৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যা প্রতিরোধ যুদ্ধের জাতীয় মুক্তি বাহিনীর যোদ্ধাদের স্বীকৃতি দাবি করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, তা না হলে আর সহ্য করা হবে না।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে ‘৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের’ এক মিলনমেলায় তিনি একথা বলেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের জাতীয় স্বীকৃতি দিতে হবে। তা না দেয়া হলে আর সহ্য করা হবে না। আর মুখ বুজেও থাকব না।’
তিনি বলেন, ‘হয় এসব যোদ্ধাদের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় ভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে, না হলে বলতে হবে এসব যোদ্ধারা ভুল করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে এবং তাদের জেলেও ঢোকাতে হবে। তখন আমরা বলতে পারব, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করে জেলে গেলাম- শাস্তি পেয়েছি।’
এ মিলনমেলায় উপস্থিত ছিলেন কাদের সিদ্দিকীর বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী ও ছোট ভাই বাবুল সিদ্দিকী।
আরো পড়ুন :
সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আ’লীগ ১০টির বেশি আসন পাবে না : কাদের সিদ্দিকী
নাটোর ও বড়াইগ্রাম সংবাদদাতা, ২১ অক্টোবর ২০১৮
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ১০টির বেশি আসন পাবে না। যে ব্যাক্তি বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজানোর ঘোষণা দেয়, এই আওয়ামী লীগ তাকেই মন্ত্রী পরিষদ সদস্য করেছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর না, এ নৌকা বঙ্গবন্ধুর না। এ নৌকা মতিয়ার, এ নৌকা মুক্তিযোদ্ধাদের খুনি ইনুর। দেশে নির্বাচন হবে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ আছে। বর্তমানে আমার ভোট আমি দেবো, তোমার ভোটও আমি দেবো- এই নীতি চলছে। মানুষ নিজের ইচ্ছামত সিল মারতে পারছে না। জনগণের ভোট নিয়ে আওয়ামী লীগ এক হাজার বছর ক্ষমতায় থাকুক, কিন্তু ভোট ছাড়া এক দিনও ক্ষমতায় থাকতে দেয়া হবে না।
তিনি রোববার বিকালে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া বাইপাস মোড়ে কালিকাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন।
উপজেলা সভাপতি লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন নাটোর জেলা সভাপতি শহীদুল ইসলাম মুন্সী। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান বীরপ্রতীক, সাংগঠণিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, টাঙ্গাইল জেলা সভাপতি এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, যুব আন্দোলনের সভাপতি হাবিবুন নবী সোহেল, ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক কাওছার জামান খান, মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের ও গুরুদাসপুর উপজেলা সভাপতি সোহরাব হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কাদের সিদ্দিকী বলেন, নির্বাচনে কোনো জোটে যাবার চিন্তা আমার নাই। আমার জীবনে কোনো প্রেম ছিল না। বঙ্গবন্ধুই আমার প্রেম, দেশই আমার প্রেম। বর্তমানে দেশের সবাই আওয়ামীলীগ। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমি ছাড়া কোনো আওয়ামী লীগ তার পাশে ছিল না।
ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট বিষয়ে তিনি বলেন, ১০ বছর ধরে আমি দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেছি। বর্তমানে একটি ঐক্যের প্লাটফর্ম তৈরী হলেও নিজেদের মধ্যেই কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ থাক, না তা থাকবে না। তাই বাপ-বেটা-শ্বশুরকে বের করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, দেশ এখন দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। চার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হওয়ার পর অর্থমন্ত্রী বলেন এ টাকা এমন কিছুই না। অথচ মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য খেটে খাওয়া মানুষের কোমড়ে দড়ি বেঁধে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়।
ড. কামাল-কাদের সিদ্দিকী বৈঠক
নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৬ অক্টোবর ২০১৮
চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের সাথে বৈঠক করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী।
গতরাত ৮টায় ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও তাদের দেয়া সাত দফা দাবিতে সমর্থন জানিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেনের সাথে একসাথে চলতে চাই।
এ সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়া-না দেয়া নিয়ে কোনো কথা হয়নি বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে কাদের সিদ্দিকীর সাথে ছিলেন তার দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বীর প্রতীক ও সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম দেলোয়ার।
অন্য দিকে, ড. কামালের সাথে বৈঠকে অংশ নেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক শফিক উল্লাহ।
বৈঠকের আগে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বীর প্রতীক বলেন, ড. কামাল হোসেনের আমন্ত্রণে দলের সভাপতিসহ আমরা তার বাসায় এসেছি।









