জেলখানায় বসেই অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে শীর্ষ সন্ত্রাসী কিলার আব্বাস। নিয়ন্ত্রণ করছে গার্মেন্টের জুট ব্যবসা, ডিস ব্যবসা, টেন্ডার, মাদক ব্যবসা। করছে চাঁদাবাজি ও অপরের বাড়ি দখলসহ নানা অপকর্ম। দীর্ঘদিন জেলে বন্দী থাকলেও এখনো ইব্রাহিমপুর, কাফরুল ও ভাসানটেকসহ আশপাশের বাসিন্দারা কিলার আব্বাস বলতেই আঁতকে ওঠেন।

স্থানীয় সূত্র বলেছে, কিলার আব্বাসের নির্দেশে জিল্লুর, মাহমুদা ও রহমান এলাকার অপকর্মের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আব্বাসের নির্দেশে, মাহমুদা, বিয়াই শহীদ, ইমন, লিখন, বাপ্পি, টুটুল, সুমন, রাজিব, চন্দ্রা, আলমগীর, কাসেম, কালা ইব্রাহিম, জাউরা মামুন, শফিকুর রহমান ওরফে মঞ্জু এলাহীর বাইরে কেউ কোনো গার্মেন্ট থেকে মালামাল ক্রয় করতে পারে না। তারাই নির্ধারণ করে দেয় কোন গার্মেন্টের জুট কে নেবে। গার্মেন্ট মালিকরা তাদের বাইরে কারো কাছে জুট বিক্রি করতে পারেন না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এলাহীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ঘটনায় ছয়টি মামলা রয়েছে। ওটো ফরিদ নামের বাহিনীর এক সদস্য আলোচিত শুভ মার্ডারের এক নম্বর আসামি। মুন্না চিশতি নিজের আপন ছোট ভাইকে জায়গা-জমি দখলের জের ধরে গুলি করে হত্যা করেছে। সম্প্রতি মুন্না চিশতির বাসায় র্যাব তল্লাশি চালিয়ে মুন্নাকে এবং তার সহযোগী জেহাদকে ইয়াবা ও গাঁজাসহ গ্রেফতার করে বলে জানা যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুধু ডিস ব্যবসা থেকেই মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকা উঠানো হচ্ছে। রাশিদা ও আমেনার নিয়ন্ত্রণাধীন সাগরিকা বস্তি থেকেও মাসিক ৪-৫ লাখ টাকা ভাড়া উঠানো হয়। এই বস্তিতে মাদক ব্যবসাও চলে রমরমা। বিশেষ করে ইয়াবার জন্য সাগরিকা বস্তি সবার কাছে পরিচিত। এ ছাড়াও সামনে কোরবানির হাট বসবে কচুক্ষেত এলাকায়। এই হাটের সবকিছু দেখভাল করবে কিলার আব্বাসের স্ত্রী হামিদা। তাদের ভাষ্যমতে, প্রশাসন ও রাজনৈতিক কিছু ব্যক্তির ছত্রছায়ায় এসব হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি হেলেনা নামের এক নারীকে মারধরের পর বিবস্ত্র করে আব্বাস বাহিনীর নারী সদস্য রাশিদা ও তার ছেলে রাজিব একটি গার্মেন্ট থেকে বের করে দেয়।

ভুক্তভোগী হেলেনা গণমাধ্যমকে বলেছেন, একজন নারীকে প্রকাশ্যে শত শত মানুষের সামনে শরীরের কাপড় টেনে ছিঁড়ে বিবস্ত্র অবস্থায় বের করে দেয়া হয়। অথচ এর কোনো বিচার এবং প্রতিবাদ করতে কেউ সাহস পায়নি। এ ব্যাপারে হেলেনা আদালতে একটি মামলা করেছেন।
আব্বাস বাহিনী কিছু দিন আগে মিরপুর-১০ নম্বরের ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে তার পরিবারের লোকজন ৯৯৯ লাইনে ফোন করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। সন্ত্রাসীরা গিয়াসের কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। এ ব্যাপারে থানায় কোনো মামলা নেয়া হয়নি। শুধু সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
একইভাবে ব্যবসায়ী রনজু, রুস্তুম আলী সরদার, ছিদ্দিক এবং মান্নানসহ অসংখ্য ব্যবসায়ী আব্বাস বাহিনীর নির্যাতন নিপীড়নের শিকার বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী রনজু বলেছেন, আমরা সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি। তারা যখন মন চায় টাকা দাবি করে। না দিলে ব্যবসায়ীদের ওপর খড়গ নেমে আসে।