ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে তার বিরুদ্ধে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ৪৭টি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ৭টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় দেশ ছেড়ে পালানো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতা, সাবেক মন্ত্রী, পুলিশ কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাদের আসামি করা হয়েছে। এ সব মামলাগুলোর প্রায় সবই ভিক্টিমদের পরিবারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে।
এ দিকে আদালতে বা থানায় মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি থাকলে তাতে কোনো সমস্যা হবে না বলে মনে করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি বলেন, মামলা দায়ের করার পর তদন্ত হবে এবং চার্জশিট দাখিল হবে। সে ক্ষেত্রে ঘটনা সত্য হলে আসামিদের বিচার হবে এবং সাজা হবে। সরাসরি অপরাধীদের সাথে হুকুমের আসামিদের বিষয়ে তিনি বলেন, দণ্ডবিধির ১২০(বি) ধারা অনুযায়ী ক্রিমিনাল কনসপ্রিয়েছি বা ষড়যন্ত্র করার কারণে সরাসরি যারা অপরাধ করেছে তাদের সাথে হুকুমের আসামিরাও সমানভাবে দায়ী।
এ ছাড়া ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সেগুলোর জন্য নির্দেশদাতা হিসেবে শেখ হাসিনাসহ গণহত্যার সাথে জড়িতদের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত ১৪ আগস্ট সচিবালয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এ কথা বলেন। তবে এই আইনে শেখ হাসিনাসহ গণহত্যার সাথে জড়িতদের বিচার করতে হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে আন্তর্জাতিক মানের করতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৭টি অভিযোগ দায়ের করা হলেও ট্রাইব্যুনালে এসব অভিযোগের বিচার করতে জরুরি ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করতে হবে বলে মনে করেন ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ ও ট্রাইব্যুনালের ডিফেন্স আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের বিদ্যমান আইন আন্তর্জাতিক মানসম্মত নয়। এই জন্য এই ট্রাইব্যুনাল এবং তার আইন ও বিধি সবকিছু আন্তর্জাতিক মানের হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে সাবেক বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী বলেন, তারা যে অপরাধ করেছে তা নিঃসন্দেহে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ। এই অপরাধগুলোর বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হতে পারে। তিনি বলেন, যেহেতু এই অপরাধগুলো দেশের মাটিতে ঘটেছে তাই বাংলাদেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এ ঘটনার তদন্ত করতে পারবে। তিনি বলেন, এই আইন আন্তর্জাতিক মানের করতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে আইনটাকে সর্বোচ্চ মানের করাটা জরুরি।
এ বিষয়ে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র-জনতার যে আন্দোলন হয়েছে সেই আন্দোলন দমানোর জন্য গণহত্যা করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণহত্যা হয়েছে। আমরা সম্প্রতি জানতে পেরেছি তাদের সেই গণহত্যার বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হবে। আইনজীবী হিসেবে আমরা চাই একটা সুস্পষ্ট নীতিমালা করে অতি দ্রুত শেখ হাসিনাসহ গণহত্যায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে ট্রাইব্যুনালে দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন করার জন্য। এই বিচারটা এই কারণে করা প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে কেউ প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে আবার শেখ হাসিনা হতে না পারে। ফ্যাসিজম বাংলাদেশে যাতে সৃষ্টি না হয়। ছাত্রজনতার আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এবং আইনের শাসন কায়েমের লক্ষ্যে শেখ হাসিনাসহ সব অপরাধীদের প্রত্যেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার করার প্রত্যাশা করছি।
এ দিকে গতকাল শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শ্রমিক আশিক মিয়া (২০) নিহত হওয়ার ঘটনায় শুক্রবার তার মা কুলসুম বেগম সোনারগাঁও থানায় ওই মামলা করেছেন। ওই মামলায় ১১২ জনের নাম উল্লেখ এবং ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে নতুন ছয়টি হত্যা মামলা এবং একটি হত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দু’টি এবং মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে দু’টি হত্যা মামলা হয়। একটি মামলা হয়েছে ঢাকার মোহাম্মদপুর ও অপরটি আদাবর থানায়।
আর হত্যাচেষ্টার মামলাটি হয়েছে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে। এ নিয়ে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২২ আগস্ট বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অন্তত ৪৭টি মামলা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ মামলাগুলোর বেশির ভাগই হত্যা মামলা। আদালতে করা অভিযোগগুলোর সব ক’টি মামলার শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট থানাকে অভিযোগগুলো নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে। এ ছাড়া কোনো কোনো মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার তারিখও দেয়া হয়েছে।
মামলাগুলোর কাগজপত্রের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শেখ হাসিনা ছাড়া সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকে এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদসহ ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।
মোহাম্মদপুরে রোকন হত্যা : মোহাম্মদপুর বছিলা রোডের ময়ূর ভিলার সামনে শাহরিয়া হোসেন রোকন নামের ২৩ বছর বয়সী এক শ্রমিককে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৬৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মো: রবিউল খান হিল্লোল নামে এক ব্যক্তি। তার জবানবন্দী গ্রহণ করে মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে মোহাম্মদপুর থানাকে নির্দেশ দেন।
কলেজছাত্র জাহিদ হত্যা : রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র আব্দুল্লাহ বিন জাহিদকে হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন মোহাম্মদ জাকিউল্লাহ বাহার নামে এক ব্যক্তি। বাদির জবানবন্দী শুনে মহানগর হাকিম মো: মাইনুল ইসলাম অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে বিমানবন্দর থানাকে নির্দেশ দেন। এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ১৫০-২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে এ মামলায়।
থানায় দুই মামলা : মোহাম্মদপুর থানায় ট্রাকচালক সুজন হত্যা ও আদাবর থানার মামলায় গার্মেন্টকর্মী রুবেল হত্যায় শেখ হাসিনাকে আসামি করা হয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার ওসি মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন ও আদাবর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো: নজরুল ইসলাম নিজ নিজ থানায় মামলার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। মোহাম্মদপুর থানার মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৭৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন সুজনের ভাই রফিকুল ইসলাম।
অপর দিকে আদাবর থানায় গার্মেন্টকর্মী রুবেলকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ১৫৬ জনের বিরুদ্ধে। অজ্ঞাত আরো ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে এই মামলাটি করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম। এই মামলায় প্রথমবারের মতো আসামি করা হয়েছে ক্রিকেট অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে, যিনি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। এ ছাড়া বিসিবির সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, সাবেক দুই সংসদ সদস্য সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ও নায়ক ফেরদৌস আহমেদেরও নাম রয়েছে।
হত্যাচেষ্টা মামলা : শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা হয়েছে। ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রবিউল ইসলাম নয়নকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মহানগর হাকিম তাহমিনা হকের আদালতে মামলাটি করেন বিএনপি সমর্থক মোসা: সুমি বেগম। এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাদির জবানবন্দী গ্রহণ করে অভিযোগ তদন্ত করার জন্য রমনা মডেল থানাকে আদেশ দিয়েছেন বিচারক।
ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার আরো ৩ অভিযোগ : শেখ হাসিনাসহ ৭৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫০০ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ১৯ জুলাই মিরপুরের ১০নং গোল চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত আসিফ ইকবালের বাবা এম এ রাজ্জাকের পক্ষে বুধবার আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো: আসাদ উদ্দিন।
অপর দিকে বুধবার শেখ হাসিনাসহ ৫২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫০০ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়। গত ১৮ জুলাই মিরপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত হন এইচএসসির শিক্ষার্থী শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন। তার বাবা মো: আব্দুল মতিনের পক্ষে বুধবার আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো: আসাদ উদ্দিন।
এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৭৭ জনের বিরুদ্ধে বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনে শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্তর বাবা মো: জাকির হোসেনের পক্ষে আবেদনটি করেন আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান।
এ আবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, গত ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন স্কুল কলেজ মাদরাসা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সরকারের কতিপয় মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ও এমপি এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের নির্দেশে ও পরিকল্পনায় কতিপয় পুলিশ সদস্য, কতিপয় র্যাব সদস্য, কতিপয় অস্ত্রধারী আওয়ামী লীগ, যুবলীগের ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মী কর্তৃক আন্দোলনকারী সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্রজনতাদের নির্মূল করার উদ্দেশ্যে তাদের ওপর দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে কমপক্ষে ৮১৯ জন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণকে হত্যা করা হয়।
উক্ত ঘটনায় কমপক্ষে বিশ হাজার আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক জখম হয় এবং এক হাজার আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা গুলিবিদ্ধ হয়ে চিরতরে অন্ধ ও পঙ্গুত্ববরণ করে। কয়েক হাজার ছাত্র-জনতা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় আসামি কর্তৃক আন্দোলনরত ছাত্রজনতাসহ কমপক্ষে ৩২ জন শিশু নির্মম গণহত্যার শিকার হয়।
আশুলিয়ায় তিন হত্যা : ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন সাভার হাইওয়ের ওপরে শাইখ আসহাবুল ইয়ামিন, আলামিন ও মেহেদী হাসানকে হত্যার ঘটনায় মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হত্যা মামলা করেছেন আব্দুল জলিল নামের এক ব্যক্তি। বাদির জবানবন্দী শুনে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আরিফা চৌধুরী হিমেল অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করার জন্য আশুলিয়া থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, হাসিনার বোন শেখ রেহানাসহ ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সাভারে দুই হত্যা মামলায় হাসিনাসহ আসামি ২১১
সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাভারে মো: আব্দুল আহাদ সৈকত (১৭) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে ১২৬ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আরো ২৫০-৩০০ জনের কথা উল্লেখ করেছে নিহতের পরিবার। গতকাল শুক্রবার সাভার মডেল থানার ওসি মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নিহত সৈকতের পিতা সাভার মডেল থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। সৈকত বগুড়ার সোনাতলা থানার উত্তর দিঘলকান্দি গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। সৈকত সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগ মহল্লায় পরিবারের সাথে থাকত। সে ঢাকার কমার্স কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। এ দিকে একই দিন দ্বিতীয় হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রধান আসামি করে আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ডা: এনামুর রহমানসহ ৮৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০০-২৫০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহত শ্রাবণ গাজীর পিতা মো: মান্নান গাজী। বৃহস্পতিবার রাতে মান্নান গাজী সাভার মডেল থানায় মামলা করেন।
সোনারগাঁয়ে হাসিনাসহ ৬৯৮ জনের নামে দুই মামলা
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুরে শফিক মিয়া ও আশিক মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে নিহত শফিক মিয়ার চাচাতো ভাই আবু হানিফ ও আশিক মিয়ার মা কুলসুম বেগম বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। দুই মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, হাসান মাহমুদ, আসাদুজ্জামান খান কামাল, শামীম ওসমানসহ গত ৪ আগস্ট শফিক ও আশিক আওয়ামী দলীয় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন।
গাজীপুরে আরিফ হত্যায় মামলা
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি জানান, গাজীপুরে ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হকার আরিফ বেপারিকে (২৮) গুলি করে হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনা ওবায়দুল কাদের, আ ক ম মোজাম্মেল হকসহ ১২৫ জনের নাম উল্লেখ করে গাছা থানায় মামলা করেছেন নিহতের বাবা। মামলায় আরো অজ্ঞাতনামা ৩০০-৩৫০ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। শুক্রবার ওই থানার ওসি জিয়াউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টায় মামলাটি দায়ের হয়।





