চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের সাথে বৈঠক করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী।

বৃহস্পতিবার ৮টায় ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও তাদের দেয়া সাত দফা দাবিতে সমর্থন জানিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেনের সাথে একসাথে চলতে চাই।

এ সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়া-না দেয়া নিয়ে কোনো কথা হয়নি বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে কাদের সিদ্দিকীর সাথে ছিলেন তার দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বীর প্রতীক ও সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম দেলোয়ার।

অন্য দিকে, ড. কামালের সাথে বৈঠকে অংশ নেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক শফিক উল্লাহ।

বৈঠকের আগে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বীর প্রতীক বলেন, ড. কামাল হোসেনের আমন্ত্রণে দলের সভাপতিসহ আমরা তার বাসায় এসেছি।

 

আরো দেখুন : মইনুলের গ্রেফতার নিয়ে জবাবদিহি করতে হবে : ড. কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৫ অক্টোবর ২০১৮, ২২:২৬


জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করা অবাক কাণ্ড। এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। মনে হচ্ছে তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে বলছি, কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী বলতে পারেন না, সবাই মামলা করো। আইনমন্ত্রী, তুমি যার চাকরি করছো, তাকে বোঝাও, এভাবে কথা বলা যায় না। তাকে বোঝানোর মতা না থাকলে আমরা সাহায্য করব। বই খুলে চোখে আঙুল দিয়ে তোমাকে দেখাব।’


তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৭ বছরে এসে এসব দেখতে হচ্ছে। আমি মনে করি, এটা আমার জন্য বড় শাস্তি। এটা আমাকে দেখতে হচ্ছে, শুনতে হচ্ছে। একজন সিনিয়র আইনজীবী বন্ধু আমাকে বলেছেন, আওয়ামী লীগের নামে যা হচ্ছে, তাতে কি বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে?’

ড. কামাল বলেন, ‘ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে যেভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাতে আমি নিন্দা জানাই। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি এখান (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নিয়ে গেছেন। আমি অবাক হয়েছি, তাকে সন্ধ্যায় নেয়া (গ্রেফতার) হয়েছে, পরে তাকে অন্তরীণ করা হয়েছে। ঢাকায় এসে দেখি, তার এখনো মুক্তি হয়নি। এটা কী শুরু করেছে? একটা সভ্য দেশকে সুন্দরবন বানাতে চাচ্ছে নাকি? না, সুন্দরবনকেও অপমান করা হয়। এটা জঙ্গল বানানো হচ্ছে। সরকার যা করছে, তা তো জানোয়াররাও করে না। বিনা কারণে কেন সরকার এসব করছে? মাথা খারাপ হয়ে গেছে তাদের।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। সংবিধানের আছে, দেশ শাসন করার সময় যাদের মাথা খারাপ হয়ে যায়, তাদের দ্রুত পরীা করাতে হয়। আমি বলি বোর্ড গঠন করে সাইকিয়াট্রিক দিয়ে এদের পরীা করা হোক।’

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে রাতে গ্রেফতারের কঠোর সমালোচনা করে ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, ‘মানহানির মামলায় রাতে গ্রেফতার করতে হবে, এমন কোন নিয়ম আছে? জামিনযোগ্য মামলা। আইনমন্ত্রী অন্য কিছু না জানলেও তুমি তোমার বাবার সাথে ক্রিমিনাল প্র্যাকটিস তো করেছো? জামিনযোগ্য অপরাধ কী, তা তুমি জানো। তুমি যার চাকরি করো, তাকে বোঝাও যে, জামিনযোগ্য অপরাধ এটা। আইনমন্ত্রী চোখ খোলো। দেশের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করো। অন্ধকারে থাকা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘কী আশ্চর্য! মইনুল হোসেন আইনজীবী। এই সরকার খুব ভালোভাবে তাকে চেনে। গত রাতে সিলেটে শুনে আমি অবাক। তাকে জেলে নেয়া হয়েছে। এখানে এসে দেখি, তিনি এখনো জেলে। তিনি কেন জেলে? কেন, কেন, কেন? এর উত্তর চাই।’

গণফোরাম সভাপতি বলেন, ‘এ সরকারের নাকি তথাকথিত একজন আইনমন্ত্রী আছেন। তোমার কাছে আমি উত্তর চাই। তুমি আমাদের একজন জুনিয়র লইয়ার। তোমার বাবা আমার সহকর্মী ছিলেন, সিরাজুল হক বাচ্চু ভাই, তিনি আইনজীবী ছিলেন। তুমি কী হয়ে গেছো? তুমি আইন সব ভুলে গেছো? আসো, তোমার সাথে আমরা আইনের বই দেখব। কোন গ্রাউন্ডে মইনুল হোসেনকে কারাগারে নেয়া হয়েছে? কৈফিয়ত চাই। গণতন্ত্র যখন দাবি করো, তখন জনগণের কাছে কৈফিয়ত দিতে হবে। দায়িত্ব আছে তোমার। বলতে হবে তোমাকে।’ 

তিনি বলেন, ‘মইনুলকে গ্রেফতারের ঘটনায় চরম স্বৈরতন্ত্রের পরিচয় দিয়েছে সরকার। এটা গণতন্ত্র নয়। তুমি বোঝাও, গণতন্ত্র মানে যা ইচ্ছা, তা নয়। সংবিধানের এমন মতা কাউকে দেয়া হয়নি। যে যা ইচ্ছা তা করতে পারবে। মইনুলকে অপমান করে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে? কী অপরাধ করেছেন তিনি? এটা মানহানির মামলা। মানহানির মামলায় তো তিনি জামিন নিয়েছেন। আর কত মামলা করবে? এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক।’

আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, ‘তুমি মনে হয়, সব ভুলে বসেছো। তুমি সংবিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালনার শপথ নিয়েছো। তুমি যার চাকরি করছো, তিনিও শপথ নিয়েছেন। তোমাদের শপথের প্রত্যেকটা শব্দের ব্যাখ্যা আমাকে বোঝাও। আইনমন্ত্রী আমাকে তুমি বোঝাও। আমি তোমার কাছে সময় চাই। আমাকে বোঝাও, দেশে হচ্ছেটা কী? পার্লামেন্ট নাকি আছে। তথাকথিত একটা পার্লামেন্ট নাকি আছে। আরো দুই দিন পার্লামেন্ট আছে। সেখানে দাঁড়িয়ে তোমরা কৈফিয়ত দাও। পার্লামেন্টের কিছু দায়িত্ব কর্তব্য আছে। সেখানে বলো, যেন মানুষ জানতে পারে।’ 
তিনি বলেন, ‘যেসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে তা সংবিধানের কোথায় আছে? আমি সিলেটে যা দেখেছি, অবাক কাণ্ড। আমাদের হোটেলের সামনে থেকে আটটা-দশটা করে ছেলে ধরে নিয়ে গেছে। কেন নিয়ে গেছে? কী শুরু হয়েছে, এটা বাংলাদেশ?’

জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সুব্রত চৌধুরী, নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, এস এম কামালউদ্দিন, শাহ আহমেদ বাদল, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গোলাম মোস্তাফা খান প্রমুখ।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক খান, মহসিন মিয়া, ইকবাল হোসেন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, গোলাম রহমান ভুইয়া, গোলাম মোস্তাফা, গাজী কামরুল ইসলাম, সাখাওয়াত হোসেন, ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান, কাজী জয়নাল, মির্জা আল মাহমুদ, গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল, সগীর হোসেন লিয়ন, শরীফ ইউ আহমেদ, শেখ তাহসীন আলী, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।