দলীয় পদ পদবিতে না থেকেও জাহিদুল ইসলাম টিপু প্রায় একাই মতিঝিল এলাকার টেন্ডার, ফুটপাত, কাঁচাবাজার, ডিস ব্যবসা, ঠিকাদারি, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে ভর্তি ইত্যাদি একাই নিয়ন্ত্রণ করতেন। টিপু হত্যার কারণগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। আদালতে দেয়া চার্জশিটে এমন তথ্যই তুলে ধরা হয়েছে।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে তথ্যাদি পর্যালোচনা করে জানা যায়, নিহত জাহিদুল ইসলাম টিপু তার জীবদ্দশায় বৃহত্তর মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তৎকালীন সময়ে মতিঝিল থানা এলাকার টেন্ডার, ফুটপাত, কাঁচাবাজার, ডিশ ব্যবসা, ঠিকদারী, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে ভর্তি তথা এলাকার নিয়ন্ত্রণ প্রায় একাই করতেন। পরবর্তীতে মতিঝিল এলাকার অন্যতম নেতা রিয়াজ উদ্দিন মিল্কি হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে তিনি দলীয় পদ হারান। পদ হারানোর পরও তিনি প্রায় একাই মতিঝিল এলাকার উল্লেখিত টেন্ডার, ফুটপাথ, কাঁচাবাজার, ডিস ব্যবসা, ঠিকাদারী, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে ভর্তি ইত্যাদি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। এতে দলীয় পদে থাকা বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে তার বিরোধ ও দূরত্ব তৈরি হতে থাকে।
এদিকে, বোচা বাবু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মতিঝিল থানার ২৩(০৯) ২০১৬ নম্বর মামলায় সুমন সিকদার ওরফে মুসা (৪৩) চার্জশিটভুক্ত আসামি। এই মামলার বাদি বোচা বাবুর বাবা আবুল কালামের সাথে টিপুর ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। যে কারণে টিপুর পৃষ্ঠপোষকতায় মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম নিয়মিত আদালত হতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়। এর ফলে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগোতে থাকে। এতে আসামি সুমন সিকদার মুসা ধারণা করে টিপুর কারণে মামলাটির বিচার কার্যক্রম দ্রুত সমাপ্তি হচ্ছে। এর ফলে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনার বিষয়টি মুসাকে নিহত টিপুর উপর বিক্ষুব্ধ করে তোলে।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, সর্বোপরি দলীয় পদে থাকা বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন সময়ে জাহিদুল ইসলাম টিপুর সাথে কোটা ভিত্তিতে মতিঝিল এলাকার টেন্ডার, ফুটপাথ, কাঁচাবাজার, ডিস ব্যবসা, ঠিকাদারী, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে ভর্তি ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় এক পর্যায়ে দলীয় পদে থাকা বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ আন্ডার ওয়ার্ল্ডের শীর্ষ পলাতক সন্ত্রাসী জিসা ও ফ্রিডম মানিকদ্বয়ের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের মধ্যে মতিঝিল এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা মিটিং করে টিপুকে হত্যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ রাত ১০টা ২০ মিনিটে শাহজাহানপুরের আমতলা এলাকায় জাহিদুল ইসলাম টিপুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় পাশে থাকা রিকশা আরোহী সামিয়া আফরান জামাল প্রীতি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এই ঘটনায় শাহজাহানপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন টিপুর স্ত্রী ফারহানা ইসলাম ডলি। এই ঘটনায় মোট ৩৩ জনকে অভিযুক্ত করে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দিয়েছে।





