জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, রাষ্ট্র ক্ষমতা নিয়ে পাগল হয়ে যাবার কোনো কারণ নেই। সত্তর বছরের ইতিহাসে পেছনের দিকে তাকিয়ে দেখুন- এটা কি চিরস্থায়ী?
আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় ড. কামাল হোসেন একথা বলেন।
‘কয়লা চুরি, ব্যাংক ডাকাতি, সর্বগ্রাসী দুর্নীতি বন্ধ করে ভোটাধিকার গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্য’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তিনি আরো বলেন, ক্ষমতা কি চিরস্থায়ী? ক্ষমতা থাকলেই কি যা ইচ্ছা তাই করবে? মুখে যা ইচ্ছে তা-ই বলা হবে। এটা হয় না।
তিনি সবাইকে সর্তক করে দিয়ে বলেন, যে যেখানে আছেন ঠান্ডা মাথায় দায়িত্ব পালন করুন।
তিনি বলেন, ‘আমি কারো বিরুদ্ধে কিছু করতে চাই না। আবেদন করবো সুস্থ হোন। দেশের সার্বিক মঙ্গলের জন্য। কারণ দেশের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। এটাকে ধ্বংস করতে দিবেন না। আমি এখন আবেদনের সুরে বলছি। কিন্তু জনগণ জেগে উঠলে তারা আবেদনের সুরে বলবে না।’
তিনি বলেন, দেশকে বাঁচাতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা চাই বৃহত্তর ঐক্য। যারা দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, ষড়যন্ত্র করেছে তাদের বাদ দিয়ে সব জনগণকে নিয়ে ঐক্য হবে। আমি জীবনের শেষ পর্যন্ত এই ঐক্য প্রক্রিয়ায় থাকব।
ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, ক্ষমতার মসনদে বসার জন্য নয়, দেশকে রক্ষার জন্য ঐক্য করবো।
তিনি বলেন, ছাত্রসমাজের ওপর লাঠি তোলা কত বড় অন্যায় তা তারা চিন্তাও করতে পারছে না। তিনি জানতে চান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রকে করা হাতুড়ী দিয়ে আহত করা হয়েছে। কিন্তু ওই ছাত্র কি অন্যায় করেছে যে তাকে হাতুড়ি দিয়ে পা ভেঙ্গে দিতে হবে? সে তো সংস্কার চেয়েছে,আর তো কিছু করেনি।
ড. কামাল ক্ষুদ্ধ কন্ঠে বলেন, কে তার পা ভাঙ্গলো, কোথায় ওই হাতুড়ি? তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ওই হাতুড়ি সিজ বা জব্দ করা হয়েছে কি-না?। তিনি বলেন, কারা এ হাতুড়ি তুলে দিয়েছে তাদের হাতে? কারা এদের মাথা খারাপ করে দিচ্ছে?
তিনি বলেন, আসুন সবাই মিলে ওদের জন্য দোয়া করি। আমি তাদের ক্ষতি হোক চাই না। আমি চাই তারা মানসিকভাবে সুস্থ হোক। তাদের লাঠি হাতে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কারা দখল করাচ্ছে? যারা করাচ্ছে তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন তেল গ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ.ব.ম মোস্তাফা আমীনসহ ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মুহাম্মদ মনসুর, গণফোরাম নেতা মোশতাক আহমেদ, সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি প্রমুখ।
আরো পড়ুন :
লোক দেখানো সংসদ নির্বাচন নয় : ড. কামাল হোসেন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৬ এপ্রিল ২০১৮
গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, শুধুমাত্র ক্ষমতায় থাকা কিংবা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য লোক দেখানো সংসদ নির্বাচন নয়, জনগণ যেনো শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে সেরকম নির্বাচন জনগণ দেখতে চায়।
বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আজ বৃহস্পতিবার গণফোরামের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন একথা বলেন।
স্থায়ী কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, শান্তিপদ ঘোষ, জগলুল হায়দার আফ্রিক, আ.ও.ম শফিকউল্লাহ, মোসতাক আহমেদ, আইয়ুব খান ফারুক, রফিকুল ইসলাম পথিক, রওশন ইয়াজদানী, নৃপেন ঘোষ, আব্দুল হাসিব চৌধুরী, খান সিদ্দিকুর রহমান, সাইদুর রহমান, বিলকিছ বানু প্রমুখ।
ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, ৫ জানুয়ারির মতো ভবিষ্যতে নির্বাচন হলে জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচনের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলবে। ৫ জানুয়ারির মতো ভবিষ্যতে নির্বাচন হলে তাতে লাভবান হবে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি।
তিনি বলেন, ঘুষ-দুর্নীতি-সন্ত্রাস, দলীয়করণ, গুম-খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা চলছে এবং তা রাষ্ট্রযন্ত্র কাঠামোর মূলে আঘাত হানছে। এই পরিস্থিতি চলতে দেয়া যায় না। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সুষ্ঠু নির্বাচনের অধিকার অর্জন করতে হবে।









