আজ শনিবার হেফাজতে ইসলামের বড় সমাবেশকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় ফিরে এসেছে ‘শাপলা চত্বর ট্রাজেডি’। এই প্রসঙ্গে ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার।
তিনি উল্লেখ করেন, ওই ঘটনায় কতজন নিহত হয়েছিল, তা নিয়ে যখন গোটা বিশ্ব বিভ্রান্ত, তখন তিনি এবং মার্ক ডামেট (তৎকালীন বিবিসি ঢাকা প্রতিনিধি) মিলে দুই সপ্তাহ ধরে মাঠে কাজ করেন।
তাদের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৫ ও ৬ মে’র সহিংসতায় অন্তত ৫৮ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে সাতজন ছিলেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এই সংখ্যাটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দীর্ঘ সময় ধরে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
আজাদ মজুমদার বলেন, সড়ক আর হাসপাতালের রেজিস্টার ঘেঁটে, নিহতদের পরিবারের সাথে দেখা করে, গোপনে কবরস্থানে গিয়ে প্রমাণ সংগ্রহ করতে হয়েছে। প্রতিটি মুহূর্তে ভয় ছিল, কখন যেন নিরাপত্তা বাহিনীর নজরে পড়ে যাই, আর নিখোঁজ হয়ে যাই।
নিরাপত্তার স্বার্থে দীর্ঘ সময় তিনি নিজেকে আড়ালে রেখেছিলেন এবং নিজের নামের উল্লেখ না করেই কাজ চালিয়ে গেছেন বলেও জানান উপপ্রেস সচিব। তিনি বলেন, ‘তবে যখন দেখি অন্য কোনো সাংবাদিক আমার সেই কাজকে উদ্ধৃতি হিসেবে দেন, তখন সত্যিকারের আনন্দ পাই।’
ঘটনার এক দশক পরও নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে রাষ্ট্রীয় স্তরে কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত কিংবা প্রকাশ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে যারা মাঠে থেকে অনুসন্ধান করেছেন, তাদের সাহসিকতা এবং তথ্যের নির্ভরযোগ্যতাই আজ ইতিহাস রচনার অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে।









