রাজধানী এখন রিকশার দখলে। টানা তিন দিনের অবরোধের কারণে গণপরিবহন স্বল্পতার কারণে রিকশাই এখন পথচারীদের একমাত্র ভরসা। আর এই সুযোগে নিষিদ্ধ সড়কগুলোতেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রিকশা। স্থান করে নিয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং অটোরিকশাগুলোও। অবরোধের কারণে একদিকে অবাধ চলাচলের সুযোগ অপরদিকে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায়ের সুযোগটিও রিকশা চালকরা হাতছাড়া করছে না। অনেক ক্ষেত্রে পথচারীদের ওপর জুলুম করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীর পথচারীরা।
রাজধানীতে কড়াভাবে পালিত হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত আহূত অবরোধ কর্মসূচি। অবরোধের কারণে রাজধানীতে গণপরিবহন চলাচল একেবারেই কমে গেছে। বলতে গেলে হাতেগোনা কিছু বাস চলাচল করছে। রাজধানীতে মানুষের চলাচলও অনেকটা কমে গেছে। অনেকে বলছেন, জরুরি প্রয়োজনের কারণে রাস্তায় নেমেছেন। না হলে এই সময়ে রাস্তায় বের হতেন না। রাজধানীর কোনাপাড়া এলাকার রাজিব বলছেন, জরুরি একটা কাজের জন্য মতিঝিল গিয়েছিলেন। জরুরি প্রয়োজন না হলে রাস্তায় বের হতেন না। আগে যেভাবে অহরহ গাড়ি পাওয়া যেত গতকাল তেমনটি ছিল না। আর তিনি ভয়ের কারণে বাসে চড়েননি। তিনি অটোরিকশায় যাত্রাবাড়ী আসার পর রিকশাযোগে মতিঝিল যান। তিনি জানান, বাসে যেতে তার ভাড়া লাগত ১৫-২০ টাকা। আর রিকশায় মতিঝিল পর্যন্ত যেতে তার ৩০০ টাকা লেগেছে। সাইদুর রহমান নামের এক পথচারী বলেছেন, বাস চলাচল কমে যাওয়ার সুযোগটি নিয়েছে রিকশাচালকরা। তারা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে। টিকাটুলী থেকে সেগুনবাগিচা বা প্রেস ক্লাব যেতে সর্বোচ্চ ভাড়া ৬০ টাকা। কিন্তু গতকাল নেয়া হয়েছে এক শ’ টাকা। এরকম অসংখ্য মানুষের অভিযোগ রিকশাওয়ালারা বেশি ভাড়া আদায় করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভয়ানক বাড়াবাড়ি করছে। কিন্তু তারপরও অনেকে খুশি এই ভেবে যে, জরুরি প্রয়োজনে তারা এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যেতে পারছেন।
গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গণপরিবহন একেবারেই হাতেগোনা। রাজধানীর সড়কগুলোর মোড়ে মোড়ে পথচারীরা দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু গণপরিবহনের দেখা মিলছে না। দীর্ঘ সময় পরপর যে দু’-একটি বাস আসছে তা যাত্রী দিয়ে ঠাসা। ফলে পথচারীরা কাক্সিক্ষত বাসে উঠতে পারছেন না। ফলে মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যেই পড়েছেন। জাফর নামের এক পথচারী বলেন, ছেলেমেয়ের স্কুল কলেজে যাওয়া বন্ধ। কিন্তু নিজে তো আর কর্মস্থলে না এসে পারছেন না। তাই ভোগান্তি হলেও রাস্তায় বের হতে হচ্ছে।
এদিকে, গণপরিবহনের একাধিক চালক বলেছেন, রাজধানীতে যাত্রীসংখ্যা কম। তুরাগ পরিবহনের চালক শহিদ গতকাল মানিকনগর বিশ্বরোড এলাকায় নয়া দিগন্তকে বলেন, অবরোধের কারণে অনেক কম মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। কাক্সিক্ষত যাত্রী না থাকায় পরিবহন কমে গেছে। আবার অনেকে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে গাড়ি বের করেনি।
এদিকে, সড়কে গণপরিবহন সঙ্কটের সুযোগে নিষিদ্ধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোও এখন মূল সড়কগুলোতে চলাচল করছে। বেপরোয়া এই গাড়িগুলো এক সময় অলিগলিতেই চলত। গতকাল দেখা গেছে প্রধান প্রধান সড়কগুলোতেও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো চলছে।
এদিকে, কিছু সিএনজি অটোরিকশা এবং বিভিন্ন অ্যাপস্চালিত যানবাহন চলাচল করছে। এসব পরিবহনেও বেশি ভাড়া ও বখশিশ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।