ১৫ বছর। আমার দুই ছেলের কী দোষ ছিল, তাদের গুম করা হলো? আমার বুক খালি করা হলো! আমি আমার ছেলেদের ফেরত চাই। এই মঞ্চে আমার বড় ছেলে কালুর স্ত্রী ও ছেলে আসার কথা ছিল; কিন্তু খুনি সরকার সব যানবাহন বন্ধ করে দেয়ায় তারা আসতে পারেনি। আমি আমার ছেলেদের ফেরত চাই। আমার ছোট নাতি তার বাবাকে ফেরত চায়।


দুপুরের খাবার নিয়ে সমাবেশে কর্মীরা
বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনাসহ উপকূলের বিএনপি নেতাকর্মীরা ভোররাতের মধ্যেই ট্রলারে বরিশাল লঞ্চঘাট এসে পৌঁছেন। তারা সকাল ৭টায় ট্রলারে বসেই খিচুড়ি খেয়ে দলীয় ব্যানার নিয়ে দুপুরের খাবারের প্যাকেট ও পানির বোতল হাতে সমাবেশস্থল পৌঁছে অবস্থান নেন। এর আগে বরগুনা জেলার উপজেলা সদর, আমতলী, তালতলী, বেতাগী, বামনা ও পাথরঘাটা থেকে পৃথক সময়ে ৪২টি ট্রলারে ৯ হাজার নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে পৌঁছেন। অপরদিকে সমাবেশের একদিন আগেই রাতে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নেন বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী। সমাবেশস্থলেই রাতযাপন করেছেন বিভাগের ছয় জেলা থেকে আগত নেতাকর্মীরা।
বামনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ রানা জানান, গণসমাবেশে যোগ দিতে আমার উপজেলা থেকে তিনটি ট্রলার নিয়ে রাত ১১টায় ছেড়ে বরিশাল লঞ্চঘাটে সকাল ৬টায় এসে পৌঁছেছি। দলীয় ব্যানারে নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিল সহকারে এসেছি। যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান হাসিব বলেন, আমরা রাতে এখানে থেকেছি সমাবেশ সফল করার জন্য। আশা করি আমাদের এ কষ্টের আন্দোলন বিফলে যাবে না।


গণপরিবহন বন্ধে ভোগান্তি : গণসমাবেশের দুই দিন আগে থেকেই বরিশালে আসতে শুরু করেন বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। উপকূলের গণপরিবহন বন্ধের কারণে দুর্ভোগ এড়াতেই এই কৌশল অবলম্বন করেন তারা। বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে দক্ষিণ উপকূলের বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, ভোলা ও পটুয়াখালী জেলার সব উপজেলার বেশির ভাগ নেতাকর্মী বরিশালে এসে পৌঁছেন।
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সমাবেশে আসতে যাতে সমস্যা না হয়, সে জন্যে কর্মী-সমর্থকদের দুই-তিন দিন আগেই আসার নির্দেশ দেয়া হয়। সকালে সমাবেশস্থল বঙ্গবন্ধু উদ্যানে গিয়ে বিপুল নেতাকর্মীর উপস্থিতি চোখে পড়ে। বরিশালের ছয় জেলার ৪২ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসেন মানুষ। নেতারা জানান, অন্যান্য বিভাগে অনুষ্ঠিত সমাবেশের তুলনায় এখানে অনেক বেশি বাধার সম্মুখীন হয়েছেন তারা। খুলনা-রংপুরে সমাবেশের সময় কেবল বাস আর লঞ্চ বন্ধ থাকলেও থ্রি-হুইলার কিংবা রিকশা করে আসতে পেরেছে মানুষ। বরিশালে থ্রি-হুইলারও বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রমবিষয়ক সহসম্পাদক ফিরোজ উজ জামান মামুন মোল্লা বলেন, বাধা যে আসবে, তা আমরা আগেই আঁচ করতে পেরেছি। তাই লোকসমাগমে নেয়া হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল।


ভোলায় ৩০ ঘণ্টা পর বাস চলাচল
ভোলা সংবাদদাতা জানান, দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা পর ভোলার অভ্যন্তরীণ পথে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ভোলা বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি বাস যাত্রী নিয়ে চরফ্যাসনের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। এ ছাড়া একই সময় চরফ্যাসন বাসস্ট্যান্ড থেকে অপর একটি বাস ভোলার উদ্দেশে রওনা হয় বলে পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন। গণসমাবেশের প্রাক্কালে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ভোলায় স্বল্প ও দূরপ্লালার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সময় ভোলা-বরিশাল নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়।