বানিয়াচং থানার নারী ও শিশু সহায়তার (হেল্পডেস্ক) কক্ষ থেকে গোলাম রাব্বানী (২৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে হেল্পডেস্কের কক্ষের ফ্যানের সাথে পরনের বেল্ট ও গেঞ্জি গলায় বাঁধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন। নিহত যুবক বানিয়াচং ১ নম্বর উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের নন্দীপাড়ার নাগেরখানার মহল্লার মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে।
বানিয়াচং থানার ওসি দেলোয়ার হোসাইন জানান, তার বিরুদ্ধে বানিয়াচং থানায় চুরি-ডাকাতিসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে। সে এলাকায় চোর হিসেবেই পরিচিত। কিছুদিন আগে সে টমটম চুরির মামলায় প্রায় তিন মাস জেল খেটে বের হয়েছে। একটি চুরির মামলায় গোলাম রাব্বানীকে বানিয়াচং উপজেলা সদরের স্মৃতিসৌধের কাছ থেকে আটক করে এসআই মনিরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ। আটক রাব্বানীকে হাজতের পাশে হেল্পডেস্কের কক্ষে রাখা হয়।
রাত সাড়ে ৭টার দিকে রাব্বানীকে কক্ষের ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ। পরে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা: নাছরুল্লাহ রাব্বানীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা: মো: নাছরুল্লাহ জানান, মৃত রাব্বানীর গলায় চন্দ্র আকৃতির একটি কালো দাগ রয়েছে। জরুরি বিভাগে আসার পর মৃত অবস্থায় থাকায় রাব্বানীকে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি আরো জানান, রাব্বানী কিভাবে মারা গেছে সেটি এখন বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসার আগ পর্যন্ত কোনো কিছু বলা যাবে না।
এর আগে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করেন বানিয়াচং উপজেলা সহকারী কমিশানার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম। এই বিষয়ে নিহত রাব্বানীর মা ফজরচান বিবি জানান, আমার ছেলে প্রথম দিকে ভালোই ছিল। পরবর্তী সময়ে কিছু বখাটে ছেলের সাথে মিশে চুরি-ডাকাতির সাথে জড়িয়ে পড়ে। তিনি আরো জানান, পুলিশ আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে থানার মধ্যে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।
তবে এলাকাবাসী জানিয়েছে, নিহত রাব্বানী ছিঁচকে চোরদের সাথে মিশে বিভিন্ন এলাকা থেকে টমটম চুরি করত। সে একসময় নিজেও টমটম চালাত।





