‘নবম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় মায়ের শরীরে বড় ধরনের অপারেশন করতে হয়েছে। সরকারি মেডিক্যালে অপারেশন না করে চিকিৎসক নিজের ব্যক্তিগত হাসপাতালে অপারেশন করতে বাধ্য করেন। কিন্তু আমার দরিদ্র বাবার পক্ষে অপারেশনের টাকার জোগান দেয়া সম্ভব হয়নি। আমার মামা সব টাকা ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সেই থেকে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছি আমাকে চিকিৎসক হতে হবে। অবশেষে আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার স্বপ্ন পূরণে প্রথম ধাপ এগিয়েছি। এবার ভর্তি পরীক্ষায় মেডিক্যালে চান্স পেয়েছি।’ কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রামের মিরসরাই পৌরসভার পূর্ব গোভনিয়া এলাকার কাঠমিস্ত্রি মো: ইলিয়াছের মেয়ে উম্মে সাদিয়া (২০)। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় করে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিক্যালে কলেজে চান্স পেয়েছেন সাদিয়া।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাঠমিস্ত্রি ইলিয়াছের দুই মেয়ে এক ছেলের মধ্যে সাদিয়া সবার বড়। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় সে ছিল অনেক মেধাবী। জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেন। ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিসহ বিভিন্ন ইভেন্টে অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। দরিদ্রতা তার মেধাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। ইলিয়াছ যা আয় করেন তা দিয়ে সংসার ও ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগান দিতে কষ্ট হয়। তারপরও সন্তানদের পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। নেই কোনো নিজস্ব বসতবাড়ি, দুই কক্ষের ভাড়া বাসায় বসবাস করেন পরিবার নিয়ে।
উম্মে সাদিয়া বলেন, প্রথমবার ভর্তিপরীক্ষায় মেডিক্যালে টিকতে না পেরে আমি খুব হতাশ হয়ে যাই। কিন্তু হাল ছাড়িনি। এরপর চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে ফরেস্টি বিভাগে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করে যাচ্ছি। পাশাপাশি দ্বিতীয়বার মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার মা-বাবার দোয়ায় এবার ভর্তি পরীক্ষা উর্ত্তীর্ণ হয়েছি। যেসব শিক্ষক আমাকে এ পর্যন্ত আসতে সহযোগিতা করেছেন, আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আমি ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই, মানবিক ডাক্তার হতে চাই।
সাদিয়ার বাবা মো: ইলিয়াছ বলেন, আমার অনেক কষ্টের সংসার। তারপরও মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে নিয়েছি। প্রথমবার না হলেও দ্বিতীয়বার আমার মেয়ে মেডিক্যালে চান্স পেয়েছে। ভর্তি হতে অনেক টাকা প্রয়োজন। আমার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া ভর্তির পর আরো অনেক খরচ হবে, কিভাবে মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাব এ নিয়ে চিন্তায় রয়েছি। মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় জানান, ইলিয়াছের মেয়ে সাদিয়া খুব মেধাবী। সে মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষায় উর্র্ত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্ত তার স্বল্প আয়ের বাবার পক্ষে পড়াশোনার খরচ চালানো সম্ভব নয়। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসলে সাদিয়ার ডাক্তার হওয়ার পথে কোন বাধা থাকবে না।





