অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ৩৫ মন্ত্রণালয়কে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়েছে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য গঠিত সমন্বয় কমিটি। দেশে অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে গঠিত ‘সমন্বয় কমিটি’র প্রথম উচ্চপর্যায়ের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় কারিগরি সহযোগিতা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডব্লিউএইচও-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা: আহমেদ জামশীদ মোহাম্মদ।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো: কামরুজ্জামান চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষরকারী ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবরা অংশ নেন। সভায় আগামী এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে একজন করে ফোকাল পয়েন্ট মনোনয়ন এবং আগামী ১৩ মাসের মধ্যে খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণকে সরকারের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে গতানুগতিক চিন্তার বাইরে গিয়ে উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ এবং সুনির্দিষ্ট ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, সুস্থ থাকার জন্য জনসাধারণকে হাঁটাচলা ও কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। কোনো কোনো দেশে জনসাধারণকে প্রতিদিন অন্তত তিন কিমি হাঁটাচলা করতে দেখেছি। এজন্য সুস্থ থাকার জন্য জনসাধারণকে নিয়মিত হাঁটাচলা ও কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। আমরা যদি মানুষকে বুঝাতে পারি, ওষুধ বা চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে জোর দেয়া দরকার, তাহলে অসংক্রামক রোগ কমে আসবে।

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ দেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশেরও বেশি ঘটনার জন্য দায়ী। এর মধ্যে প্রায় ৫১ শতাংশ মৃত্যু অকালপ্রাপ্ত, যা দেশের অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

এ প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২০ আগস্ট ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অংশগ্রহণে একটি ঐতিহাসিক যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষরিত হয়। সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সমন্বয় কমিটি গঠন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।

সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে তাদের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ এবং সুপারিশ তুলে ধরেন। ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহাম্মদ বাংলাদেশে এনসিডি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সভায় ‘সব নীতিতে স্বাস্থ্য’ ধারণাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নীতি, কর্মকৌশল ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেয়া হয়। একইসাথে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিবিষয়ক প্রকল্পগুলোতেও এ বিষয়টি সংযোজনের আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া সর্বাত্মক সরকারি ও সামাজিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিতকরণ, অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য পরিমাপযোগ্য সূচক নির্ধারণ, প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে সমাধান প্রদান এবং বার্ষিক অগ্রগতি প্রতিবেদন মূল্যায়নের বিষয়ে একমত হন অংশগ্রহণকারীরা। বাসস