আজ পয়লা ফাল্গুন বসন্তের শুরু। ষড়ঋতুর পরিক্রমায় প্রকৃতিতে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। কুয়াশার আঁচল সরিয়ে সোনালি রোদে প্রকৃতি ভরে দিচ্ছে আকাশ। শীতের রিক্ততা ভুলে প্রকৃতিতে বইতে শুরু করেছে ফাগুনী হাওয়া। সেই পাগলা হাওয়ার উত্তরীয় উড়িয়ে বনফুলের পল্লবে, দখিন-বাতাসে শিহরণ জাগানোর দিন এলো। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায়, ‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত।’ সেই ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন আজ। কোকিলের মধুর কুহু ডাক, শিমুল-পলাশ-অশোকের শাখা ভরে উঠেছে রক্তিম ফুল সম্ভারে। গাছে গাছে ছড়িয়ে রয়েছে আমের মুকুল। অলৌকিক স্পর্শে যেন জেগে উঠেছে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গমসহ কতশত ফুল।
নবপ্রবর্তিত বর্ষপঞ্জিতে গতকাল ছিল মাঘের শেষ দিন। ষড়ঋতুর এ দেশে প্রতি বছরের মতো প্রকৃতিতে এসেছে ফাগুন। বাংলা বর্ষপঞ্জিতে সংশোধনের কারণে বাংলা ফালগুন মাসের প্রথম দিন ও ভালোবাসা দিবস একই দিনে পড়ছে। আজ দিনভর চলবে বসন্তের উচ্ছ্বাস প্রকাশ। ফোন, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলবে বসন্তের শুভেচ্ছা বিনিময়। পলাশ, শিমুলেরা পাপড়ি মেলে ধরেছে গাছে গাছে। এ ফুলের সৌন্দর্যে চার পাশে যেন সুখকর উৎসবের রোমাঞ্চ বয়ে যায়। আ¤্র-মুকুলের মনকাড়া গন্ধে বসন্তের রঙ লেগেছে বেশ আগেই।
বসন্তের আগমনের সাথে প্রকৃতিতে লেগেছে তার ছোঁয়া। ন্যাড়া গাছগুলোতে আসতে শুরু করেছে নতুন পাতা। শিমুল আর পলাশ গাছে ফুটেছে রঙিন ফুল; ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে গ্রামের মেঠো পথকে করে দিচ্ছে রঙিন। এ ফুলের সৌন্দর্যে চার পাশে যেন সুখকর উৎসবের রোমাঞ্চ বয়ে যায়।
কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের সেই অমিয় বাণীটি ঋতুরাজকে আলিঙ্গনের আহ্বান জানায়। ফুল ফোটার পুলকিত এই দিনে বন-বনান্তে কাননে কাননে পারিজাত রঙের কোলাহলে ভরে ওঠে চার দিক। কচি পাতায় আলোর নাচনের মতোই বাঙালির মনেও লাগে দোলা। হৃদয় হয় উচাটন। পাতার আড়ালে-আবডালে লুকিয়ে থাকা বসন্তের দূত কোকিলের মধুর কুহু কুহু ডাক ব্যাকুল করে তোলে অনেক বিরহী অন্তর। পয়লা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসে পর্যটকদের ঢল নামতে পারে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে। প্রতি বছরের মতো এবারো এই দিনে ছুটে আসতে পারেন তরুণ-তরুণীরা।
মোগল স¤্রাট আকবর প্রথম বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেন ১৫৮৫ সালে। নতুন বছরকে কেন্দ্র করে ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেন তিনি। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বসন্ত উৎসব। তখন অবশ্য ঋতুর নাম এবং উৎসবের ধরনটা এখনকার মতো ছিল না। বঙ্গাব্দ ১৪০১ সাল থেকে প্রথম বসন্ত উৎসব উদযাপন করার রীতি চালু হয়। তাই পহেলা ফাল্গুন বা বসন্ত উৎসব কেবল উৎসবে মেতে ওঠার সময় নয়। এর সাথে জড়িয়ে আছে বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্য, বাঙালিসত্তা। সে ঐতিহ্যের ইতিহাসকে ধরে রাখতে পারলেই বসন্ত উৎসবের সাথে নতুন প্রজন্ম ছড়িয়ে দিতে পারবে বাঙালি চেতনাকে।





