দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই-সীতাকুণ্ড অংশে যানজট সৃষ্টি হলে আতঙ্কে থাকেন যাত্রীরা। রাতের বেলায় গাড়ি ও যাত্রীদের জিম্মি করে সবকিছু ছিনিয়ে নেয়া হয়। গত কিছু দিন ধরে এখানে ডাকাতের উৎপাত বেড়ে গেছে। গাড়ির দরজা না খুললে চলে হামলা-ভাঙচুরের মতো ঘটনা। বিশেষ করে দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী বড়দারোগারহাট ভেহিক্যাল ওয়েট স্কেলে রাতের বেলায় সৃষ্ট যানজটের ভেতর বিভিন্ন গাড়িতে প্রায়ই হানা দেয় ডাকাতদল।
জানা গেছে, সম্প্রতি এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকটি। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বেড়েছে উৎকণ্ঠা। পুলিশ বলছে, এই অঞ্চলে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে, তবে কয়েকটি পয়েন্টে দ্রুত সিসিটিভি বসানো জরুরি।
সম্প্রতি ডাকাতের কবলে পড়া মিরসরাই সদরের সেবা আধুনিক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রহমান ঈশান বলেন, গত বুধবার রাতে চট্টগ্রাম শহর থেকে মিরসরাইয়ে আসার পথে বড়দারোগারহাট স্কেলে সৃষ্ট যানজটের টেরিয়াইল অংশে আটকে থাকা অবস্থায় তিনি আক্রান্ত হন ডাকাতদলের হাতে। রাত ১২টার দিকে যানজটের মধ্যে নিজের প্রাইভেট কার চালক ও একজন টেকনেশিয়ানের সাথে বসেছিলেন তিনি। অতর্কিত ডাকাতদল হানা দিয়ে গাড়ির দরজা খোলার চেষ্টা করে আগে। তিনি দরজা না খুললে ডাকাতদল দেশী-বিদেশী কুড়াল, কিরিচ-সহ নানা অস্ত্র নিয়ে প্রাইভেট কারের পাশের ও পেছনের গ্লাস ভেঙে ড্রাইভারের মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। এ সময় যানজট একটু হালকা হওয়ায় চালক গাড়ি টেনে দ্রুত সরে না এলে আরো বড় বিপদ হতে পারত। তিনি আরো বলেন, আমি তখন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর-৯৯৯-এ কল দিলেও সময় মতো পুলিশের কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
একটি সূত্রে জানা গেছে, ডাকাতদল একই সময়ে একের পর এক আরো কয়েকটি প্রাইভেট গাড়িতে একইভাবে হানা দিয়ে মোবাইল, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়। অনেকে ঝামেলার কারণে কোনো মামলা করেন না
আরেক ভুক্তভোগী কমফোর্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজাম উদ্দিন বলেন, প্রায়ই মুমূর্ষু রোগী নিয়ে দিবারাত্রি যেকোনো সময় আমাদের চট্টগ্রাম যেতে হয়। রোগী ও তাদের স্বজনরাও রেহাই পাচ্ছে না এসব ডাকাতদলের কবল থেকে। আবার আমরা নিজেরাও আক্রান্ত হচ্ছি।

আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মিরসরাই উপজেলা শাখার সভাপতি নয়ন কান্তি ধূম বলেন, কয়েকদিন আগেপ ওই স্কেলের যানজটে পড়ে আমিও ডাকাতদলের আক্রমণের শিকার হই।
জানা গেছে, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরাও রেহাই পাচ্ছে না ডাকাতদলের কবল থেকে। আগে মহাসড়কের নয়দুয়ারিয়া, কমলদহ, সোনাপাহাড় এলাকায় বিভিন্ন সময় গাড়িতে লোহা নিক্ষেপ করে বা পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে হঠাৎ বেরিয়ে গাড়ি থামিয়ে ডাকাতি করত। বর্তমানে রাত ১০টার পর বড়দারোগারহাট স্কেলের জ্যামের কারণে গাড়িতে আটকে থাকা যাত্রীরা সবসময় আতঙ্কে থাকেন কখন ডাকাতদল তাদের ওপর হামলে পড়ে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়।
এই বিষয়ে মিরসরাই থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কের বড়দারোগারহাটের ওই স্কেল এলাকা আমার অধীনস্থ এলাকা নয়, তবু এসব ঘটনা জানার পর আমরাও সেখানে টহল জোরদার করেছি। কুমিরা হাইওয়ের ওসি আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, রাতে আমাদের টহল টিম এমনিতেই কিছুক্ষণ পর পর টহল দিয়ে থাকে। ওই ঘটনার পর আমরা আরো টহল জোরদার করেছি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) মনিরুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলোর বিষয়ে আমি চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা সভায়সহ বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করেছি। এই বিষয়ে শিগগিরই বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ কিছু অংশ সিসিটিভির আওতায় আনা জরুরি বলেও মতামত ব্যক্ত করেন।
এ দিকে আরো জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৯০টি জায়গায় এক হাজার ৪২৭টি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো: শাহাবুদ্দিন খান ইতোমধ্যে জানিয়েছেন দুয়েক মাসের মধ্যে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। গত বুধবার হাইওয়ে পুলিশের সদর দফতরে গণমাধ্যমকর্মীদের এ কথা জানান পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি।