বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর খোকন সেরনিয়াবাতের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বরিশালে এসে সভায় যোগ দিয়েছেন। এ উপলক্ষে নগরীতে সহস্রাধিক গাড়ির বহর বের করেছে বরিশাল ছাত্রলীগ। তারা নৌকা প্রার্থীর সাইন বোর্ড নিয়ে নগরীতে ঘুরেছে। গাড়িবহর দেখে নগরীর মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হয়েছে।
জাতীয় পার্টির মেয়রপ্রার্থী তাপস আরো বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী অহরহ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। তিনি রাস্তাজুড়ে নির্বাচনী কার্যালয় তৈরি করেছেন। রাস্তা দখল করেছে, খাল দখল করেছে। তারা আবার বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের আগমন উপলক্ষে একটি প্রোগ্রামের নামে সহস্রাধিক গাড়ি নিয়ে নগরীতে মহড়া-প্রোগ্রাম করছে। এতে নগরীর সাধারণ মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে।

মানুষকে এসব মহড়া দেখিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। তারা খোকন সেরনিয়াবাতের সাইন বোর্ড লাগিয়ে এই প্রোগ্রাম করেছে। এগুলো নির্বাচন কমিশন দেখে না? না দেখার চেষ্টা করছে না? তারা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। তাদের এখন আর কর্মী ছাড়া কোনো সমর্থক নেই। এসব মহড়ায় সমর্থক আরো কমে, মানুষ বিরক্ত। সরকারের উচিত একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা। তা না করলে মানুষ আরো বিগড়ে যাবে তাদের ওপরে। এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দেবেন কি না জানতে চাইলে তাপস বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে এর আগেও দুইবার অভিযোগ দিয়েছি। সেই অভিযোগেরও কোনো উত্তর তারা (নির্বাচন কমিশন) দেয়নি। নির্বাচন কমিশন বলে, তথ্য প্রমাণসহ অভিযোগ দিতে। আমি এখন নির্বাচনী প্রচারকাজ করব? না নেতাকর্মীদের নিয়ে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করব? এগুলো যদি আমারই করতে হয় তাহলে নির্বাচন কমিশন আছে কেন?’ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কর্মী আবরার জাহিন সামিট জানান, ঢাকা থেকে রওনা হয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়ির বহর বেলা ৩টায় নগরীর প্রবেশমুখ ছয়মাইল এলাকায় পৌঁছায়। আগে থেকেই সেখানে সহস্রাধিক মোটরসাইকেল ও কয়েকশ’ মাইক্রোবাস অবস্থান করছিল। পরে বিশাল মোটর শোভাযাত্রা করে নগরীতে প্রবেশ করি। সামিট জানান, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা ১৩৭টি গাড়ি নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন। পথে আরো অনেক গাড়ি যুক্ত হলে বরিশালে পৌঁছেন দুই শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে। নগরের প্রবেশমুখ ছয়মাইল মোড়ে আগে অবস্থান করছিল পিরোজপুরের ২৫০টি, পটুয়াখালীর ১৩০টি, বরগুনার ৮০টিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার এবং সহস্রাধিক মোটরসাইকেল।

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হুমায়ুন কবির বলেন, ছাত্রলীগের মহড়া বের করা প্রসঙ্গে কোনো খবর তার কাছে নেই। প্রমাণসহ অভিযোগ দেয়া প্রসঙ্গে রিটার্নিং অফিসার আরো বলেন, এটা তো ঠিক না মনে হয়। প্রার্থী লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ দিলে তার সাথে যদি কোনো তথ্য-প্রমাণ না থাকে তাহলে আমি কি ব্যবস্থা নেবো? আমরা সব সময় অনুরোধ করছি, তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ দেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো। যদি তারা সহযোগিতা না করেন তাহলে আমার কিছু করার নেই। বরিশালে ছাত্রলীগের যৌথ সমন্বয় সভা নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বরিশালে আগমনে সহস্রাধিক মোটরসাইকেল ও ৫ শতাধিক গাড়ি নিয়ে বহর বের করেন বরিশাল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে গাড়ি বহর নিয়ে সভায় যোগ দেন ইনান। এ সমন্বয় সভায় নৌকার মনোনীত মেয়রপ্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত, বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন সেরনিয়াবাত সুমন, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তাপসের গণসংযোগ : জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, ভয়ভীতি, হুন্ডা আর গুণ্ডার মহড়ার দিন শেষ।

আপনারা গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দেখেছেন সেখানে মন্ত্রী, এমপি, নায়ক-নায়িকাদের দিয়েও নৌকা জেতাতে পারেনি। ডুবে যাওয়া নৌকাতে বরিশালবাসী উঠবে না। আপনারা দেখেছেন সরকারি ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার করে নৌকায় ভোট চাইতে এসেছে বরিশালের বাইরে বিভিন্ন জেলার মানুষ। তারা জানে না বরিশালের মানুষ আর প্রতারিত হবে না। নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের চহঠা, তালুকদারবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে উঠান বেঠকে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, গত ১৫ বছর যারা আমাদের ভোট কেড়ে নিয়েছে তাদেরকে বরিশালবাসী এবার প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি ভোটারদের কাছে লাঙ্গল মার্কায় ভোট চেয়ে বলেন, আমাকে ভোট দিলে বরিশাল দখলমুক্ত হবে। সন্ত্রাস ও মাদকের কোনো জায়গা হবে না। সবার জন্য নিরাপদ নগরী গড়ে তুলব। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- বরিশাল জেলা জাতীয় পার্টি সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট এম এ জলিল, ইসমত আরা ইকবাল, বরিশাল ফরএভার লিভিং সোসাইটির পরিচালক এস এম ইমামুল হাসান শামীম, গণসংযোগ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মামুন, হাফিজা আক্তার রিমি, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মাসুদসহ প্রমুখ। এ দিকে নথুল্লাবাদ ব্যবসায়ীদের নেতা মো: মাইনুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপসকে ফুলেল শুভেচছা দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন।

যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল, ঝালকাঠী জেলা জাতীয় পার্টি সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন আনু, অ্যাডভোকেট বশির আহমেদ সবুজ, অ্যাডভোকেট কে এম জুবায়ের, জাতীয় যুব সংহতি বরিশাল জেলা আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম হেমায়েত, মহানগর আহ্বায়ক অধ্যাপক গিয়াস, সদস্য সচিব অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। যোগদান অনুষ্ঠানে আরো যোগদান করেন নজরুল ইসলাম, সোহাগ হোসেন, পনির মিয়া, রাজিব হোসেন, রুবেল মিয়া, ইউসুফ হোসেন, রিয়াজ হোসেন, সজল দাস, মিরাজ হোসেন, রাজু দাস। নেতারা আগামী ১২ জুন লাঙ্গল মার্কায় ভোট দেয়ার অঙ্গীকার করেন।