কাটছাঁট করে আজ এনইসিতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি
- বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৫.৪৭ শতাংশ
- গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাতে ১১.৪৩ শতাংশ

আর্থিক সঙ্কটের কারণে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ৬.৮৪ শতাংশ কমিয়ে দেয়া হচ্ছে। তবে সংশোধিত এডিপিতে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ কমিয়ে পরিবহণ ও যোগাযোগ খাতকেই সর্বোচ্চ ২৫.৮২ শতাংশ বা ৬৩ হাজার ২৬৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধিত এডিপির প্রস্তাব করা হয়েছে দুই লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি এডিপির আকার থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা কম। এখানে বৈদেশিক খাত থেকে অর্থায়ন কমানো হচ্ছে ১১.১৭ শতাংশ বা সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা। আরএডিপিতে দ্বিতীয় অগ্রাধিকার পেয়েছে বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাতে ১৫.৪৭ শতাংশ বা ৩৭ হাজার ৮৯৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাদিতে ২৮ হাজার ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বা ১১.৪০ শতাংশ। আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় সংশোধিত এডিপি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে কমিশন থেকে জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন দিয়েছিল সরকার। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) এডিপির বাস্তবায়ন হার গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম। চলতি বছর বাস্তবায়ন হার ২৭.১১ শতাংশ এবং গত ২০২২-২৩ অর্থবছর একই সময়ে যা ২৮.১৬ শতাংশ ছিল। সার্র্বিকভাবে অগ্রগতি কম হওয়ার কারণে প্রতি বছরের মতোই এবারো কাঁচি ধরা হলো মূল এডিপিতে। মূল এডিপিতে পরিবহণ ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ ২৮.৭৩ শতাংশ বা ৭০ হাজার ৬৯৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সেখান থেকে কমিয়ে এখন ২৫.৮২ শতাংশ বা ৬৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা করা হচ্ছে।

এনইসিতে দেয়া প্রস্তাবনার তথ্যানুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ বা প্রকল্প সহায়তা খাত থেকে ১১ শতাংশ বা সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৮৩ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হচ্ছে। মূল এডিপিতে প্রকল্প সহায়তা খাতের বরাদ্দ ছিল ৯৪ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ বা সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে এক লাখ ৬১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। মূল এডিপিতে এই খাতের বরাদ্দ ছিল এক লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা।
খাতভিত্তিক বরাদ্দ প্রস্তাব

গত দু’বছর ধরে দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে ১৫টি খাতের আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে। এই খাতের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৭ হাজার ৮৯৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলি খাতে। এই খাত পাচ্ছে ২৮ হাজার ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অন্য খাতের মধ্যে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ বা ১৯ হাজার ৯৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, শিক্ষাখাতে ১৭ হাজার ২২৩ কোটি টাকা, যা সংশোধিত এডিপির ৭.০৩ শতাংশ।

এ ছাড়া পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ৫.৮৩ শতাংশ বা ১৪ হাজার ২৭২ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ৪.৯৩ শতাংশ বা ১২ হাজার ৬৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, কৃষি খাতে ১০ হাজার ৩১৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ৪ দশমিক ২১ শতাংশ, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাতে ৪ হাজার ৬৩০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বা ১.৮৯ শতাংশ, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৩ হাজার ৬৩৭ কোটি ১২ লাখ টাকা বা ১.৪৮, জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা খাত ৩ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও বিনোদন খাতে ২ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা বা ১.১৬ শতাংশ, সাধারণ সরকারি সেবা খাতে ২ হাজার ৪২৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, সামাজিক সুরক্ষায় ২ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং প্রতিরক্ষা খাতে ৯২০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে।