পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠন কুকি চীন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) আবারো তৎপর হয়ে উঠেছে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি এলাকায়। সেখানে বেশ কয়েকটি পাড়ার সংযোগ সড়ক কেটে ফেলেছে তারা। বিভিন্ন স্থানে বসিয়েছে বিস্ফোরক। বন্ধ হয়ে গেছে রনিন পাড়াসহ কয়েকটি পাড়ায় যান চলাচল। এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিনে কেএনএফের সশস্ত্র সদস্যরা রোয়াংছড়ির দুর্নিবার পাড়া, কেপলং পাড়া ও রনিন পাড়ার সংযোগকারী রাস্তার ওপর গর্ত তৈরি করেছে। এসব গর্তের কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আশপাশের পাড়াগুলো থেকে চলতি আমের মৌসুমে স্থানীয়রা আম সরবরাহ করতে পারছেন না। যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন পাড়ার লোকজন। এ ছাড়া পাড়াগুলোর আশপাশে চলাচলকারী রাস্তাগুলোতে বিস্ফোরক বসাচ্ছে সশস্ত্র সদস্যরা। বিস্ফোরকের কারণে এলাকায় আরো বেশি আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
রোয়াংছড়ির ইউএনও খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, রনিন পাড়া এলাকায় রাস্তায় বড় গর্ত করে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনার খবর আমরা পেয়েছি। ওই এলাকার বেশ কয়েকটি পাড়ায় এখন যানবাহন চলাচল করছে না। তবে এলাকার লোকজন যারা দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন তাদেরকে কিছুদিন আগে সরকারের পক্ষ থেকে ভিজিএফ কর্মসূচির মাধ্যমে খাদ্যসহায়তা দেয়া হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন সজাগ রয়েছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান চহাই মং জানান, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার জুম চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। তারা জুমে উৎপাদিত ফসল ও ফলমূল বাজারে নিয়ে আসতে পারছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে এলাকায় খাদ্যসঙ্কট বাড়বে।
এদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছুদিন বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি কেএনএফের সশস্ত্র সদস্যরা এলাকায় আবারো তৎপর হয়ে উঠেছে। জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে তারা। তবে এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় অভিযান ও টহল দুটোই বাড়ানো হয়েছে।
এলাকায় শান্তি স্থাপন ও কেএনএফের সশস্ত্র সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সম্প্রতি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লাকে প্রধান করে ১৮ সদস্য বিশিষ্ট শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এ কমিটির পক্ষ থেকে কেএনএফের সাথে যোগাযোগ হয়েছে কিনা না সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কেএনএফের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এলাকার সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন নিপীড়ন বেড়ে যাওয়ায় এবং সেই সাথে তাদের দাবি-দাওয়া মেনে না নেয়ায় তারা বেশ কিছু এলাকায় তৎপরতা আবারো বাড়িয়েছে।