প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলবো, আপনার যে পোষা প্রাণীগুলো আছে তাদের থেকে সাবধান থাকেন। তা না হলে এটা দেশের বিপদ, সবার জন্য মঙ্গলজনক হবে না
শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এই কথা বলেন।
ডা. জাফরুল্লাহ আরো বলেন, ‘সরকারের অনেক বাবুরা আছেন যারা চাইবে খালেদা জিয়ার নামে অকারণে মামলা দিয়ে হাসিনাকেই জনসম্মুখে হেয় করতে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলবো, আপনার যে পোষা প্রাণীগুলো আছে তাদের থেকে সাবধান থাকেন। তা না হলে এটা দেশের বিপদ।’
তিনি আরো বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা প্রধানমন্ত্রী কয়েকবার বলেছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন করা সহজ, কারণ আমি বলেছি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যেসব মামলা আছে তা ফৌজদারি মামলা। বিষয়টা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাজনীতির কারণে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করাই উদ্দেশ্য।’
খালেদা জিয়ার সুবিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় বলেছি, আমি মামলা প্রত্যাহার চাই না। তার প্রতি সুবিচার করা হোক। সুবিচার করতে হলে তার প্রথম শর্ত হচ্ছে তাকে জামিনে মুক্তি দিতে হবে। তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া সুষ্ঠু নির্বাচন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রথম কদম। আমি সংলাপেও বলেছি, তাকে জামিনে মুক্তি দেন। জামিন দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে, থাকুক।’
তিনি বলেন, ‘যেই দুটো সাংবিধানিক সমস্যার কথা বলা হচ্ছে - আমি বলেছি এটার জন্য হয়তো একটা মিটিংয়ে হবে না। শাহদীন মালিক, আসিফ নজরুলের মতো যারা আইনজ্ঞ, তাদেরসহ সরকার থেকে দুইজন আইনজ্ঞকে নিয়ে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিলে এসবের সুরাহা হতে পারে। দেখতে হবে আটকানোর উদ্দেশ্য কী? আমি কি ইঁদুর বিড়ালের খেলা খেলবো নাকি জাতির মঙ্গলের কথা ভাববো।’
জাফরুল্লাহ বলেন, ‘পত্র-পত্রিকায় দেখেছি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সামরিক বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিলে ১/১১ এর পুনাবৃত্তি হবে। আমি প্রশ্ন করি, র্যাবকে ম্যাজিট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া আছে, তারা কি দেশ দখল করে বসে আছে? আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন অভিযানে যায় তখন ম্যাজিস্ট্রেট থাকে সঙ্গে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিলে জনগণের মধ্যে বিশ্বাস জন্মাবে।’
আরো পড়ুন : সবার সাথে সংলাপে বসার কারণ বললেন প্রধানমন্ত্রী
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ০২ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৫৪
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চাই, যাতে জনগণ তাদের নেতৃত্ব খুঁজে নিতে পারে। কীভাবে সেই নেতৃত্ব খুঁজে নিতে পারে সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
আজ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আগামী নির্বাচন নিয়ে ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ তথ্য জানায়।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব না। এ ধারা অব্যাহত থাকুক এবং উন্নয়নের গতি সচল থাকুক।’
সবাইকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবার সাথে সংলাপ করছে আওয়ামী লীগ। অনেক ঘাত প্রতিঘাত ও বাধা অতিক্রম করে আমরা গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখছি। জনগণের কল্যাণে কাজ করছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকুক, এটাই আমরা চাই। গণতান্ত্রিক ধারা বজায় থাকলে দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে, আমরা সেই সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই।’
গণভবনে যাওয়ায় যুক্তফ্রন্ট নেতাদের স্বাগত ও ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণভবন জনগণের ভবন। আপনারা এখানে এসেছেন এ জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
রাত পৌনে ৮টা থেকে সংলাপ শুরু হয়।
সংলাপে ১৪ দলীয় জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে ২১ সদস্য বিশিষ্ট যুক্তফ্রন্ট প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ও যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।
যুক্তফ্রন্ট প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন- বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী, গোলাম সারোয়ার মিলন, আবদুর রউফ মান্নান, মোহাম্মদ ইউসুফ, সহ সভাপতি মাহমুদা চৌধুরী, সাবেক এমপি এইচএম গোলাম রেজা, বিএলডিপি সভাপতি নাজি মউদ্দীন আল আজাদ, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গণি, মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (এনডিপি) চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মর্তুজা এবং জাতীয় জনতা পার্টির সভাপতি শেখ আসাদুজ্জামান।
বিকল্পধারার সভাপতির প্রেসসচিব জাহাঙ্গীর আলম ইউএনবিকে বলেন, ‘সংলাপের পর যুক্তফ্রন্টের নেতারা রাত ১১টার দিকে বারিধারায় বি. চৌধুরীর বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করবেন।’
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার আগামী নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ সংলাপে অংশ নেন ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
গত মঙ্গলবার বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী তাঁর দলের সঙ্গে সংলাপে বসতে শেখ হাসিনাকে চিঠি পাঠান। পরে প্রধানমন্ত্রী গণভবনে সংলাপের জন্য বি. চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানান।









