খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ডের তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ড্যাব মহাসচিব অধ্যাপক ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন। কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। কিন্তু মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের ব্যাপারে ইতোমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে।

বিএনপি বলছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়নি। আদালত এমন চিকিৎসককে দিয়ে মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন, যারা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) অথবা ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সদস্য হবেন না। কিন্তু পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ডের তিন সদস্যের ব্যাপারেই গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করে বিএনপি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ড্যাব মহাসচিব অধ্যাপক ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, ডা: সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি, অধ্যাপক ডা: নুকুল কুমার দত্ত ও সহযোগী ডা: বদরুন্নেসা আহমেদ স্বাচিপের সদস্য।

ডা: সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি সম্বন্ধে অধ্যাপক ডা: জাহিদ বলেন, এর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুরুতর অসুস্থ থাকার পরেও ডা: সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি মির্জা ফখরুলকে সুস্থ বলে সার্টিফিকেট দেন। পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জিকে বাদ দেয়ার নির্দেশ দেন।

অধ্যাপক জাহিদ ডা: সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি সম্বন্ধে বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিমে’ সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি সম্বন্ধে বিচারপতি এস কে সিনহা লিখেছেন, অধ্যাপক সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি বিচারপতি সিনহাকে অসুস্থ বলে সার্টিফিকেট দিয়েছেন। ডা: জাহিদ মন্তব্য করেন, ‘এমন একজন চিকিৎসক (অধ্যাপক সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি) বিএনপি চেয়ারপারসনকে কী চিকিৎসা দেবেন তা সহজেই অনুমেয়।’

তবে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন নিয়ে হাসপাতালের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, আদালতের সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ীই মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে আপনি কেমন দেখেছেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘অধ্যাপক আব্দুল জলিল চৌধুরী উনাকে দেখেছেন, তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। আজ রোববার বেলা ১টার পর বোর্ডের সভা হবে। তখন বিস্তারিত জানানো যাবে।

‘বেগম খালেদা জিয়াকে খুবই অসুস্থ দেখা গেছে’ এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে পরিচালক বলেন, ‘উনি কিন্তু আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, কুশল বিনিময় করেছেন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মহোদয়ও দেখা করেছেন এবং উনার সঙ্গে আমাদের বিস্তারিত কথা হয়েছে।’ বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে আসার পর অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

বেগম খালেদা জিয়াকে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আনার আগে থেকে হাসপাতালে পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। হাসপাতালে কাজ নেই এমন কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এমনকি কিছুক্ষণের জন্য রোগীর সাথে থাকা লোকদেরও প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

 

আরো পড়ুন:  খালেদার জিয়ার চিকিৎসা : নতুন মেডিকেল বোর্ডে যারা আছেন

নয়া দিগন্ত অনলাইন, ০৭ অক্টোবর ২০১৮


হাই কোর্টের নির্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন হয়েছে। নতুন করে তিনজন সদস্য এতে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন। বাদ পড়েছেন আগের বোর্ডের তিন জন। অর্থাৎ তিনজন চিকিৎসককে বাদ দিয়ে তাদের স্থানে নতুন তিনজনকে নিয়ে মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠিত হয়েছে।

বোর্ডের প্রধান হিসেবে আগের মতোই রয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক আবদুল জলিল চৌধুরী। শনিবার দুপুরে খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তির পর হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠনের কথা সাংবাদিকদের জানান।

পুনর্গঠিত মেডিকেল বোর্ডে সদস্য রয়েছেন রিউমেটোলজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আতিকুল হক, কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী, অর্থোপেডিক বিভাগের অধ্যাপক নকুল কুমার দত্ত ও ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবলিটেশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বদরুন্নেসা আহমেদ।

পূর্বের মেডিকেল বোর্ড থেকে বাদ পড়েছেন কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক হারিসুল হক, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক আবু জাফর চৌধুরী ও চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তারেক রেজা আলী।

আট মাস ধরে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়ার দাবি বিএনপি জানিয়ে এলেও বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের রায়ের পর বিএসএমএমইউতে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয় তারা।

হাই কোর্টের আদেশে খালেদা জিয়াকে দ্রুত বিএসএমএমইউতে ভর্তি এবং তার চিকিৎসায় গঠিত পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। শনিবারই তাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে, একই দিন পুনর্গঠন করা হয় মেডিকেল বোর্ড।

 

আরো পড়ুন: খালেদা জিয়ার পছন্দের চিকিৎসককে কেবিন প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ০৭ অক্টোবর ২০১৮


বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) আনা হলেও সেখানে তার পছন্দের কোনো চিকিৎসককেই তাৎক্ষণিকভাবে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। শনিবার বিকেলে তাকে পুরান ঢাকার কারাগার থেকে বিএসএমএমইউয়ে আনা হয়।
তিনি হাসপাতালে আসার পরপরই তার পছন্দের চিকিৎসকেরা হাসপাতালে তার কেবিনে যেতে চান। কিন্তু পুলিশ তাদেরকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। কেন তাদেরকে বাধা দেয়া হয়, সে ব্যাপারে পুলিশ কোনো মন্তব্য করেনি।

সন্ধ্যা ৬টায় তার পছন্দের চিকিৎসক দলের একজন কার্ডিওলজিস্ট ডা. মামুনকে দেখা করার অনুমতি দেয়া হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএসএমএমইউয়ের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টায় ডা. মামুনকে হাসপাতালের কেবিনে খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাত করার অনুমতি দেয়া হয়।


বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নেয়া হলো খালেদা জিয়াকে

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে(সাবেক পিজি হাসপাতাল) স্থানান্তর করা হয়েছে। শনিবার দুপুরের পর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পুরান ঢাকার কারাগার থেকে শাহবাগের হাসপাতালটিতে নেয়া হয় বেগম জিয়াকে।

এদিন দুপুর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে বহনকারী গাড়ি প্রবেশ করে হাসপাতালে। পুলিশের ডিএমপি-৭১৬০ নম্বরের একটি মিতসুবিসি গাড়িতে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। এর আগে শনিবার সকাল থেকেই বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের কেবিন ব্লকের দুটি ভিআইপি কেবিন প্রস্তুত করা হয় বেগম জিয়ার জন্য। বিকালে খালেদাকে আনার আগে দুপুরে তার ব্যবহার্য জিনিসপত্র হাসপাতালে আনা হয়।

প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেই খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়ি প্রবেশ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। এসময় হাসপাতালের গেটে অপেক্ষমান ছিলেন বিএনপিপন্থী চিকিৎসক ও দলটির অনেক নেতাকর্মী। তবে তাদের কাউকেই হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ।

বেগম জিয়াকে হাসপাতালের কেবিন ব্লকের ৬১১ নম্বর কেবিনে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কেবিনে নেয়ার পরপরই বেগম জিয়াকে দেখেছে তার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড। রোববার দুপুর দুইটার তার চিকিৎসা বিষয়ক পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য বৈঠকে বসবেন বোর্ডের সদস্যরা।

নিজের অসুস্থতা নিয়ে যা বলেছিলেন খালেদা জিয়া

চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে(সাবেক পিজি হাসপাতাল) স্থানান্তর করা হয়েছে বেগম খালেদা জিয়াকে। শনিবার দুপুরের পর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পুরান ঢাকার কারাগার থেকে শাহবাগের হাসপাতালটিতে নেয়া হয় তাকে। এর আগেই তিনি নিজেই আদালতকে জানিয়েছিলেন তার অসুস্থতার কথা।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আদালতকে তার শারীরিক দুরবস্থার কথা জানিয়েছিলেন। সেই সাথে শুনানিতে বার বার উপস্থিত হওয়া তার পক্ষে সম্ভব না বলেও জানান তিনি। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানির সময় গত মাসের শুরুর দিকে পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বসা ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো: আখতারুজ্জামানের আদালতকে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। আমার বাম হাত প্যারালাইজড, ডান পায়ে প্রচণ্ড ব্যাথা, হাঁটতে পারি না। তাই এখানে বার বার আসতে পারব না। আপনারা যত দিন ইচ্ছা সাজা দিতে পারেন।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘এখানে ন্যায়বিচার হয়নি, সরকারের ইচ্ছায় বিচার হচ্ছে। আমি এখানে ন্যায়বিচার পাবো না। গত রাতে এ আদালতের গ্যাজেট হয়েছে। আমার আইনজীবীরা আসতে পারেনি।’

এদিন খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে করে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। তখন তার পরনে ছিল একটি বেগুনি রঙের শাড়ি। আর তার হাত-পা একটি সাদা কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। শুনানি শেষে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ার সময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তখনো তিনি তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ বলে জানান। এ সময় তার শরীর কাঁপছিল। আদালতে উপস্থিতকালীন সময়ও তার শরীর কাঁপতে দেখা যায়।