বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি, ঢাকা-৫ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন সম্ভব’ উল্লেখ করে বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য নভেম্বরের মধ্যে গণভোট সম্পন্ন করতে হবে। গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিয়ে জাতীয় নির্বাচন হলেই দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে ক্ষমতাবলে গণভোট দিয়েছেন সে ক্ষমতাবলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও গণভোট আয়োজন করতে পারে।’
যারা জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটকে অসাংবিধানিক ও অযোক্তিক দাবি করছেন তাদেরকে জিয়াউর রহমানের গণভোট অসাংবিধানিক কিংবা অযৌক্তিক কিনা তা জাতির সামনে স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সংবিধান জনগণের অভিপ্রায় থেকে ঊর্ধ্বে নয়। জনগণ যেভাবে চায় সংবিধান সেভাবেই রচিত হবে।’
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে জামায়াতে ইসলামী যাত্রাবাড়ী-মাতুয়াইল থানা কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কামাল হোসেন বলেন, ‘হাসিনার তৈরি সংবিধান জনগণ মানে না বলেই জুলাই বিপ্লব হয়েছে। আওয়ামী লীগ সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করে দলীয় সংবিধানে রূপ দিয়েছে। এ সংবিধান দেশ ও জাতির কল্যাণে নয়। এ সংবিধান ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর কল্যাণে রচিত হয়েছে। বেগম জিয়া বহু আগে বহুবার বলেছেন, হাসিনার তৈরি এ সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে। তিনি বলেননি সংবিধান সংশোধন করতে হবে। তিনি ছুঁড়ে ফেলে দেয়ার কথা বলে নতুন সংবিধান লেখার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। যারা হাসিনা তৈরি সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে তারা আওয়ামী লীগের মতোই ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।’
ফ্যাসিবাদের পথ চিরতরে বন্ধ করতে নভেম্বরের মধ্যে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির জন্য গণভোট সম্পন্ন করতে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জুলাই সনদের ভিত্তিতেই ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। নতুবা জনগণ মেনে নেবে না, বসে থাকবে না।’
জামায়াতে ইসলামীর যাত্রাবাড়ী-মাতুয়াইল থানা আমির এম আর মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সালাম। এছাড়াও সম্মেলনে যাত্রাবাড়ী-মাতুয়াইল থানার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।
এ দিকে ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার পল্টন, ফকিরাপুল, শাহজাহানপুর, রাজারবাগ, শান্তিনগর, কাকরাইল ও বিজয়নগরে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির, ঢাকা-৮ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে এক প্রচার মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও পল্টন থানা আমির শাহীন আহমেদ খান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও শাহজাহানপুর পূর্ব থানা আমির মাওলানা শরীফুল ইসলাম, মতিঝিল উত্তর থানা আমির মো: শামসুল বারী, মতিঝিল পূর্ব থানা আমির মো: নুরুদ্দিন, শাহজাহানপুর পশ্চিম থানা আমির মো: সরোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি সোহেল রানা মিঠু, পল্টন থানা নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মারুফুল ইসলাম, পল্টন থানা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম, শাহবাগ পূর্ব থানা সেক্রেটারি নুর নবী রায়হানসহ বিভিন্ন থানার দায়িত্বশীলরা।
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত পথসভায় ড. হেলাল উদ্দিন উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে সম্ভব নয়। একজন ভোটার গণভোটের সবগুলো প্রস্তাব পড়ে, বুঝে ভোট দেয়ার জন্য যে সময়ের প্রয়োজন একই দিনে জাতীয় নির্বাচন হলে সকল ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সময়-সুযোগ পাবে না। ফলে জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট দু’টিই প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘যারা বলে জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট একই দিনে হলে তিন হাজার কোটি টাকা বাঁচবে তাদের কাছে শহীদদের রক্তের চেয়ে টাকার মূল্য বেশি। তারা শহীদদের স্বীকার করে না, শহীদের রক্তকে সম্মান করে না। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেয়া না হলে আবারো ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটবে, শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে। জামায়াতে ইসলামী এদেশের জনগণকে সাথে নিয়ে শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেবে না।’
জুলাই সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যা যা করণীয় জনগণ তার সবটাই করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে জনগণের দাবি মেনে নিয়ে নভেম্বরের মধ্যে গণভোট এবং ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করতে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।








