ইস্কাটনের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভবনটি কেপিআইভুক্ত না হওয়ায় অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দিয়ে ভবনের নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, রেশন, ডে কেয়ার সুবিধাসহ নানাবিধ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হতে হচ্ছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে নির্মাণাধীন নতুন ভবনে ১৫০ জন জনবলের জন্য প্রাপতা অনুযাযী ৩০ হাজার বর্গফুট ফ্লোর স্পেস বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি (৪ সেপ্টেম্বর) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: রুহুল আমিন এমন অনুরোধ জানিয়েছেন।
ওই চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ২০০১ সালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ২০১২ সালে ইস্কাটনের প্রবাসী কল্যাণ ভবনে স্থানান্তর করা হয়। ওই ভবনের ৪টি ফ্লোরে বর্তমানে ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। এতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ছাড়াও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, বোয়েসেল ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ অন্যান্য অফিসের কার্যক্রম চলমান আছে।
চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ভাড়া করা ভবন থেকে সচিবালয়ের অভ্যন্তরে স্থানান্তরের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা কর্মচারীদের পক্ষ থেকে আবেদন দেয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে আবেদন দেয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সম্মতি জ্ঞাপন করেন।
এর আগে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: রুহুল আমিনের কাছে দেয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম চলছিল। ২০১২ সালে একটি কুচক্রী মহলের প্ররোচনায়, ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তৎকালীন মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে, জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না নিয়ে সচিবালয়ের বাইরে ইস্কাটনের প্রবাসী কল্যাণ ভবনে স্থানান্তর করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না থাকায় অদ্যাবধি এই মন্ত্রণালয়ে কোনো পুলিশি নিরাপত্তা নেই বলে চিঠিতে বলা হয়। ভাড়া করা ভবনে প্রতি মাসে ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। সেই হিসাবে বছরে ৩ কোটি ৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা সরকারকে অফিস ভাড়ার জন্য ব্যয় করতে হচ্ছে।
গতকাল প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে দেয়া চিঠিতে স্বাক্ষর করাদের মধ্য একজন কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পরও সচিবালয়ের বাইরে থাকায় এটি ‘সি’ ক্যাটাগরিতে পরিণত হচ্ছে। তা ছাড়া এটি বাইরে থাকায় এক শ্রেণীর সুবিধাভোগী মন্ত্রণালয়কেন্দ্রিক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এদের হাত থেকে রক্ষা পেতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সচিবালয়ে স্থানান্তর হওয়া জরুরি।
এ প্রসঙ্গে বায়রার সাবেক নেতা আবুল বাশারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, আমাদের কাজের প্রয়োজনে যখন যাই তখন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে দেখি অহেতুক লোকজনের ভিড় লেগে আছে। দালালদের উৎপাত। সবকিছু বিবেচনায় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সচিবালয়ে হলে ভালো হবে বলে মতপ্রকাশ করেন তিনি।





