নরসিংদীর পলাশে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পথসভায় যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে সমাবেশে যোগ না দেয়ায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিশু সহ পাঁচজন আহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রামের হিরন মিয়ার ছেলে ইকবাল হোসেন (২২), একই গ্রামের কিরন মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া (২৫), তার মা লাকি বেগম (৪২) ও দুই বছরের শিশু সন্তান আরিয়া। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে পলাশ থানায় যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেনসহ ১৫ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরো ১০ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

আহতরা জানান, সন্ধ্যায় ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজৈর গ্রামে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অপরাজনীতির বিরুদ্ধে উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে এক জনসচেতনতামূলক পথসভার আয়োজন হয়। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা: আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলিপ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এই সভায় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন তার নেতৃত্বে যোগ দেয়ার কথা জানায়। কিন্তু তারা যুবলীগ নেতা দেলোয়ারে নেতৃত্বে সভায় যোগ না দিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সভায় যাওয়ার পথে রাস্তায় তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা অটোরিকশায় থাকা মামুন মিয়া, ইকবাল হোসেন, লাকি বেগমকে লাঠি নিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে লাকি বেগমের কোলে থাকা শিশু সন্তান আরিয়াকে মাটিতে ছুড়ে ফেলে আহত করে। একপর্যায়ে আশপাশের মানুষ ছুটে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে।

ডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাহিদ হাসান মাইনুল জানান, প্রোগ্রামকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন সকাল থেকেই তার সাথে সভায় যোগ দেয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। কিন্তু গ্রামের অনেকেই তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য তাকে পছন্দ করত না। যার কারণে সভায় যেতে অনীহা করে। একপর্যায়ে বিকেলে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাবের উল হাইয়ের নেতৃত্বে সভায় যোগ দেয়ার সময় রাস্তায় দেলোয়ারসহ ২০ থেকে ২৫ জন সন্ত্রাসী তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে আহত করা হয়।
ডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাবের উল হাই বলেন, হামলার বিষয়টি শুনার পর আহতদের খোঁজখবর নেয়া হয়। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও ঘৃণিত কাজ। দেলোয়র হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে আসছে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এসব বিষয়ে কথা বলতে ডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পলাশ থানার ওসি মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।