ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার হয়ে ৪৫০ দিন কারাগারে থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কোবরা। গতকাল সকালে খাদিজা কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দিতে। সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হলেও দেড় ঘণ্টা পর তিনি হলে প্রবেশ করেন। দুই সেমিস্টার লস দিয়ে চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষা দিয়েছেন খাদিজা।
পরীক্ষা শেষে খাদিজা বলেন, আমি আজ কারাগার থেকে বের হয়েছি। আমার মুক্তির পেছনে গণমাধ্যমের অনেক ভূমিকা ছিল তাই আমি গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত। এ মুহূর্তে কথা বলতে পারছি না। এর আগে কাশিমপুর কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে গণমাধ্যমকে খাদিজা বলেন, ‘আমার সাথে অন্যায় তো হয়েছেই। বিনা দোষে আমি প্রায় ১৫ মাস জেল খাটলাম। এর চেয়ে বেশি কিছু আর এখন বলতে চাই না। বলার মতো মন-মানসিকতা আমার নেই। দীর্ঘ ১৫ মাসে বাইরের অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়ে গেছে।’
খাদিজার বড় বোন সিরাজুম মনিরা জানান, খুব সকালে আমরা কারাগারে যাই। তারপর সকাল ৯টার সময় খাদিজাকে মুক্তি দেয়। খাদিজার মুক্তির পেছনে যারা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছে আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে গণমাধ্যমের সহযোগিতা ছিল অনেক। খাদিজার মুক্তি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কোনো সহায়তা লাগলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে খাদিজাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুই মামলায় খাদিজার জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল ১৬ নভেম্বর খারিজ করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে দুই মামলায় খাদিজাকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল থাকে।
প্রসঙ্গত, অনলাইনে সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রচারসহ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার অভিযোগে ২০২০ সালের অক্টোবরে খাদিজা ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়। একটি মামলা হয় রাজধানীর কলাবাগান থানায়, অন্যটি নিউমার্কেট থানায়। দুটি মামলার বাদিই পুলিশ। এর আগে গত বছরের মে মাসে দুই মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পর ওই বছরেই ২৭ আগস্ট মিরপুরের বাসা থেকে খাদিজাকে গ্রেফতার করেছিল নিউ মার্কেট থানা-পুলিশ।
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি জানান, প্রায় ১৫ মাস পর গতকাল সকালে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা। কারাগারের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র সুপার মো: শাহজাহান আহমেদ বলেন, খাদিজাতুল কুবরার জামিনের কাগজপত্র রোববার রাত সোয়া ৭টার দিকে কারাগারে পৌঁছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সোমবার সকালে (৮টা ৫৭ মিনিটে) তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়। এ সময় তার বড় বোন উপস্থিত ছিলেন।