সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন, গণতন্ত্র ও মুক্ত গণমাধ্যমের পক্ষে আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে একের পর এক সাজার রায়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) নেতৃবৃন্দ।
আজ মঙ্গলবার এক যুক্ত বিবৃতিতে বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও মহাসচিব এম আবদুল্লাহ এবং ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পদাক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও গণমাধ্যমের বিকাশে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে নেতৃত্বদানকারী সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের সহধর্মিনী।
এমন একজন বয়োজ্যেষ্ঠ সম্মানিত অসুস্থ নারীকে আইন-কানুন, বিধি-বিধানের তোয়াক্কা না করে প্রয়োজনীয় শুনানী ও স্বাক্ষী-সাবুদ ছাড়াই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ৭ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে। আবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা কমানোর জন্য করা আপীলের রায়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ সাজা দ্বিগুন করেছে।
তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন সরকারের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এসব ফরমায়েশী রায় দেয়া হয়েছে। নজীরবিহীনভাবে একদিকে কারাগারে আদালত বসিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে সর্বোচ্চ সাজা প্রদান, অন্যদিকে উচ্চ আদালতেও তাড়াহুড়ো করে আপীল নিষ্পত্তির নামে সাজা বৃদ্ধি জনমনে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
এর মাধ্যমে দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থায় আরেকদফা চিড় ধরানো হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে এবং জননন্দিত নেত্রীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে এই রায় দেয়া হয়েছে বলে দেশের সচেতন জনসাধারণ মনে করে। দেশে ৩৫ লাখ মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকলেও খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ জিয়া পরিবারের মামলাগুলোতে অবিশ্বাস্য দ্রুততায় রায় দেয়া হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, গণমাধ্যমে মামলার যে বিবরণ জানা গেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিট্যাবেল ট্রাস্ট্রের সাথে সরকার বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও অর্থের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। দুটিই বেসরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। কোন ধরনের লেনদেনের সাথেই বেগম খালেদা জিয়ার সংশ্লিষ্টতা প্রমানিত হয়নি।
তবুও উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুর্নীতির অভিযোগ এনে সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া ছাড়াই সরকারের নীল নকশা বাস্তবায়নে এই ধরণের রায় দেয়া হয়েছে বলে বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান সরকার দেশের আইন-আদালত ও বিচার ব্যবস্থাকে নিজেদের স্বার্থে কিভাবে যথেচ্ছা ব্যবহার করছে তা এর আগে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ও বিচারক মোতাহার হোসেনের বক্তব্যে প্রমানিত হয়েছে।
বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।








