বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভাল। সোমবার দুপুরের দিকে তার বাম হিপ জয়েন্টে সিটিস্ক্যান ও মেরুদন্ডে এক্স-রে করা হয়েছে। সিটিস্ক্যান ও এক্সরে শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
আব্দুল্লাহ আল হারুন জানান, বেগম খালেদা জিয়া আগের চেয়ে একটু ভাল আছেন। তার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তাদের সুপারিশেই আজ তিনি আদালতে যাননি। আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, মেডিক্যাল বোর্ড আমাকে জানিয়েছেন বেগম জিয়া আদালতের যাওয়ার মতো ফিট হননি। মেডিক্যাল বোর্ডের সে সিদ্ধান্ত আমি আদালতে জানিয়ে দিয়েছি। উল্লেখ্য বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে বিএসএমএমইউ’র ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. আব্দুল জলিল চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বেগম খালেদা জিয়া টেলিভিশন দেখা অথবা সংবাদপত্র পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, জেলকোড অনুযায়ী যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা তিনি সেসব সুবিধা পাচ্ছেন।
ব্রিফিংয়ের আগে দুপুরে বেগম খালেদা জিয়াকে কেবিন ব্লক থেকে সিটিস্ক্যান রুমে নিয়ে তার বাম হিপ জয়েন্টের সিটিস্ক্যান করা হয়। এরপর মেরুদেন্ড এক্স-রে করা হয়। এরপর তাকে কেবিন ব্লকের ৬১২ নাম্বার রুমে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সব মিলিয়ে তিনি ১৫ মিনিট রুমের বাইরে ছিলেন এবং সামান্য সময় মুক্ত আকাশ দেখতে পারেন।
এর আগে ২৪ অক্টোবর তার ফুসফুসের অবস্থা দেখার জন্য আরেকটি সিটিস্ক্যান করা হয়েছিল।
গত ৬ অক্টোবর নাজিম উদ্দিন রোডের জেল থেকে তাকে বিএসএমএমইউ-এ ভর্তি করা হয় চিকিৎসার জন্য।
আরো দেখুন: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার ৭ বছরের কারাদণ্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক; ২৯ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:২০
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় তাকে ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়। অনাদায়ে ভোগে করতে হবে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড। এছাড়া এ মামলায় অপর তিন আসামি হারিছ চৌধুরী, জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খানকেও একই দণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
একই সাথে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে রাজধানীর কাকরাইলে সুরাইয়া বেগমের কাছ থেকে কেনা ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান আজ সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজলসহ আরো কয়েকজন প্রসিকিউটর।
আজ বেলা সাড়ে এগারটায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। রায় ঘোষণা শেষ হয় দুপুর সোয়া ১২টায়।
আদালত বলেন, এ ঘটনার সময় খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ছিলেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এ পদে আসীন থেকে তিনি জনগণের অর্থের অপব্যবহার করেছেন। তাই তার সর্বোচ্চ সাজা হওয়া প্রয়োজন। আর এ জন্য তাকে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সর্বোচ্চ সাজা সাত বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো যেন এটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।
গত ১৬ অক্টোবর কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণার তারিখ ২৯ অক্টোবর ধার্য করা হয়। রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডে সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় করাগারে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো: আখতারুজ্জামান মামলার বিচার কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করে রায় প্রদানের তারিখ ধার্য করেন।
সেই আদেশের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেছিলেন, আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ছাড়া রায় ঘোষণার তারিখ ঠিক করার আদেশ বেআইনি। অন্যায়ভাবে আদেশ দিয়ে এই আদালত নজির সৃষ্টি করছেন। এ মামলায় যুক্তিতর্ক আর তিনি শুনবেন না। এটা তিনি বেআইনি আদেশ দিয়েছেন। আমাদের বিচারব্যবস্থায় এমন কোনো নজির নেই।
গত ২০ সেপ্টেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত আদালতে না আসায় তার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে বলে আদেশ দেন আদালত।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারের জন্য আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পরিত্যক্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি কক্ষকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করে। গত ৫ সেপ্টেম্বর সেখানে আদালত বসে। সেদিন বেগম খালেদা জিয়া তার গুরুতর অসুস্থতার কথা তুলে ধরে আদালতে বলেছিলেন, আমার শারীরিক অবস্থা ভালো না। আমার হাত-পা প্যারালাইজড হয়ে যাচ্ছে। আপনাদের যা মনে চায় যত দিন ইচ্ছা সাজা দিতে পারেন, আমি অসুস্থ, এ অবস্থায় বারবার আসতে পারব না। ন্যায়বিচার এখানে হবে না। এখানে আমি ন্যায় বিচার পাবো না। এরপর হাইকোর্টের আদেশে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয় এবং তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্বেবিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
১১ মামলার শুনানি ২৫ নভেম্বর :
বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহসহ ১১ মামলার শুনানির তারিখ পিছিয়েছে। আগামী ২৫ নভেম্বর এসব মামলায় শুনানির পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল মামলাগুলো শুনানির জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু সবগুলো মামলার কার্যক্রম খালেদা জিয়ার পক্ষে হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন জানিয়ে শুনানি পেছানোর আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। পুরান ঢাকার বকশিবাজারে অস্থায়ী ঢাকা মহানগর দায়রা আদালত আসামিপক্ষের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে এ দিন ঠিক করেন।
মামলাগুলো হচ্ছে- রাজধানীর দারুস সালাম থানার নাশকতার ৮টি, যাত্রাবাড়ী থানার দু’টি ও রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা। ১১ মামলার মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। অপর ১০ মামলা ছিল অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য।





