বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে চলছে বিশেষ কনসার্ট ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। সোমবার দুপুর দেড়টায় কনসার্ট শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই লাখো দর্শকের উপস্থিতিতে শুরু হয় সঙ্গীত পরিবেশন। লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
পুরো কনসার্ট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মানুষের স্রোত ঢুকছে কনসার্টমুখী। ফার্মগেট, খামারবাড়ি, আসাদগেট, কলেজগেট এলাকাজুড়ে মানুষের ছড়াছড়ি। শিল্পীদের গানের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে গান গাচ্ছেন দর্শকরা। কনসার্টে আসা দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে কেউ কেউ কনসার্ট দেখতে সড়কের পাশের গাছে চড়ে বসেন।
দুপুর ১২টার দিকে যাত্রাবাড়ী যুবদলের কর্মীরা বিশাল জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিল করে কনসার্টস্থলে প্রবেশ করেন। পাশাপাশি বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল, যুবদলের নেতাকর্মীরাও মিছিল নিয়ে নিয়ে কনসার্টস্থলে প্রবেশ করেন।
মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে ধরে খামারবাড়ি পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন ভ্রাম্যমাণ হকাররা।
জীবন্ত কিংবদন্তী শিল্পী খুরশীদ আলমের কণ্ঠে ‘পাখির নাম দোয়েল, ফুলের নাম শাপলা, দেশের নাম বাংলাদেশ, সুফলা সুফলা’ গান দিয়ে শুরু হয় কনসার্ট। এরপর গান করেন নাসির খান। দুপুর ২টার দিকে মঞ্চে ওঠেন প্রীতম হাসান। প্রথমে ‘খোকা’ গান পরিবেশন করেন তিনি। পরে ‘হাতে লাগে ব্যাথারে’, ‘উরাধুরা’ গানগুলো পরিবেশন করেন। এরপর গান করেন শিল্পী মৌসুমী। তার পরেই গান শোনান আলম আরা মিনু। ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে লক্ষ মুক্তি সেনা’, ‘সোনা দানা দামি গহনা’ গান গেয়ে তিনি মাইক্রোফোন তুলে দেন মনির খানে হাতে।
এ সময় ‘চিঠি’ ও ‘প্রেমের তাজমহল’ গান গেয়ে দর্শক মাতান মানির খান। এরপর ‘তোমায় দেখলে মনে হয়’ ও ‘সাগরিকা’ গান গেয়ে দর্শক মাতার কনকচাঁপা।
সংগীতশিল্পী ইথুন বাবু ও মৌসুমী বেলা আড়াইটায় মঞ্চে উঠেন। তারা গেয়েছেন ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’ গানটি।
পরে বাউল গান দিয়ে মঞ্চ মাতান ইলিজা পুতুল, গোলাপি, আলিয়া বেগম ও চিশতি বাউল। বিকেল ৫টায় পর পর গান করেন সংগীতশিল্পী ইমরান মাহমুদুল ও কনা।
কনসার্টে এককভাবে গাওয়ার কথা রয়েছে বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী, বেবী নাজনীন ও জেফারের।
এছাড়া নগরবাউল, ডিফারেন্ট টাচ, আর্ক, সোলস, শিরোনামহীন, আর্টসেল, অ্যাভয়েড রাফা ও সোনার বাংলা সার্কাসেরও পারফর্ম করার কথা রয়েছে।
মঞ্চ ভেঙ্গে আহত সাংবাদিকরা
এদিকে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে কনসার্ট চলাকালে সাংবাদিকদের জন্য বানানো একটি মঞ্চ ভেঙ্গে পড়ে। এতে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি জাহানারা পারভীন ও যমুনা টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আরেফিন শাকিলসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
জাহানারা পারভীন বিএনপির মিডিয়া সেলে জানান, আমার হাত কেটে গেছে। এছাড়া আমাদের ক্যামেরাপারসন তপন আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতাল ভর্তি আছেন।
যমুনা টেলিভিশনের আরেফিন শাকিল জানান, বিএনপির কনসার্টে মঞ্চ ভেঙ্গে পড়েছে। অনেক সাংবাদিক আহত হয়েছে, ক্যামেরা ভেঙে গেছে অনেকের। আমি কোমরে ও আমার ক্যামেরাপারসন পায়ে ব্যথা পেয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি। দোয়া করবেন।
এ ঘটনায় বিএনপির কনসার্টে নিরাপত্তা ঘাটতির কারণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক নেতা এবং দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি মঈন খান বিএনপির মিডিয়া সেলে বলেন, বিএনপির উচিত সাংবাদিকদের চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় বহন করা। উন্নত বিশ্বে অবশ্য ক্ষতিপূরণ দেয়ারও নিয়ম রয়েছে।
আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসার জন্য বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার রফিকুল ইসলাম ও ড্যাবের চিকিৎসক নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
কনসার্টের আয়োজক সংগঠন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’র আহ্বায়ক বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘গত ১৫ থেকে ১৬ বছর বাংলাদেশের মানুষ বিজয় দিবস উদযাপন করতে পারেনি। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের নানা অত্যাচার, অনাচারের মুখে পড়তে হয়েছে। তাই জাতিকে একত্রিত করার মধ্য দিয়ে এবারের বিজয় দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
বিজয় দিবসে বিএনপি নতুন প্রত্যাশা নিয়ে জনগণ ও নতুন প্রজন্মের সামনে হাজির হতে চাইছে বলে জানিয়েছেন এ্যানি।
কনসার্টটি রাত ১১টা পর্যন্ত চলবে জানিয়ে তিনি বলেন, এবারের বিজয় দিবসকে সার্বজনীনভাবে উদযাপন করার লক্ষ্যে এই কনসার্টের পরিকল্পনা।
বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ‘ধরে রাখার’ তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘দিল্লির আনুগত্য করার জন্য বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরতে চাই এই উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু করলাম।’
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নামের সংগঠনটি গত ১০ ডিসেম্বর আত্মপ্রকাশ করে। মূলত বিএনপির উদ্যোগে ও পৃষ্ঠপোষকতায় সংগঠনটি গড়ে উঠেছে।





