গাজীপুরের কালীগঞ্জে মোক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আলমগীরের সমর্থকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ওপর হামলার চালিয়েছে। এসময় ইউএনওর কার্যালয়ে ভাঙচুর ও উপজেলা পরিষদের ছয় কর্মকর্তাকে মারধর করা হয়েছে।
গত শনিবার বেলা ১টায় জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওপর হামলা ও ভাঙচুরের এ ঘটনা ঘটে। হামলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িচালক মো: রুবেল, বিআরডিবির হিসাবরক্ষক লিটন আহমেদ, প্রকৌশলী অফিসের মো: রাসেল, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রোগ্রামার উজ্জ্বল কুমার শীল, আনসার সদস্য আকরাম ও রেজোয়ান আহত হয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে শহীদ ময়েজ উদ্দিন আহমেদের ৩৯তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে কালীগঞ্জ আর আর এন পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক স্মরণসভার আয়োজন করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। জেলা ও উপজেলা থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য আসছিলেন। বেলা ১টার দিকে মোক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: আনোয়ার হোসেন তার অনুসারী লোকজন নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হন। ওই সময়ই উপজেলা পরিষদের হলরুমে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে শিল্প কলা একাডেমির উদ্যোগে একটি অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আজিজুর রহমানসহ উপজেলার বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মোক্তারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদের ভেতরে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা নিয়ে কয়েক শ লোক ঢুকে বিভিন্ন ধরনের সেøাগান দিচ্ছিল। হলরুমে জাতীয় অনুষ্ঠান চলছে বিষয়টি চেয়ারম্যানসহ তাদের অবগত করা হলেও তারা তা না মেনে সেøাগান দিতে থাকে। এ সময় বাইরে জটলা তৈরি হওয়ায় প্রথমে উপজেলা পরিষদের নিরাপত্তার দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের গাড়ি উপজেলা চত্বরের বাইরে নিয়ে রাখার অনুরোধ করেন। নেতাকর্মীরা এতে উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমান নিজে উপস্থিত হয়ে চেয়ারম্যানকে ডেকে বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ ভিআইপি নেতারা উপজেলা পরিষদে আসার কথা রয়েছে। সম্ভব হলে আপনার নেতাকর্মীদের গাড়ি বাইরের খোলা জায়গায় নিয়ে রাখতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান ইউএনওর সাথে উচ্চ বাক্যবিনিময় করেন। সাথে থাকা নেতাকর্মীরা এগিয়ে এসে ইউএনওসহ তার সাথে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে ইউএনওর ওপর হামলা চালানো হয়। ইউএনওর সাথে থাকা আনসার সদস্য ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইউএনওকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে তাদের ওপরও হামলা চালায় চেয়ারম্যানের সাথে থাকা লোকজন। এতে আনসারসহ ছয়জন আহত হয়েছে।
উত্তেজিত নেতাকর্মীরা ইউএনও অফিস এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসে ইটপাটকেল মারতে থাকে এতে কয়েকটি জানালার কাচ ভেঙে যায়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আজিজুর রহমান বলেন, চেয়ারম্যান ও তার নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেল রেখে জটলা সৃষ্টি করে। তাদের গাড়ি চত্বরের বাইরের খোলা স্থানে রাখার অনুরোধ করার পর চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। সে সময় তার সাথে থাকা নেতাকর্মীরা চেয়ারম্যানের উসকানি পেয়ে আমার এবং সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়। এ ছাড়াও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে দফতরের জানালা ভাঙচুর করে। এতে আমিসহ মোট ছয়জন আহত হয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
গত শনিবার ইউএনওর ওপর হামলা, ভাঙচুর ঘটনায় মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান। এ বিষয়ে তিনি প্রতিবেদককে জানান, এ ঘটনায় ১৫ জনের নামে ও আরো ২০-২৫ জন অজ্ঞাতকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।