নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আজ। মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তার মিত্ররা ভোট বর্জন করার পাশাপাশি জনগণকে ভোটদান থেকে বিরত রাখার জন্য শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে জোরালো প্রস্তুতি নিয়ে এ দিন মাঠে নামার কথা রয়েছে। বিএনপি ও তার মিত্রদের ওই আন্দোলন ঠেকানোর জন্য অতীতের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রশাসনের ওপরই মূল ভরসা রয়েছে আওয়ামী লীগের। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রভিত্তিক সতর্ক পাহারায় থাকবেন দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে আলাপকালে এ তথ্য জানা গেছে।

নির্বাচনের দিন নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনের পরও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারে, এর কঠোর জবাব দিতে হবে। নির্বাচন হয়ে যাক, কোনো সন্ত্রাসী পার পাবে না। তাদের বিচার হবে। সন্ত্রাস চালানো বিএনপিকে কোথাও দাঁড়াতে দেবো না আমরা, তাদের প্রতিহত করা হবে। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিয়োজিত আছেন, আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসুন দলে দলে নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবায়ন করতে ভোট দেবেন। কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ও ভয়ভীতির কাছে নতি স্বীকার করবেন না। যারা ভোট প্রদানে বাধা সৃষ্টি করবে তাদের প্রতিহত করুন।

আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, ২০১১ সালের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হওয়ার পর থেকেই তা পুনর্বহালের জন্য আন্দোলন চালিয়ে আসা বিএনপি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নিয়ে সারা দেশে জ্বালাও পোড়াও এবং পেট্রোলবোমার রাজনীতি করেছিল। নির্বাচনের আগের দিন ও পরের দিন সব মিলিয়ে টানা ৯০ দিন আন্দোলন করে বিএনপি। ওই সময় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ভূমিকার কারণে বিএনপি ও তার মিত্ররা রাজপথে দাঁড়াতেই পারেনি। ফলে ওই সময় তাদের আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির একাধিক নেতা জানান, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর ও গেল বছরের ২৮ অক্টোবর বিএনপি সমাবেশের মাধ্যমে সরকার পতনের চূড়ান্ত যে পরিকল্পনা করেছিল তা আগে থেকেই গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে সরকার তথ্য পেয়েছিল। ওই তথ্যের ভিত্তিতে আগেভাগেই দল ও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় সতর্ক হয়ে গিয়েছিল। যার ফলে বিএনপির আন্দোলন মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছিল। অবশ্য বিএনপির আন্দোলন বানচাল করার জন্য পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। এ জন্য সরকারের টানা তিন মেয়াদে পুলিশ প্রশাসনের প্রশংসনীয় ভূমিকার কারণে আগামীতেও বিএনপি ও তার মিত্রদের আন্দোলন মোকাবেলা ও দমন করার জন্য প্রশাসনের ওপরই পুরো আস্থা রয়েছে দল ও সরকারের। আজ ৭ জানুয়ারির নির্বাচনেও বিএনপি ও তার মিত্ররা যদি কোনো ধরনের নাশকতা, জ্বালাও পোড়াও করে, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের ভোটদানে বিরত রাখার চেষ্টা করে তা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই কঠোর ভূমিকা পালন করবে। এ জন্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত সদস্যদের নিয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে নিরাপত্তাবলয় জোরদার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তরফ থেকেও কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কেউ নির্বাচনে বাধা দিতে আসলে সাথে সাথেই প্রতিহত করার বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেয়া রয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি ও তার মিত্ররা নির্বাচন ঠেকানোর জন্য কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার চেষ্টা করলে প্রশাসনের সাথে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা প্রতিহত করার বিষয়ে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: মিরাজ হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, ৭ জানুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার আলোকে আমরা ভোটারদের কাছে গিয়ে দলের পক্ষ থেকে আমাদের প্রার্থীদের জন্য ভোট চেয়েছি। আশা করি, ভোটাররা সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে আসবেন। তিনি বলেন, ভোট সুষ্ঠু করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। বিএনপি-জামায়াত আগেই ভোট বর্জন করেছে, তারা এখন যদি ভোট ঠেকাতে আসে তা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করবে। আর আমাদের নেতাকর্মীরা ভোটের দিন সব কেন্দ্রগুলোতে সতর্ক অবস্থায় থাকবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা ইতোমধ্যে রাজধানীর সব কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করছে কি না সেটাও দেখেছি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খালা বাহিনী তৎপর রয়েছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা ও নির্বাচনবিরোধী কর্মকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিহত করবে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন করার মুরোদ নেই। হরতাল অবরোধ ডেকে ঘরে বসে থাকলে কর্মসূচি সফল হয় না। তাদের আন্দোলন মূলত ঘোষণার মধ্যেই শেষ, বাস্তবে কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না। তার পরও আমাদের নেতাকর্মীরা প্রতিটা কেন্দ্রে সতর্ক পাহারায় থাকবেন। ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ ভোট প্রদান করতে পারে সে জন্য সার্বিক সহযোগিতা করবে।