আগামী ১৯ জুলাই ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এই সমাবেশকে দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উপস্থিতি ও সাড়াদানকারী সমাবেশে পরিণত করতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন জামায়াতের নেতারা।

জনগণ কাদের ওপর আস্থা রাখবে, তা ১৯ জুলাই প্রমাণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেলে রাজধানী গুলশানের একটি মিলনায়তনে গুলশান জোন জামায়াত আয়োজিত এক ইউনিট দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও গুলশান জোন পরিচালক ইয়াছিন আরাফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য হেদায়েত উল্লাহ, শূরা সদস্য মাহমুদুর রহমান আজাদ ও মিজানুর রহমান খান প্রমুখ।

সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘জনগণ চায় এমন একটি দল আগামীতে ক্ষমতায় আসুক, যারা দেশ ও জাতির মুক্তি এবং কল্যাণের জন্য কাজ করবে। জামায়াত সে প্রত্যয় নিয়ে দীর্ঘ পরিসরে ময়দানে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা বিগত ৫৪ বছর নানাবিধ জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়ে ময়দান ছাড়া হইনি। আমরা ইসলামী আদর্শ ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে মানুষের সংশোধনের জন্য নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। জাতীয় অর্থনীতিকে মজবুতভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠার জন্য ক্ষমতা বাইরে থেকেও নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও আমরা ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছি। পতিত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে সীমাহীন জুলুম-নির্যাতনেও আমরা একচুলও লক্ষ্যচুত হয়নি।’

তিনি আগামী ১৯ তারিখের জামায়াত আহুত জাতীয় সমাবেশের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘১৯ জুলাই নির্ধারিত হবে আগামীতে দেশের নেতৃত্ব কাদের হাতে থাকবে।’

তিনি জাতীয় সমাবেশ সফল করতে সকল স্তরের জনশক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘দেশপ্রেমী জনতা ঐক্যবদ্ধ ইসলামী শক্তির নেতৃত্বে এক নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়। যেখানে আইনের শাসন ও সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে। মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না।’

তিনি সে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য ময়দানে আপসহীন থাকার আহ্বান জানান।

মহানগরী উত্তর আমির বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবীরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাই তাদেরকে জাতীয় বীরের মর্যাদান দিতে। শহীদ পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা, আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন করতে হবে। জুলাই সনদকে সংবিধানে সংযোজন করতে হবে। কোনোভাবেই চাঁদাবাজ বা সন্ত্রাসীদের প্রতি দয়া দেখানো যাবে না। ড. ইউনুস সরকার যদি তাদের প্রতি দয়া দেখায় তাহলে জনগণ তাদেরকে আর কোনোভাবেই সমর্থন করবে না।’

তিনি রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রতি তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসন দিয়ে কোনোভাবেই নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। যারা প্রশাসনে বসে দলবাজি করছেন, তাদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে অবসরে পাঠাতে হবে। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সংস্কার করতে হবে। ঐক্যমত না হলে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নিতে হবে। একই সাথে হেফাজত, আল্লামা সাঈদীর রায়ের সময়, বিডিআর, ২৮ অক্টোবর ও জুলাই গণহত্যাকারীদের প্রত্যেকই বিচারের আওতায় আনতে হবে। ট্রাইব্যুনালে না হলে সাধারণ আদালতেই এদের বিচার করতে হবে। জামায়াতের সাত দফার পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে।’

তিনি দেশে আল্লাহর আইন ও সৎলোকের শাসন প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি