সকাল ৭ টার দিকে সায়েদাবাদ থেকে বাসে চড়েছেন এমরান। দুই ঘণ্টা লেগেছে পোস্তগোলার বুড়িগঙ্গা সেতু পার হতে। পথে কুচিয়ামারা ব্রিজের টোল দিতে গিয়ে আধাঘণ্টা। পদ্মাসেতু পার হয়ে ভাঙ্গায় আবার দুই ঘণ্টা যানজটে। ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে বরিশাল যেতে যেখানে সর্বোচ্চ আড়াই ঘণ্টা লাগার কথা সেখানে সময় লেগেছে ৬ ঘণ্টা। এরপর পথে তীব্র গরমের যন্ত্রণা তো ছিলই। আছে বাড়তি ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ। রাজধানীর কোথাও কোথাও দ্বিগুণ ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এভাবেই গতকাল চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন ঈদে ঘরমুখো মানুষ। রাজধানী থেকে ছেড়ে যাওয়া বাস-লঞ্চে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ট্রেনে আগে থেকে টিকিট কাটার পরও স্ট্যান্ডিং যাত্রীর সংখ্যা একেবারে কম ছিল না।
দেশের দক্ষিণাঞ্চলগামী অধিকাংশ বাস এখন রাজধানীর সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী ও গুলিস্তান এলাকা থেকে ছাড়ছে। ঈদে এই গাড়িগুলো এখন কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ঈদের আগে তাৎক্ষণিক গিয়ে এই গাড়িগুলোতে আসন পাওয়া যেত। ঈদ যাত্রায় ওই আসনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়। আমান নামের এক যাত্রী জানিয়েছেন, গুলিস্তান বিআরটিসি কাউন্টারে গিয়ে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানোর পর টিকিট মিলেছে। আর লাইনে দাঁড়িয়েও বাসে ওঠার ক্ষেত্রেও অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বাসের শ্রমিকরা বাড়তি কিছু টাকা নিয়ে সিরিয়াল আগিয়ে দিচ্ছে। এ নিয়ে কাউন্টারে শ্রমিকদের সাথে যাত্রীদের ঝামেলাও হচ্ছে।
যাত্রীরা জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চলে যেতে অধিকাংশ যাত্রীই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সায়েদাবাদ থেকে বের হয়ে বুড়িগঙ্গা সেতু পার হতে। অপরদিকে ভাঙ্গা পার হতে। এর বাইরে তেমন উল্লেখযোগ্য ভোগান্তি নেই। গতকাল দুপুরের দিকে দেখা গেছে যাত্রাবাড়ী মোড়ের ট্রাফিক ব্যবস্থা একেবারেই লণ্ডভণ্ড। ওদিকে, কাজলা থেকে যানজট। অপরদিকে, সায়েদাবাদ থেকে পোস্তগোলা ব্রিজ পর্যন্ত পুরোটাই গাড়িতে ঠাসা। সাইদুর রহমান নামের এক পথচারী বলেছেন, কাজলা থেকে যাত্রাবাড়ী পার হতেই তার আড়াই ঘণ্টা সময় লেগেছে। প্রচণ্ড রোদ আর গরমে দুপুরের দিকে রাস্তায় প্রায় অচেতন হয়ে পড়েছিলেন।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিনের বেলায় রাজধানীতে কাভার্ডভ্যান, ট্রাক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গতকাল শত শত ট্রাক, লরি, কাভার্ডভ্যান রাজধানীতে প্রবেশ করেছে। এতে রাজধানীর যানজট আরো বেড়ে যায়।
গাবতলী থেকে কুষ্টিাগামী যাত্রী কাজল জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ে তিনি গাড়িতে উঠতে পারেননি। তিনি জানিয়েছেন, অনেকেই নির্দিষ্ট সময়ে গাড়ি পাননি। ঢাকা ময়মনসিংহ রোডের টঙ্গি ও গাজীপুরে যানজটে মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবারের ঈদের ছুটি লম্বা হওয়ায় মানুষ আগে থেকেই যাত্রা শুরু করেছে। গতকাল ছিল ঈদের তৃতীয় দিনের যাত্রা। যে কারণে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কম। অপরদিকে, যারা সপরিবারে যাচ্ছেন না তাদের অধিকাংশই বাস-লঞ্চ কিংবা ট্রেনে দ্বারস্থ না হয়ে মোটর সাইকেল ভাড়া করে গন্তব্যে যাচ্ছেন। যে কারণে পরিবহনগুলোতে যাত্রীর চাপ কিছুটা কম। এদিকে, রাস্তায় মোটর সাইকেলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার চিত্র শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি ফেরিঘাটের দিকে লক্ষ করলেই বোঝা যায়। হাজার হাজার মোটরসাইকেল পার হচ্ছে পদ্মা নদী।
ট্রেন যাত্রা অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও স্ট্যান্ডিং যাত্রীর সংখ্যা কিন্তু একেবারেই কম নয়। ছাদে মানুষ না চড়লেও ভেতরে অংসখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। তবে চিত্র পাল্টে গেছে সদরঘাট নৌ টার্মিনালের। প্রতি বছর এই সময় হাজার হাজার মানুষের চাপ থাকলেও গতকাল সদরঘাটে গিয়ে দেখা যায় প্রায় ফাঁকা। ভোলা-পটুয়াখালী আর চাঁদপুরের যাত্রীদের কিছু ভিড় আছে। বন্দর কর্র্তৃপক্ষ বলেছেন, পদ্মাসেতু হওয়ার ফলে নৌযাত্রীর চাপ কমেছে। অধিকাংশ মানুষ এখন অল্প সময়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে যাতায়াত করছেন।
ঈদযাত্রা : তারপরও কম ভোগান্তি নয়
সকাল ৭ টার দিকে সায়েদাবাদ থেকে বাসে চড়েছেন এমরান। দুই ঘণ্টা লেগেছে পোস্তগোলার বুড়িগঙ্গা সেতু পার হতে। পথে কুচিয়ামারা ব্রিজের টোল দিতে গিয়ে আধাঘণ্টা। পদ্মাসেতু...





